সদরপুর
মাহবুব হোসেন সজিব, সদরপুর (ফরিদপুর)
প্রকাশ : ২৫ জুলাই ২০২৫ ১৭:৩৩ পিএম
আপডেট : ২৫ জুলাই ২০২৫ ১৭:৪১ পিএম
ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার পদ্মা ও আড়িয়াল খাঁ নদীতে দেশীয় মাছ এখন অস্তিত্ব সংকটে। দিন দিন বেড়েই চলছে নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারী, বানার, ভেশাল জাল, রাক্ষুসে জাল এবং বাঁশের বাঁধের ব্যবহার। এতে শুধু বড় মাছ নয়, ধরা পড়ছে মাছের রেণু-পোনা এমনকি মাছের ডিমও। ফলে প্রাকৃতিক প্রজননব্যবস্থা ধ্বংসের মুখে পড়েছে এবং দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে দেশীয় প্রজাতির মাছের সংখ্যা।
স্থানীয়রা জানান, প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগের পর্যাপ্ত নজরদারি না থাকায় অবাধে ব্যবহার হচ্ছে এসব নিষিদ্ধ জাল। নদীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে প্রকাশ্যে বসানো হচ্ছে চায়না দুয়ারী, যা আইন অনুযায়ী সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, উপজেলার আকোটেরচর স্লুইসগেট খালে বাঁশের বাঁধ বসিয়ে মাছ শিকার চলছে। এ ছাড়া চর বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের খেজুরতলা নদী ও ভাষানচর ইউনিয়নের ভুবনেশ্বর নদীতেও দেখা গেছে শতাধিক চায়না দুয়ারী পাতা রয়েছে।
স্থানীয় জেলেরা জানান, নদীতে এখন আগের মতো মাছ নাই, চায়না দুয়ারী সব গিলে খাচ্ছে। চায়না দুয়ারীর ফাঁস এতই সূক্ষ্ম যে মাছের পোনা তো দূরের কথা, জলজ প্রাণীরাও আটকে যায়। একবার পানিতে ফেলা হলে এসব জাল থেকে রক্ষা পাওয়া অসম্ভব। অবৈধ জাল ও বাঁধের কারণে নদীর স্বাভাবিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা এখনও চোখে পড়ছে না। এর ফলে আগামী প্রজন্মের জন্য মাছের অস্তিত্বই হুমকির মুখে পড়েছে।
স্থানীয় জেলে আজাহার শেখ বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযান চালানোর কথা বলা হলেও তা দৃশ্যমান নয়। আমাদের দাবি, নিয়মিত নজরদারি এবং চায়না দুয়ারী ও এ ধরনের অবৈধ জাল তৈরির উৎস বন্ধ না হলে এই সমস্যার সমাধান হবে না। চন্দ্রপাড়া গ্রামের জেলে জলিল মুন্সী বলেন, আড়িয়াল খাঁ নদীতে এখন আর আগের মতো মাছ নেই। নতুন পানি এলে আগে যেখানে মাছ আসত, এখন সেখানে পোনাগুলোও রক্ষা পায় না। সবই ধরে নেয় চায়না দুয়ারী জাল।
সদরপুর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মেহেদী হাসান বলেন, আমরা জানতে পেরেছি নদীতে প্রচুর চায়না দুয়ারী ও বাঁশের বাঁধ বসানো হয়েছে। আমাদের টিম ১৫-২০ জন সদস্য নিয়ে গেলেও একদিনে এগুলো সরানো সম্ভব নয়। তবে আগামী জুলাই মাস থেকে নিয়মিত অভিযান চালানো হবে।