নড়াইল
নড়াইল প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২১ জুলাই ২০২৫ ১৮:৩১ পিএম
মলয় মিত্র।
নড়াইল সদর উপজেলার প্রাণিসম্পদ অফিসে কর্মরত এ.আই. টেকনিশিয়ান মলয় মিত্রের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলা, দুর্ব্যবহার ও অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের একের পর এক অভিযোগ উঠছে।
স্থানীয় খামারিরা বলছেন, একজন সরকারি কর্মকর্তা হয়েও তিনি বেসরকারি ‘দাম্ভিক ডাক্তার’-এর মতো আচরণ করছেন। সময়মতো সেবা না দেওয়া, ফোনে সাড়া না দেওয়া এবং প্রয়োজনীয় সরকারি সেবা পেতে ঘুরপাক খেতে হচ্ছে সেবা প্রত্যাশীদের। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক খামারি জানান, গরু গরমকাল এলে বারবার ফোন দিয়েছি, ধরেননি। পরে একজন চেয়ারম্যান সাহেবের রেফারেন্সে গেলে সাড়া দেন, আর সঙ্গে সঙ্গেই টাকা চেয়ে বসেন!
স্থানীয়দের অভিযোগ, গরুর কৃত্রিম প্রজননসহ বিভিন্ন সেবার ক্ষেত্রে সরকারের পক্ষ থেকে বিনামূল্যে সেবা দেওয়ার কথা থাকলেও সেগুলোর পেছনেও ‘আনঅফিসিয়াল ফি’ আদায় করেন মলয় মিত্র। নির্ধারিত সময়ের বাইরে এসে অনীহা ভরে কাজ করেন তিনি। দরিদ্র খামারিদের প্রতি তার আচরণ আরও অমানবিক বলে জানান।
এই বিষয়ে জানতে মলয় মিত্রের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। প্রথমে ফোন রিসিভ করলেও সাংবাদিক পরিচয় জানার পর তিনি কল কেটে দেন। পরবর্তীতে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি আর রিসিভ করেননি।
নড়াইল সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা দেবাশীষ কুমার কুন্ডু বলেন, এখনও লিখিত কিছু না পেলেও বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছি। সরকারি সেবায় কারও অবহেলা থাকলে প্রয়োজনীয় বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সরকার যেখানে কৃষি ও প্রাণিসম্পদ খাতকে আধুনিক ও কার্যকর করার লক্ষ্যে কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ করছে, সেখানে একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার এমন আচরণ জনসেবার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা ছাড়া কিছু নয় বলে মনে করছে সচেতন মহল। তারা মলয় মিত্রের বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর ও জেলা প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন।