সাইফুল হক মোল্লা দুলু, মধ্যাঞ্চল
প্রকাশ : ২৩ জুলাই ২০২৫ ১৮:২৭ পিএম
আপডেট : ২৩ জুলাই ২০২৫ ১৮:৩৬ পিএম
কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জে বাণিজ্যিকভাবে ২ একর জমিতে বিদেশি ফল ড্রাগন চাষ করে আলোচনায় উদ্যোক্তা হেলাল উদ্দিন। তার এই উদ্যোগে কর্মসংস্থানের সুযোগও ঘটেছে। প্রতিদিনই জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন আসছেন ড্রাগনের বাগান দেখতে ও ফল কিনতে। সুস্বাদু ও পুষ্টিগুণে ভরপুর এই ফল স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে যাচ্ছে রাজধানীসহ দেশের নানা জেলায়। হেলালের এমন সাফল্য দেখে ড্রাগন চাষে ঝুঁকছেন স্থানীয় বেকার যুবকরা।
সংশ্লিষ্টরা বলেন, এই চাষ আরও প্রসারিত হলে বেকারত্ব কমবে। বিদেশে রপ্তানির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা আয় সম্ভব হবে।
ব্যতিক্রমী ইচ্ছা থেকে চাষের নেশা ভর করে। সেই নেশায় আকৃষ্ট হয়ে ড্রাগন ফল চাষ করেন করিমগঞ্জের টামনি ইসলামপুর এলাকার বাসিন্দা হেলাল উদ্দিন। ২০২১ সালে প্রথম বারে নিজ বাড়ির সামনে ২ একর জমিতে ড্রাগন ফলের বাগান গড়ে তোলেন। নাম দেওয়া হয় ‘মায়ের দোয়া ড্রাগন ফলের বাগান’।
৪ বছরে ড্রাগন চাষে ৬ লাখ টাকা খরচ হলেও আয় হয়েছে ১৫ লাখ টাকা। বাগানটির ড্রাগন ফল ময়মনসিংহ, গাজীপুরসহ বিভিন্ন জায়গায় খুচরা ও পাইকারি বিক্রি করছেন হেলাল উদ্দিন। দূর থেকে ড্রাগন ফলের বাগানটি দেখলে মনে হয় কেউ ক্যাকটাস লাগিয়েছেন। একটু কাছে যেতেই চোখ ধাঁধিয়ে যায়। অন্যরকম দেখতে ফুল ও লাল ফলে ভরা বাগান। প্রতিটি গাছে রয়েছে ফুল, মুকুল ও পাকা ড্রাগন। দুজন লোক নিয়মিত ফল সংগ্রহের পাশাপাশি বাগানে ৫ জন শ্রমিক কাজ করেন।
জানা যায়, ড্রাগন লতানো কাঁটাযুক্ত গাছ, যদিও এর কোনো পাতা নেই। গাছ দেখতে অনেকটা সবুজ ক্যাকটাসের মতো। ড্রাগন গাছে শুধু রাতে ফুল ফোটে। ফুল লম্বাটে সাদা ও হলুদ রঙের হয়। তবে মাছি, মৌমাছি ও পোকামাকড় পরাগায়ণ ত্বরান্বিত করে। কৃত্রিম পরাগায়ণও করা যায়। এ গাছকে ওপরের দিকে ধরে রাখার জন্য সিমেন্টের কিংবা বাঁশের খুঁটির সঙ্গে তুলে দেওয়া হয়। ড্রাগনের চারা বা কাটিং রোপণের ১০ থেকে ১৫ মাসের মধ্যেই ফল সংগ্রহ করা যায়।
সাধারণত ২ ফিট দৈর্ঘ্য প্রস্থ করে গর্ত করে সার গোবর দিয়ে বেলে-দোআঁশ মাটিতে চারা লাগাতে হয়। এপ্রিল থেকে জুন মাসে ফুল আসে। খাবার উপযুক্ত হয় সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর মাসে। ফুল আসার ৩০ থেকে ৪০ দিনের মধ্যে ফল সংগ্রহ করা যায়। নভেম্বর মাস পর্যন্ত ফুল ফোটা এবং ফল ধরা অব্যাহত থাকে। এক একটি ফলের ওজন ২৫০ গ্রাম থেকে এক কেজিরও বেশি হয়ে থাকে।
একটি পূর্ণাঙ্গ গাছ থেকে ১০০ থেকে ১৩০টি পর্যন্ত ফল পাওয়া যায়। সঠিক পরিচর্যা করতে পারলে একটি গাছ থেকে ৪০ বছর বয়স পর্যন্ত ফলন পাওয়া সম্ভব।
সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, হেলাল উদ্দিনের বাগানে শুধু ড্রাগন ফলের গাছ। পিলারে পিলারে সারিবদ্ধভাবে সাজানো গাছগুলোয় ড্রাগন ফল ধরে আছে, যা দেখে চোখ জুড়িয়ে যায়।
বাগান দেখতে আসা মোবারক হোসেন বলেন, আমরা বাজার থেকে ড্রাগন ফল কিনি। এই প্রথম বাগান দেখতে এসে ড্রাগন ফল কিনলাম।
ড্রাগন ফল বাগানের মালিক হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘ড্রাগন ফল দীর্ঘমেয়াদি আবাদ। এটি লাভজনক চাষাবাদ। প্রথমে একটু খরচ হলেও পরে খরচ তেমন নেই।’
অন্য আবাদে যেমন সব সময় গাছের যত্ন, সার ও কীটনাশক ব্যবহার করতে হয় সেদিক থেকে ড্রাগন চাষাবাদ খুবই ভালো। সামান্য পরিচর্যা করতে পারলে ড্রাগন ফল চাষ করা সম্ভব।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সাদিকুর রহমান বলেন, ড্রাগন চাষে খরচ কম। দেশেই নানা জাতের ড্রাগন চারা পাওয়া যায়।
বর্তমানে উপজেলার অনেক এলাকায় ড্রাগন চাষ হচ্ছে। হেলাল উদ্দিনের ড্রাগন চাষে সফল হওয়ায় অন্যরা ড্রাগন চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন। বিদেশি এ ফল দেশের মাটিতে চাষ বাড়ানোর জন্য কৃষি বিভাগ প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছে। অধিক পুষ্টিগুণ সম্পন্ন এ ফল চোখকে সুস্থ রাখে। শরীরের চর্বি কমায়। রক্তের কোলেস্টেরল কমায় ও উচ্চ রক্তচাপ কমানোসহ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।