পটুয়াখালী
এনায়েতুর রহমান, পটুয়াখালী
প্রকাশ : ২৬ জুলাই ২০২৫ ২০:৫৬ পিএম
আপডেট : ২৬ জুলাই ২০২৫ ২১:৪০ পিএম
পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার বেতাগী সানকিপুর ইউনিয়নের ৫৫নং দশমিনা খারিজা বেতাগী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে বেড়া দিয়ে ধানের বীজতলা তৈরির অভিযোগ উঠেছে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ও তার ভাতিজার বিরুদ্ধে। এতে বন্ধ হয়ে পড়েছে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা, ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
গত বুধবার সরেজমিন দেখা গেছে, বিদ্যালয়ের মাঠজুড়ে আমন ধানের বীজতলা তৈরি করেছেন ওই বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. নূর হোসেন মৃধার ভাতিজা মো. ফিরোজ মৃধা। তিনি বিদ্যালয়ের মাঠজুড়ে বেড়া দিয়ে আমন ধানের বীজতলা তৈরি করছেন। ফলে শিক্ষার্থী এবং এলাকার কিশোর-যুবকদের একমাত্র খেলার জায়গাটিও ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। খেলাধুলা বন্ধে শিশু শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছেন স্থানীয় ছাত্র-যুবক, অভিভাবকরা। এক ছাত্র জানায়, আমাদের বিদ্যালয়ের খেলার মাঠ একটি। এই মাঠে ধানের চারা লাগানোর কারণে আমরা স্কুলের টিফিন টাইমের সময় খেলতে পারি না। আমরা মাঠটি আগের মতো ফিরে পেতে চাই।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিদ্যালয়ের বিষয়ে কেউ কিছু বলতে সাহস পায় না। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. নূর হোসেন মৃধার প্রভাবে তার আপন ভাতিজা ফিরোজ মৃধা বিদ্যালয়ের খেলার মাঠ নষ্ট করে আমন ধানের বীজ রোপণ করেছেন। তারা আরও জানান, মাঠটি বর্তমানে ব্যক্তিগত সম্পত্তির মতো ব্যবহার করা হচ্ছে। এ ধরনের ঘটনা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর পরিবেশ ও শিশুদের স্বাভাবিক বিকাশে বাধা সৃষ্টি করছে বলে মনে করছেন সচেতন অভিভাবকরা। তারা দ্রুত বিদ্যালয়ের মাঠ দখলমুক্ত করে শিক্ষার্থীদের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন প্রশাসনের কাছে।
এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষকের ভাতিজা ফিরোজ মৃধা বলেন, ‘বিদ্যালয়ের খেলার মাঠ নষ্ট করে আমার ধানের বীজতলা তৈরি করা মোটেও ঠিক হয়নি, এজন্য আমি ক্ষমাপ্রার্থী। আসলে আমি বুঝতে পারিনি।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সহকারী শিক্ষক বলেন, ‘বৃষ্টির কারণে এলাকার বিলের জমিগুলোতে পানি জমে যাওয়ায় ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের ভাতিজা ফিরোজ মৃধা বিদ্যালয়ের মাঠে বীজতলা তৈরি করেছেন। এ বিষয়ে আমরা কিছুই জানি না। কিন্তু বিদ্যালয়ের মাঠ নষ্ট করে ধানের বীজ রোপণ করা আসলেই অন্যায়।’
অভিযোগ অস্বীকার করে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. নূর হোসেন মৃধা বলেন, ‘শ্রাবণ মাসের ২ তারিখ আমি দশমিনায় ছিলাম। জুমার নামাজ পড়ে এসে দেখি আমার ভাতিজা মাঠে বীজতলা তৈরি করে ফেলেছে। আমি তাকে বলেছি যেন এটি তুলে নিয়ে মাঠ ঠিক করে দেয়। সে স্কুলের জমিদাতাও বটে।’
উপজেলা প্রাথমিক সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা (এটিও) মোসা. মরিয়ম বলেন, ঘটনার কথা শুনে আমি প্রধান শিক্ষককে অবহিত করেছি। তিনি বিষয়টি স্বীকার করেছেন এবং দ্রুত মাঠ খেলার উপযোগী করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।
এদিকে সদর উপজেলার শারিকখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও পশ্চিম শারিকখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠেও প্রায় ২ একর জমিতে ধানের বীজতলা তৈরি করেছেন স্থানীয় কৃষক আবুল হোসেন ফকির। তিনি বলেন, নিজের জমি পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় আমরা বাধ্য হয়ে বিদ্যালয়ের মাঠে চারা তৈরি করছি। অনেকেই এমনটি করেছেন।