আমতলী
আমতলী (বরগুনা) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৫ জুলাই ২০২৫ ১৭:৩২ পিএম
আপডেট : ২৫ জুলাই ২০২৫ ১৭:৩৯ পিএম
বরগুনার আমতলী উপজেলায় গরুর লাম্পি স্কিন ডিজিজ (এলএসডি) রোগের ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। গত তিন মাসে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে তিন শতাধিক গরু এ রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় কৃষক ও খামারিরা। তবে উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরে পর্যাপ্ত ওষুধ ও ভ্যাকসিন না থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন গরু মালিকরা।
জানা গেছে, চলতি বছরের এপ্রিল মাসের শেষ দিকে আমতলী উপজেলায় এ রোগ ছড়িয়ে পড়ে। মশা-মাছি বাহিত এ ভাইরাসজনিত রোগটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে। উপজেলার অন্তত কয়েক হাজার গরু এ রোগে আক্রান্ত হয়েছে। আক্রান্ত গরুর শরীরে গোটা ওঠে, প্রচণ্ড জ্বর হয় এবং সেসব ঘা থেকে রক্ত ও পুঁজ বের হয়ে শেষ পর্যন্ত প্রাণঘাতী হয়ে ওঠে।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের ভেটেরিনারি সার্জন ডা. মো. আশিষ বাবু জানান, গত তিন মাসে তারা ২৬৫টি গরুর চিকিৎসা দিয়েছেন। তবে মৃত্যুর সঠিক সংখ্যা তার জানা নেই। তিনি বলেন, আমাদের কাছে এ রোগের পর্যাপ্ত ওষুধ নেই, আর ভ্যাকসিন তো এখনও দেশে উৎপাদনই হয়নি।
খামারিরা বলছেন, বাইরে থেকে ওষুধ কিনে চিকিৎসা করাতে গিয়ে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন তারা। সরকারি হাসপাতাল থেকে ওষুধ না পেয়ে তারা চিকিৎসা করাতে হিমশিম খাচ্ছেন। তারা দ্রুত সরকারি পর্যায়ে ওষুধ ও ভ্যাকসিন সরবরাহের দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় খামারি বজলু মোল্লা ও ফজলু মোল্লা বলেন, আমাদের দুটি বাছুর মারা গেছে। প্রাণিসম্পদ অফিসে গিয়ে ওষুধ পাইনি, বাইরে থেকে কিনে চিকিৎসা করতে হয়েছে। আরেক খামারি কবির গাজী বলেন, একটা ষাঁড় গরু আক্রান্ত হয়েছে, ১৫ দিন ধরে চিকিৎসা করছি। কিন্তু কোনো উন্নতি নেই।
হলদিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা শিবলী শরিফ বলেন, গত ১৫ দিনে উত্তর তক্তবুনিয়া, হলদিয়া ও কালিগঞ্জসহ পুরো ইউনিয়নে লাম্পি স্কিন রোগে অন্তত শতাধিক গরু মারা গেছে।
আমতলী উপজেলা উপ-সহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আবুল বাশার বলেন, গরুর চিকিৎসা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। হাসপাতালের বাইরে বহু গরু রয়েছে, যাদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই আমরা সেসবের তথ্য জানিও না।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আশিষ বাবু বলেন, উপজেলার অনেক গরু লাম্পি স্কিন ডিজিজে আক্রান্ত হয়েছে। কিন্তু মারা যাওয়ার সংখ্যা কম। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরে এ রোগের পর্যাপ্ত ওষুধ নেই। ভ্যাকসিন এখনও উৎপাদন হয়নি। তবে এ রোগে আক্রান্ত গরুর মৃত্যুর সংখ্যা আমার জানা নেই।