আশরাফুল ইসলাম কহিনুর, হবিগঞ্জ
প্রকাশ : ২৫ জুলাই ২০২৫ ১৭:৩৮ পিএম
আপডেট : ২৫ জুলাই ২০২৫ ১৭:৫১ পিএম
হবিগঞ্জের বিভিন্ন হাওরে কারেন্ট জালের পাশাপাশি অবৈধ চায়না দুয়ারি দিয়ে মাছ শিকার করছে জেলেরা। স্থানীয়ভাবে চায়না দুয়ারিকে জাল বলা হলেও এটি মাছ ধরার বিশেষ একটি ফাঁদ। একে চায়না জাল, ম্যাজিক জাল নামেও ডাকা হয়। এ ফাঁদের কারণে জলাশয়গুলো দিন দিন দেশি মাছশূন্য হয়ে পড়ছে।
জানা যায়, এই চায়না দুয়ারি দৈর্ঘ্য প্রায় ৭০ থেকে ১০০ ফুট লম্বা হয়। রডের রিং দিয়ে খোপ আকারে বাক্স তৈরি করে চারপাশ জাল দিয়ে ঘেরাও করে তৈরি করা হয়। এই দুয়ারির দুই দিকে মুখ থাকায় মাছ ভেতরে ঢুকলে আর বের হতে পারে না। ঘন ফাঁসের এই দুয়ারিতে পোনা মাছ থেকে শুরু করে ছোট বড় সব ধরনের মাছ ধরা পড়ে।
হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ, বানিয়াচং, লাখাই ও নবীগঞ্জ উপজেলার হাওরে চায়না দুয়ারি দিয়ে নিধন করা হচ্ছে দেশি মাছ।
বছরজুড়েই বিভিন্ন স্থানে এই ফাঁদ দিয়ে মাছ শিকার করা হলেও বর্ষায় অসাধু শিকারিরা মাছ ধরার মহোৎসবে মেতে উঠে। জোয়ারের পানির সঙ্গে ডিমওয়ালা বিভিন্ন প্রজাতির মাছ খাল, বিলসহ বিভিন্ন স্থানে বংশবিস্তারের জন্য আসার গতিপথে পাতা হচ্ছে এই ফাঁদ।
একাধিক মৎস্য শিকারির সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রথম দিকে এই দুয়ারি চীন থেকে আমদানি করায় দামও ছিল বেশি। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন কারখানায় তৈরি হচ্ছে চায়না দুয়ারি। তাইি এর দাম এখন সস্তা। আগের চেয়ে অর্ধেক। এ কারণে অনেকেই এই ফাঁদ পেতে মাছ ধরেছে।
এতে অল্প টাকায় দুয়ারি কিনে কম পরিশ্রমে বেশি মাছ ধরে লাভের মুখ দেখার সুযোগ খুলে গেছে। এদিকে সচেতন মহল বলছে, চায়না দুয়ারি ব্যবহার বন্ধ না করলে অচিরেই দেশীয় মাছ বিলুপ্ত হয়ে যাবে।
হবিগঞ্জ মৎস্য কর্মকর্তা ওয়াহিদুর রহমান মজুমদার বলেন, মৎস্য সুরক্ষা ও সংরক্ষণ আইন বাস্তবায়নে আমরা মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছি। লাখাই উপজেলায় একটি বিশেষ অভিযান চালিয়ে সম্প্রতি ৫০টি নিষিদ্ধ রিং জাল ও ১০ হাজার মিটার কারেন্ট জাল জব্দ করে জনসমক্ষে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছে।