ওবাইদুল আকবর রুবেল, ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম)
প্রকাশ : ২৩ জুলাই ২০২৫ ১৮:৩২ পিএম
আপডেট : ২৩ জুলাই ২০২৫ ১৮:৩৭ পিএম
চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে ঠিকাদারের গাফিলতিতে চার বছরেও শেষ হয়নি পশ্চিম হাইদচকিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নতুন ভবনের নির্মাণকাজ। পুরাতন ভবনের জরাজীর্ণ ক্লাসেই পাঠদান চলছে। এতে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। স্থানীয়রা অভিযোগ তুলে বলেছেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ভবনের অর্ধেক কাজ করেই উধাও হয়েছেন।
গত রবিবার সকালে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়টির জরাজীর্ণ পুরাতন ভবনটি নির্মাণ করা হয় ১৯৯৫-৯৬ অর্থবছরে। পরে তা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। এতে বিদ্যালয়ের বারান্দার পিলার ও দেয়ালের পলেস্তারা খসে রড বের হয়ে গেছে। ক্লাসরুমের দেয়ালেও ফাটল। এরই মধ্যে ঝুঁকি নিয়ে ক্লাস করছে শিক্ষার্থীরা। এ অবস্থায় বিদ্যালয়ে সন্তানদের পাঠিয়ে আতঙ্কে থাকেন অভিভাবকরা। তাই অনেক অভিভাবক ছেলেমেয়েদের অন্য স্কুল ও মাদ্রাসায় ভর্তি করাচ্ছেন। ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের ঠিক ২০০ গজ দূরে নির্মাণাধীন ভবনের কাজ ফেলে রেখেছে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান। পড়ে আছে ভবন নির্মাণকাজের নানা যন্ত্রাংশ। পড়ে থাকা লোহায় মরিচা ধরেছে। স্থানীয়দের দাবি, বিভিন্ন জায়গায় অভিযোগ দিয়েও সুফল মিলছে না। তারা শীঘ্রই বিদ্যালয়ের ভবনটি পুরোপুরি বাস্তবায়ন চান। এ ছাড়া ঝুঁকি এড়াতে শিক্ষকরা নির্মাণাধীন নতুন ভবনে পাঠদান চালাতে চান ।
জানা যায়, ২০২০-২১ অর্থবছরে প্রায় ১ কোটি আট লাখ টাকা ব্যয়ে মনির আহমদ কনস্ট্রাকশন নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বিদ্যালয়ের দ্বিতল ভবনটি নির্মাণের কাজ হাতে পায়। তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ভবন নির্মাণকাজ অর্ধেক বাকি রেখে উধাও হয়ে গেছে। কাজ শুরু হওয়ার পর থেকে চারবার মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। তারপরও ঠিকাদারের গাফলতির কারণে যথাসময়ে কাজ শেষ হয়নি।
বিদ্যালয়ের বিবি মরিয়াম, উম্মে আয়মন, জিন্নাত আক্তারসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, ভবন ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় আমাদের ক্লাস করতে ভয় লাগে। কিন্তু উপায় নেই। ক্লাস করতে হয়। বৃষ্টি হলে ক্লাস করা যায় না।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নাহিদা আক্তার শিল্পী বলেন, শুরু থেকেই ঠিকাদার বিরতি দিয়ে কাজ করেছে। ঠিকাদারের গাফিলতিতে ভবন নির্মাণকাজে দেরি হচ্ছে। পুরনো ভবন ঝুঁকিপূর্ণ হওয়া সত্ত্বেও সেখানেই আমরা শিক্ষার্থীদের ক্লাস নিচ্ছি। শিক্ষার্থীদের কষ্ট দেখে অনেকবারই নির্মাণকাজ শেষ করার জন্য ঠিকাদারকে অনুরোধ করেছি। কিন্তু তাতেও কোনো লাভ হয়নি। বিষয়টি শিক্ষা কর্মকর্তা, উপজেলা প্রকৌশলীসহ ঊর্ধ্বতনদের একাধিকবার জানিয়েছি।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিক আসাদুজ্জামান টিটুর মোবাইলে ফোন দিলে তিনি বলেন, কাজটি চার বছর আগের। এ বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ করা হবে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পাইন্দং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান একেএম সরওয়ার হোসেন স্বপ্নন বলেন, ভবনের কাজ দ্রুত শেষ করার জন্য আমি কয়েকবার উপজেলা সমন্বয় সভায় বলেছি। ঠিকাদারকেও কাজ শেষ করার জন্য বারবার অনুরোধ করেছি। কয়েকবার মেয়াদ বাাড়িয়েও ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান কাজ কেন শেষ করেনিÑ তা বলতে পারব না।
স্থানীয় প্রকৌশলী অধিদপ্তরের (এলজিইডি) উপসহকারী প্রকৌশলী আব্দুস সালাম বলেন, কাজ দ্রুত শেষ করার জন্য ঠিকাদারকে বেশ কয়েকবারই তাগাদা দিয়েছি। ঠিকাদারের গাফলতির ফলেই তা শেষ করা যায়নি। আমরা ঠিকাদারের কাজ বাতিল করার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে সুপারিশ করছি।
উপজেলা ইউএনও মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, স্কুলের ভবন নির্মাণের বিষয়ে আমার কিছু জানা ছিল না। উপজেলা প্রকৌশলীর সঙ্গে কথা বলে কাজ দ্রুত শেষ করার জন্য উদ্যোগ নেওয়া হবে।