উলিপুর
উলিপুর (কুড়িগ্রাম) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৩ জুলাই ২০২৫ ১৮:২৬ পিএম
আপডেট : ২৩ জুলাই ২০২৫ ১৮:৩৫ পিএম
কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার ব্রহ্মপুত্র নদের দুর্গম চরাঞ্চলে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের নামে প্রতারিত হয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। প্রায় চার বছর আগে সাহেবের আলগা ইউনিয়নের চর ঘুঘুমারি ও সুখেরবাতি চরে ৩৭৫ পরিবারকে সোলার প্যানেল দেওয়া হলেও তা এখন কার্যত অকেজো অবস্থায় পড়ে রয়েছে। ব্যবহার করতে না পারলেও নিয়মিত বিল পাঠানো হচ্ছে পল্লী বিদ্যুৎ অফিস থেকে, এমনকি বিল পরিশোধ না করলে মামলার হুমকিও দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
জানা গেছে, ২০২১ সালে জনপ্রতি ৫০০ থেকে ১০০০ টাকা আদায় করে ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা সৌর প্যানেল বিতরণ করেন। কিস্তিতে দাম পরিশোধের কথা বলে সোলার প্যানেলগুলো দেওয়া হলেও এর প্রায় আট মাস পর পল্লী বিদ্যুৎ থেকে তাদের বিলের কাগজ ধরিয়ে দেওয়া হয়; যা এ পর্যন্ত বকেয়া বিলের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে কয়েক হাজার টাকা। বর্তমানে সোলারগুলো খুলে নেওয়ার প্রক্রিয়া চললেও বিল পরিশোধ না করা হলে মামলার হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। কিন্তু শুরু থেকেই সোলার প্যানেলগুলো ছিল নিম্নমানের এবং বেশিরভাগই অচল হয়ে পড়ে। অনেকেই বাতিও জ্বালাতে পারেননি। সংযোগ স্থাপনের পর থেকে সোলার প্যানেলগুলো ব্যবহার করে কোনো সুবিধা না পেলেও সেগুলো এখন গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। একাধিকবার সংশ্লিষ্ট বিভাগে লিখিত অভিযোগ দিলেও কোনো প্রতিকার পাননি বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
চরবাসী জহুর উদ্দিন, রুহুল আমীন, লুৎফর প্রামাণিকসহ অনেকে বলেন, যে প্যানেল দেওয়া হয়েছে তা দিয়ে এক ঘণ্টাও আলো জ্বলে না। অথচ প্রতি মাসে ৫০ থেকে ৬০ টাকা করে বিল আসে। চার বছরে বকেয়া বিল দাঁড়িয়েছে ২ হাজার থেকে ৪ হাজার টাকা পর্যন্ত। অনেকে নামমাত্র ৩০ ওয়াটের সোলার পেলেও বিল ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে ৫০ ওয়াটের হারে। পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের লোকেরা চর অঞ্চলে গিয়ে নদী ঘাটে দাঁড়িয়ে বিলের কাগজ হাতে ধরিয়ে দেন, কিন্তু কোনো রক্ষণাবেক্ষণ করেন না বলেও জানান ভুক্তভোগীরা।
কুড়িগ্রাম-লালমনিরহাট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির উলিপুর জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার তারিকুল ইসলাম বলেন, যারা সোলার রাখতে চান না, তাদের আবেদনের ভিত্তিতে প্যানেল খুলে নেওয়া হচ্ছে। তবে যারা ব্যবহার করছেন, তাদের নিয়ম অনুযায়ী বিল পরিশোধ করতে হবে।
পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার জাকির হোসেন বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে যদি এমন হয়, তাহলে গ্রাহকদের আবেদনের ভিত্তিতে বিলের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে মওকুফ করা হবে।