সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৫ জুলাই ২০২৫ ২০:০৪ পিএম
আপডেট : ২৫ জুলাই ২০২৫ ২০:১৬ পিএম
ব্যাংক ম্যানেজার এএইচএম খোরশেদ।
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে সোনালী ব্যাংক ম্যানেজার এএইচএম খোরশেদের বিরুদ্ধে গ্রাহকদের সঙ্গে অসদাচরণ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় গত ১৫ জুলাই সোনালী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সিইও এবং ম্যানেজিং ডিরেক্টরের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন উপজেলার শিক্ষকরা।
লিখিত অভিযোগ থেকে জানা যায়, সোনালী ব্যাংক সোনারগাঁও শাখাতে উপজেলার ৮৫০ জন শিক্ষকের বেতনের হিসাব ও ৪৫০ জন শিক্ষকের ব্যক্তিগত ঋণ হিসাব রয়েছে। তারা সোনালী ব্যাংকে বেতন উত্তোলন ও ঋণের বিষয়ে পরামর্শ করতে ম্যানেজারের কাছে গেলে তিনি তাদের সঙ্গে খারাপ ও রুঢ় আচরণ করেন। তাদের কাজে সহযোগিতা না করে চিৎকার, চেঁচামেচি ও গালাগাল করেন।
এতে শিক্ষকদের মানহানি হয়েছে। তাই তারা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা পরিবার সিদ্ধান্ত নিয়েছি বদমেজাজি, রুঢ় আচরণকারী, হীনমন্য ম্যানেজারকে অন্যত্র বদলির তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা না নিলে, শিক্ষকদের সব সঞ্চয়ী হিসাব ও ঋণ হিসাব তারা সোনালী ব্যাংক থেকে অন্য ব্যাংকে স্থানান্তর করতে বাধ্য হবেন।
সোনালী ব্যাংক সোনারগাঁও শাখা সূত্রে জানা যায়, গত ৭ জুলাই সোনালী ব্যাংক পিএলসি শাখার ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার গোলাম মহিউদ্দিনের সই করা চিঠিতে সোনারগাঁও শাখা প্রধান এএইচএম খোরশেদকে মুন্সীগঞ্জ প্রিন্সিপাল অফিসে বদলি করা হয়। কিন্তু গত ১০ জুলাই ওই বদলি আদেশ গোলাম মহিউদ্দিনের সই করা আরেক চিঠিতে স্থগিত করা হয়।
অভিযোগকারী শিক্ষক মো. মাসুদ বলেন, আমিসহ আমাদের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সঙ্গে রুঢ় আচরণকারী ও বদমেজাজি ম্যানেজারকে এখান থেকে বদলি করে ভালো একজনকে বসাতে হবে। এটা করা না হলে আমাদের সব হিসাব অন্য ব্যাংকে স্থানান্তর করব।
ভট্টপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিআর বিলকিস বলেন, আমি একজন প্রধান শিক্ষক, স্কুলের একটি চেকের সমস্যা নিয়ে ম্যানেজারের কাছে গিয়ে সালাম দিলে তিনি জবাবও দেননি। তার কক্ষেও ঢুকতে বলেননি। আমার শিক্ষকতার জীবনে এমন অসদাচরণ আগে কখনও পাইনি।
গ্রাহক সাবিহা সুলতানা বলেন, আমার মা মারা যাওয়ায় নমিনীর টাকা তুলতে ভাইকে নিয়ে সোনালী ব্যাংকে যাই। এই ব্যাংক ম্যানেজার আমাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন। অপমান অপদস্ত করে ব্যাংক থেকে বের করে দেন। আমি এর বিচার চাই।
নাম না প্রকাশ করার শর্তে ওই ব্যাংকের এক কর্মকর্তা বলেন, তিনি কোনো অফিসারকে নির্ধারিত ডেস্কে কাজ করতে দিতেন না। আজকে এক ডেস্কে হলে কাল অন্য ডেস্কে কাজ করতে হয়। এতে ব্যাংকের নিয়মশৃঙ্খলা নষ্ট হয়। এ ছাড়া তিনি গ্রাহকদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন।
এ ব্যাপারে সোনালী ব্যাংকের সোনারগাঁও শাখা প্রধান (ম্যানেজার) এএইচএম খোরশেদ মোবাইল ফোনে বলেন, শিক্ষকদের ঋণের বিষয়ে কথাকাটি হয়েছে, কোনো খারাপ আচরণ করেননি। ইতোমধ্যে শিক্ষকদের কাছে সরি বলেছি। এ ছাড়া সাবিহা নামের যে গ্রাহক নমিনীর টাকা তুলতে এসেছেন তার কাছে সময় চেয়েছিলাম। কিন্তু তিনি চেঁচামেচি করায় নিরাপত্তাকর্মী দিয়ে ব্যাংক থেকে বের করে দিয়েছি। আমি কাউকে ধাক্কা দেইনি।