সংবাদ সম্মেলন অভিযোগ
পার্বতীপুর (দিনাজপুর) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২১ জুলাই ২০২৫ ২০:৩৯ পিএম
আপডেট : ২১ জুলাই ২০২৫ ২১:২৪ পিএম
দিনাজপুরের পার্বতীপুরে আবু জাফর আলী নামের এক অসুস্থ বীর মুক্তিযোদ্ধাকে ফাঁদে ফেলে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের (জামুকা) যাচাই-বাছাই টিমের কর্মকর্তাদের সামনে ভুল জবানবন্দি দিতে বাধ্য করার অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগে অভিযুক্ত হলেন পার্বতীপুর মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কার্যালয়ের সাবেক এক ডেপুটি কমান্ডারসহ আরও দুই সহযোদ্ধা।
সোমবার (২১ জুলাই) দুপুরে উপজেলার পূর্ব হোসেনপুর গ্রামের নিজ বাড়িতে সংবাদ সম্মেলনে গেজেটধারী মুক্তিযোদ্ধা এই অভিযোগ করেন। এ সময় উপজেলার বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু জাফর আলীর লিখিত বক্তব্য সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরা হয়। এতে তিনি জানান, আমার গেজেট নম্বর-৩৫৬৮, লাল মুক্তিবার্তা নম্বর-০৩০৮০৮০৫৮০, মুক্তিযোদ্ধা নম্বর-০১২৭০০০৫৪১৪। আমি ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিতে ভারতে গিয়েছি। সেখানে তিনটি ট্রেনিং ক্যাম্পে আমি ট্রেনিং নিয়েছি। সর্বশেষ হামজাপুর ট্রেনিং ক্যাম্পে অস্ত্রসহ ট্রেনিং শেষ করি। অতঃপর বাংলাদেশে এসে পার্বতীপুর উপজেলার হামিদপুর ইউনিয়নের সরদারপাড়া গ্রাম এলাকায় খান সেনাদের বিরুদ্ধে সম্মুখ যুদ্ধ করি।
বাংলাদেশ সরকারের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে আমার সব মুক্তিযোদ্ধার সনদপত্র পর্যালোচনা করে বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে গেজেটভুক্ত করেন। তারপর থেকে আমি নিয়মিত ভাতাও ভোগ করে আসছি।
কিন্তু হঠাৎ আমার নামে কতিপয় মুক্তিযোদ্ধার মিথ্যা অভিযোগের ভিত্তিতে মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয় আমাকে তলব করে। আমাকে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে অভিযুক্ত করা হয়। আমি এখন অসুস্থ। গত ১৪ জুলাই আমি ঢাকার চিটাগাং হোটেলে অবস্থান করাকালে তিন-চারজন বীর মুক্তিযোদ্ধা আমাকে জিম্মি করে হত্যার হুমকি দিয়ে আমাকে বলে যে, ১৫ জুলাই জামুকায় যাচাই-বাছাই অনুষ্ঠানে অস্ত্র ট্রেনিংয়ের কথা বলবেন না। শুধুমাত্র লাঠিসোটা চালানোর ট্রেনিংয়ের কথা স্বীকার করবেন। তা না হলে তোমাকে আমরা মেরে ফেলব। তাদের ভয়ে আমি জামুকায় তাদের শেখানো জবানবন্দি দিয়েছি। আমি নিরুপায় হয়ে এই ভুল তথ্য দিয়েছি। আমার এই ভুলের জন্য আমার গেজেট বাতিল হয়ে যেতে পারে। হুমকিদাতা ওই সহযোদ্ধাদের দায়ের করা অভিযোগ প্রমাণ করতেই হুমকির মুখে আমাকে দিয়ে ভুল জবানবন্দি প্রকাশ করায় তারা। তাই আমি আপনাদের মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছি।
আমি বিষয়টি পার্বতীপুর মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার প্রস্তুতি নিয়েছি। আমি আইনি ব্যবস্থা নেব। আমার বিষয়টি পত্রিকায় প্রকাশ করা দরকার।