× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

পটুয়াখালী-কুয়াকাটা মহাসড়ক

সড়কের প্রতিটি বাঁক যেন মৃত্যুফাঁদ

আমতলী (বরগুনা) প্রতিবেদক

প্রকাশ : ২১ জুলাই ২০২৫ ১৯:৪৩ পিএম

আপডেট : ২১ জুলাই ২০২৫ ১৯:৫৮ পিএম

সড়কের প্রতিটি বাঁক যেন মৃত্যুফাঁদ

পটুয়াখালী-কুয়াকাটা মহাসড়কের ৩৭ কিলোমিটার পথজুড়ে যেন মৃত্যু ও কান্নার ছায়া। আমতলীর শাখারিয়া থেকে বান্দ্রা পর্যন্ত মহাসড়কের বাঁকে বাঁকে ঘটছে প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা; যা এখন নিত্যদিনের ঘটনায় পরিণত হয়েছে। প্রতিটি বাঁক যেন এক একটি মৃত্যুফাঁদ। এই অংশজুড়ে ১৭টি ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক এতটাই বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে যে, প্রতিদিনই কোনো না কোনো স্থানে সড়ক দুর্ঘটনার খবর মিলছে। প্রায়ই ভারি হয়ে ওঠে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগ। 

গত ছয় মাসে (জানুয়ারি থেকে জুন ২০২৪ পর্যন্ত) এই এলাকায় শতাধিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ১০ জন, আহত হয়েছেন প্রায় ৪৫০ জন। আহতদের মধ্যে শতাধিক ব্যক্তি এখন পঙ্গুত্ববরণ করে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। অথচ এসব দুর্ঘটনা প্রতিরোধে দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। চালক, যাত্রী ও স্থানীয়দের অভিযোগ, উদাসীনতা আর অবহেলাই এ মৃত্যুর মিছিলের জন্য দায়ী।

এসব পরিবারগুলো অর্থনৈতিকভাবে নিঃস্ব হয়ে গেছে বলে জানান ভুক্তভোগী দেলোয়ার হাওলাদার। এর মধ্যে গত ২১ জুন মহাসড়কের কেওয়াবুনিয়া বাঁকে ইকরা লাক্সারি পরিবহন ইজিবাইককে চাপা দিলে একই পরিবারের শিশুসহ চারজন নিহত হয়। গত ১৩ জুলাই চুনাখালী সেতুতে হিমাদ্রী কুণ্ডু নামের একজন মারা গেছে। গত শনিবার সকালে মহিষকাটা বাঁক ঘুরতে গিয়ে হানিফ পরিবহন গাড়ি উল্টে সড়কের পাশে পড়ে যায়। এতে ৫ জন আহত হয়েছে। 

১১ জুলাই আমতলীর ছুটিকাটা বাঁকে ইমরান পরিবহন, অটোরিকশা ও পিকআপের সংঘর্ষ হয়। ওইদিন রাতে মহিষকাটা বাঁকে ইউনিক ও লাবিবা পরিবহনের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ইউনিক পরিবহন খাদে পড়ে যায়। এ দুটি দুর্ঘটনায় বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে কিন্তু কেউ মারা যায়নি। গত ১ জুলাই থেকে শনিবার পর্যন্ত ১৯ দিনে ১২টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এর মধ‌্যে দুজন মারা গেছে।

বরগুনা সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, পটুয়াখালী-কুয়াকাটা মহাসড়কের আমতলী উপজেলার শাখারিয়া থেকে বান্দ্রা ৩৭ কিলোমিটার সড়কের শাখারিয়া, ব্রিকস ফিল্ড, কেওয়াবুনিয়া, মহিষকাটা, চুনাখালী, আমড়াগাছিয়া খানকা, ডাক্তারবাড়ী, ঘটখালী, তুলাতলী, একে স্কুল চৌরাস্তা, ছুরিকাটা, মানিকঝুড়ি, খুড়িয়ার খেয়াঘাট, খলিয়ান, কল্যাণপুর ও বান্দ্রা নামক ১৭টি বাঁকে অহরহ সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এতে দুর্ঘটনা রোধে সড়ক ও জনপথ বিভাগ দুর্ঘটনাকবলিত বাঁকে কার্যকর ব‌্যবস্থা নেয়নি। চালকরা বাঁক ঘুরতে গিয়ে দুর্ঘটনায় শিকার হচ্ছে। ২০২৪ সালে এসব বাঁকের মধ‌্যে পায়রা ফিলিং স্টেশন সংলগ্ন ও ছুরিকাটা বাঁকে সড়ক ও জনপথ বিভাগ সড়ক সিগন্যাল বাতি স্থাপন করেছিল কিন্তু অল্প দিনের মধ‌্যেই নষ্ট হয়ে যায়। ওই বাতি সংস্কারের কোন উদ্যোগ নেই।

সরেজমিন দেখা গেছে, সড়কের পায়রা ফিলিং স্টেশনের সামনে ও ছুরিকাটা নামক স্থানে সিগন্যাল লাইট রয়েছে। কিন্তু তার মধ‌্যে একটি অকেজো হয়ে গেছে। এ ছাড়া সড়কের আর কোথায় সিগন্যাল বাতি নেই। বাঁকে বাঁকে কিছু সিগন্যাল সাংকেতিক চিহ্ন থাকলেও তা অস্পষ্ট। দূর থেকে গাড়ি চালকরা দেখতে পারছে না বলে জানান কয়েকজন চালক।

খুড়িয়ার খেয়াঘাট এলাকার আমিনুল ইসলাম বলেন, খুড়িয়ার খেয়াঘাটের বাঁকটি খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। এ বাঁকটিতে কোনো সাংকেতিক চিহ্ন নেই। প্রতিদিন এখানে ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটেই থাকে। এ দুর্ঘটনা রোধে বাঁক সংস্কার করে সাংকেতিক চিহ্ন ব্যবহার করা প্রয়োজন।

বাংলাদেশ নিরাপদ সড়ক আন্দোলন বরগুনা শাখার সভাপতি সোহেল তানভির বলেন, অবশ্যই এসব ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক চিহ্নিত করে সড়ক দুর্ঘটনা রোধে ব‌্যবস্থা নেয়ার দায়িত্ব সওজের। কিন্তু এ ক্ষেত্রে সড়ক ও মহাসড়কেরই সওজের উদাসীনতা পরিলক্ষিত হচ্ছে। ফলে প্রায়ই সড়কে প্রাণ ঝরছে।

বিআরটিসি গাড়িচালক রহমত আলী বলেন, সড়কের বাঁকে বাঁকে সিগন্যাল বাতি নেই; যা আছে সেগুলোও অকেজো। সিগন্যাল বাতি না থাকায় বাঁকে সড়ক দুর্ঘটনা বেশি ঘটে। পটুয়াখালী-কুয়াকাটা মহাসড়কের বাঁকের শেষ নেই। কিন্তু দুইটি স্থানে সিগন্যাল বাতি রয়েছে, তারও একটি নষ্ট।

বরগুনা সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী কুমারেশ বিশ্বাস বলেন, মহাসড়কের বাঁকগুলোর কয়েকটি স্থানে সিগন্যাল বাতি স্থাপন করা হয়েছে। কিছু বাকি স্থানগুলোতে বাতি স্থাপন করা হলে সমস‌্যা থাকবে না। তিনি আরও বলেন, মুছে যাওয়া চিহ্নগুলো পুনঃনির্মাণ করা হবে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা