ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২১ জুলাই ২০২৫ ২০:৩১ পিএম
আপডেট : ২১ জুলাই ২০২৫ ২১:২৪ পিএম
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ধর্ষণচেষ্টা মামলার এক আসামি পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার পর প্রকৃতির ডাকে সাড়া দেওয়ার কথা বলে পালিয়ে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। রবিবার (২০ জুলাই) রাত ১০টায় ভৈরব পৌর শহরের চণ্ডিবের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
অভিযুক্ত আসামি চণ্ডিবের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সংলগ্ন এলাকার মৃত আতর মিয়ার ছেলে বাবুল মিয়া (৩৫)। এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন ভৈরব থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খন্দকার ফুয়াদ রুহানি।
সোমবার সকালে ভৈরব থানার সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন ভুক্তভোগী নারী ও তার পরিবার। তাদের অভিযোগ, থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রাকিব বিন ইসলাম ২ লাখ টাকা নিয়ে অভিযুক্ত আসামিকে ছেড়ে দিয়েছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৯ জুন কিশোরগঞ্জে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনাল-২-এ বাবুল মিয়ার বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা দায়ের করেন তারই সুমুন্দির স্ত্রী। মামলার কপি ভৈরব থানা পুলিশ হাতে পেলে গত রবিবার রাত ১০টায় অভিযুক্ত বাবুল মিয়াকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় স্থানীয়দের সহযোগিতায় প্রকৃতির ডাকে সাড়া দেওয়ার বাহানায় পালিয়ে যায় বাবুল মিয়া।
ভুক্তভোগী নারী বলেন, গত ১৭ জুন সকালে আমি ঘরে একা ছিলাম। সেই সুযোগে বাবুল জোর করে ঘরে ঢুকে ধর্ষণের চেষ্টা করে। আমি শাশুড়িকে ফোন দিলে তিনি স্থানীয়দের সঙ্গে নিয়ে এসে আমাকে রক্ষা করেন। পরে কিশোরগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা করি।
ভুক্তভোগীর শাশুড়ি নাজমা বেগম বলেন, বাবুল আমার মেয়ের জামাই। সে প্রতিদিন আমাদের পাশের পরিত্যক্ত ঘরে মাদক সেবন ও বিক্রি করত। পুলিশ তাকে টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দিয়েছে। ভুক্তভোগীর স্বামী সুমন মিয়া বলেন, আমি নিজে পুলিশের সঙ্গে থেকে বাবুলকে গ্রেপ্তার করতে যাই এবং পুলিশ তার হাতে হ্যান্ডকাপ পরায়। পরে পুলিশ আমাকে বলে, আমি যেন ফিরে যাই। থানায় গিয়ে তিন ঘণ্টা অপেক্ষার পর জানতে পারি বাবুল পালিয়ে গেছে, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা। পুলিশ তাকে ছেড়ে দিয়েছে।
এ বিষয়ে ভৈরব থানার এসআই রাকিব বিন ইসলামের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি এবং খুদে বার্তারও কোনো জবাব দেননি।
ভৈরব থানার ওসি খন্দকার ফুয়াদ রুহানি বলেন, গ্রেপ্তারের পর আসামি বাবুল প্রকৃতির ডাকে সাড়া দেওয়ার বাহানায় পালিয়ে যায়। তবে টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। বাবুলকে ধরতে পুলিশ তৎপর রয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হবে।