বাউফল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
বাউফল (পটুয়াখালী) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৬ জুলাই ২০২৫ ২০:৫০ পিএম
আপডেট : ২৬ জুলাই ২০২৫ ২১:০৩ পিএম
পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভেষজ বাগান রক্ষণাবেক্ষণ ও আয়ুর্বেদিক চিকিৎসকের সহকারী হিসেবে নিয়োজিত থাকা সত্ত্বেও, হারবাল সহকারী কাম মালী মো. সবুজ এখন হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছেন।
বিভিন্ন দুর্ঘটনার হাসপাতালে আসা রোগীদের কাটাছেঁড়া, সেলাই, ব্যান্ডেজ আবার কখনও অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োগÑ সবই করছেন তিনি। অথচ তার চিকিৎসাবিজ্ঞানে কোনো প্রশিক্ষণ বা প্রাতিষ্ঠানিক জ্ঞান নেই।
সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে চিকিৎসা নিতে আসা সাধারণ রোগীদের কাছ থেকে সবুজ সম্মানির নামে অবৈধ অর্থ আদায়ের অভিযোগও উঠেছে। এই অনভিজ্ঞ ব্যক্তির হাতে জরুরি চিকিৎসা পেয়ে রোগীরা পড়ছেন মারাত্মক ঝুঁকিতে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, সবুজ হাসপাতালের ভেষজ বাগানের মালী ও ইউনানি-আয়ুর্বেদিক চিকিৎসকের সহকারী পদে কর্মরত। তবে হাসপাতালে আয়ুর্বেদিক চিকিৎসক ও ভেষজ বাগান না থাকায় এবং চিকিৎসক সংকটে তাকে জরুরি বিভাগে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক চিকিৎসক বলেন, একজন মালী কী করে জরুরি বিভাগে রোগীর সেলাই-ব্যান্ডেজ করেন, এটা আমার বোধগম্য হয় না। এ বিষয়ে নেই কোনো প্রশিক্ষণ ও জ্ঞান। কী ধরনের সেফটি নিয়ে কাজ করতে হয় তাও জানেন না। এতে রোগীরা ঝুঁকিতে রয়েছে। সেনসিটিভ কোনো বিষয়ে না বুঝে উল্টাপাল্টা সেলাই করে রোগীকে বড় ধরনের ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে পারেন।
রাসেদুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি বলেন, সম্প্রতি আমার স্ত্রীর শরীরের মাইলোমা অপারেশন হয়। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী স্ত্রী ড্রেসিং করার জন্য স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গেলে জরুরি বিভাগের সবুজ ড্রেসিং করেন। কয়েক দিন পর অপারেশন স্থানে ইনফেকশন হলে চিকিৎসক জানান, ড্রেসিং ভালোভাবে না করার কারণে ইনফেকশন হয়েছে। সবুজের অজ্ঞতার কারণেই আমার স্ত্রীর এমনটি হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সবুজ বলেন, জরুরি বিভাগে আমার নির্দিষ্ট কোনো ডিউটি নেই। তবে লোক সংকটের কারণে কর্তৃপক্ষ আমাকে সেখানে কাজে লাগায়। রোগীর স্বজনদের কাছে টাকা নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি (সবুজ) বলেন, কারও কাছ থেকে জোর করে টাকা নেই না। রোগীর স্বজনরা খুশি হয়ে যা দেয় তাই নেই। জোরের কিছু নাই।
বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আব্দুর রউফ বলেন, আমাদের এখানে জরুরি বিভাগে কাজ করার জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ ডাক্তার নেই। চিকিৎসক ও মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্টের ঘাটতির কারণে অনেক সময় সবুজকে সহকারী হিসেবে ব্যবহার করতে হয়।
পটুয়াখালী জেলা সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মাদ খালেদুর রহমান মিয়া বলেন, পটুয়াখালীতে ডাক্তারের ব্যাপক সংকট চলতেছে। বাউফলে মাত্র তিনজন চিকিৎসক রয়েছেন। ডাক্তার সংকটের কারণে হয়তো এমনটি হয়েছে। তবে এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। পর্যাপ্ত চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হলে এই ধরনের পরিস্থিতির সমাধান হবে।