× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

বিদ্যালয়ের ওয়াশব্লক নির্মাণে অনিয়ম, দুর্ভোগে শিক্ষার্থীরা

দিলীপ মজুমদার, কুমিল্লা

প্রকাশ : ২৪ জুলাই ২০২৫ ০৯:০৭ এএম

বিদ্যালয়ের ওয়াশব্লক নির্মাণে অনিয়ম, দুর্ভোগে শিক্ষার্থীরা

কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার বিভিন্ন প্রাথমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ওয়াশব্লক নির্মাণ প্রকল্পে উঠেছে একের পর এক অনিয়ম, গাফিলতি ও দুর্নীতির অভিযোগ। পিইডিপি-৪ প্রকল্পের আওতায় ২০২১ সালে ৬১টি স্কুলে ওয়াশব্লক নির্মাণের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হলেও আজও অধিকাংশ কাজ অসমাপ্ত রয়েছে। যদিও সরকারি কাগজে অনেক স্কুলের কাজ ‘শতভাগ’ সম্পন্ন দেখানো হয়েছে। উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল দপ্তর ও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের উদাসীনতা ও খামখেয়ালিপনায় বছরের পর বছর ধরে ঝুলে আছে এসব প্রকল্প। নির্মাণকাজের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিভিন্ন স্কুলের প্রধান শিক্ষকরা। স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব অনিয়মে দায়ী দপ্তরের কিছু কর্মকর্তা ও অসাধু ঠিকাদারদের গোপন আঁতাত। যদিও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অফিস বলছে, ঠিকাদারদের একাধিকবার চিঠি দিয়ে কাজ শেষ করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

উপজেলার জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, পিইডিপি-৪ প্রকল্পের আওতায় বরুড়া উপজেলার বিভিন্ন প্রাথমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ৬১টি ওয়াশব্লক নির্মাণের জন্য ২০২১ সালের টেন্ডারের মাধ্যমে দরপত্র আহ্বান করেন কুমিল্লা জেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর। প্রতিটি ওয়াশব্লক নির্মাণে বরাদ্দ ছিল প্রায় ১৮ লাখ টাকা। এক ও দোতলা ভবনে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের জন্য ৬টি করে ওয়াশরুম নির্মাণের কথা থাকলেও অধিকাংশ ভবনে এখনও বাথরুম, বিদ্যুৎ সংযোগ, পানির লাইন ও হাই-কমোড বসানো হয়নি। অভিযোগ রয়েছে, অনেক ক্ষেত্রে কাগজে ‘শতভাগ সম্পন্ন’ দেখালেও বাস্তবে কাজের অগ্রগতি ৫০ থেকে ৭০ শতাংশের বেশি নয়।

মান্দারতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক উত্তম কুমার বলেন, বিদ্যালয়ে এখনও হাই-কমোড, ফিটিংস ও বিদ্যুৎ সংযোগসহ আরও অনেক কাজ বাকি, আমাদের চোখে কাজের অগ্রগতি সর্বোচ্চ ৭০ শতাংশ। কিন্তু জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী অফিস বলছে শতভাগ শেষ! এটা কীভাবে সম্ভব?

এ ছাড়াও উপজেলার কাসেড্ডা প্রাথমিক বিদ্যালয়, নোয়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কামাড্ডা সালুকিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ভাউকসার প্রাথমিক বিদ্যালয়, ছোটবারেরা প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ কয়েকটি বিদ্যালয়ের কাজ শতকরা ৫০ ভাগের বেশি করতে পারেনি ৩-৪ বছরেও। পয়েলগাছা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বিষ্ণুপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দক্ষিণ হোসেনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কালোরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, নলুয়া চাঁদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, জয়নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, নবীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সাহাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বগাবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চিতোষী রোড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ কয়েকটি বিদ্যালয়ের ওয়াশব্লক নির্মাণের কাজ অর্ধেক করে রাখা হয়েছে বছরের পর বছর। শুধু অবকাঠামো নির্মাণকাজ শেষ করে ভেতরের কাজ সম্পূর্ণ অসমাপ্ত রয়ে গেছে প্রায় ওয়াশব্লকের। 

বিষ্ণুপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবস্থা আরও ভয়াবহ। সেখানে নির্মাণাধীন দোতলা ওয়াশব্লকের পাশে খোঁড়া বিশাল গর্ত, যা এখন ডেঙ্গুর প্রজনন ক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। শিক্ষার্থীরা ঝুঁকির মধ্যে ক্লাস করছে। জানা যায়, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন কাজ করতে এসে বিদ্যালয়ের নামে বাজারের দোকানে প্রায় ১৫ হাজার টাকা বাকি রেখে চলে গেছে। এরপর সেই টাকা আদায়ের জন্য স্কুলের শিক্ষক ও স্টাফদের চাপ দিচ্ছে দোকানিরা।

বরুড়ার দক্ষিণ হোসেনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা জানান, বর্ষার মধ্যে ছাদ ঢালাই দেওয়া হয়েছে আমাকে না জানিয়েই। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী শামীম সাহেবকে বলেছিলাম বৃষ্টির মধ্যে ঢালাই কেন, তিনি জানান লোকেরা আজ সব মেশিন নিয়ে চলে আসছে, আজকেই করতে হবে। কাজের বিবরণ চাইলেও প্রকৌশলী কেবল একটি সাধারণ নকশা ধরিয়ে দেন, তাতে কোনো স্টেটমেন্ট ছিল না। স্কুলে দুজন ঠিকাদার বদল হয়েছে, তবুও কাজ শেষ হয়নি।

বরুড়ার পূর্ব নলুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা সেলিনা আক্তার বলেন, প্রথমে ওয়াশরুশে গুদামঘরের মতো করেছে, কোনো ভেন্টিলেটর ছিল না। পরে দেয়াল কেটে ভেন্টিলেশনের ব্যবস্থা করে দিয়েছে। পেইন্টিংয়ের মানও ভালো নয়, নয়ছয় করে কাজ শেষ করে হস্তান্তর করা হয়েছে।

বিজয়পুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক আনোয়ার হোসেন মিয়াজি বলেন, প্রায় ২ মাস আগে ওয়াশব্লকের কাজ শেষ হলেও এরই মধ্যে বাইরের ওয়াল খসে পড়ছে। বাড়াইপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাসির হোসেন বলেন, কাজ শেষ হলেও আমাদেরকে বরাদ্দকৃত অনেক উপকরণ দেওয়া হয়নি। বৃষ্টিতে বাইরের পানি ভেতরে ঢুকে যায়, দরজাও টেকসই না। দক্ষিণ হোসেনপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী জানায়, টয়লেট না থাকায় কিছুদিন আগেও আমরা স্কুলের পাশেই একটা বাড়িতে গিয়ে বাথরুম করতে হয়েছে।

প্রকল্পে নিয়োজিত একমাত্র যোগাযোগযোগ্য ঠিকাদার আবুল কালাম আজাদ বলেন, আমরা দ্রুতই অসম্পূর্ণ কাজগুলো শেষ করব। বাকি চার ঠিকাদারের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাদের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম জানান, অনেক স্কুল থেকে অভিযোগ আসছে। যেসব কাজ ‘শতভাগ’ সম্পন্ন বলা হচ্ছে, সেগুলোতে গিয়েও আমরা বিভিন্ন ত্রুটি পেয়েছি। প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় এসএস পাইপ পর্যন্ত বসানো হয়নি, কাজের মানও ছিল নিম্নমানের।

উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী নূর মোহাম্মদ শামীম বলেন, ‘তথ্য জানার হলে তথ্য অধিকার আইনে আবেদন করতে হবে। তবেই তথ্য দেওয়া সম্ভব।’ অন্যদিকে অভিযোগের বিষয়ে তিনি জানান, ঠিকাদারদের একাধিকবার চিঠি দেওয়া হয়েছে। যেসব কাজ অসম্পূর্ণ আছে, সেগুলো ঠিক করে দেওয়া হবে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা