রেজাউল করিম, গাজীপুর
প্রকাশ : ১৯ জুলাই ২০২৫ ২০:১৬ পিএম
আপডেট : ১৯ জুলাই ২০২৫ ২১:১৭ পিএম
জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের ত্রয়োদশ মৃত্যুবার্ষিকী ছিল গতকাল শনিবার। নন্দনকাননের নুহাশপল্লীতে এ উপলক্ষে তার স্বজন ও শুভানুধ্যায়ীরা লেখককে স্মরণ করলেন গভীর শ্রদ্ধায়। শনিবার (১৯ জুলাই) সকাল থেকেই নুহাশপল্লীতে আসতে শুরু করেন ভক্ত, কবি, লেখক ও সাধারণ মানুষ।
গাজীপুরের পিরুজালির বাগানবাড়ি নুহাশপল্লীর লিচুতলায় সকালে লেখকের স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওন, দুই পুত্র নিনিত ও নিষাদ হুমায়ূনের উপস্থিতিতে কবর জিয়ারত করা হয়। এ সময় হুমায়ূন আহমেদের শুভানুধ্যায়ী ও ভক্তরা উপস্থিত ছিলেন। লেখকের আত্মার শান্তি কামনায় প্রার্থনা করা হয়। আয়োজন করা হয় কুরআনখানি ও মিলাদ মাহফিলের।
প্রতিবারের মতো এবারও হুমায়ূন পরিবার, তার ভক্ত, কবি, লেখক আর নাট্যজনরা ফুল হাতে শ্রদ্ধা জানাতে ভিড় করেন নুহাশপল্লীর লিচুতলায়। নন্দিত লেখকের প্রিয় চরিত্র হলুদ পাঞ্জাবিতে হিমু এবং নীল শাড়িতে রূপা সেজে আসেন ভক্ত ও পাঠকরা। তারা লেখকের প্রতি অতল শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার কথা জানান।
হুমায়ূন আহমেদের স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওন বলেন, ‘খুব শিগগিরই পেঙ্গুইন পাবলিকেশন থেকে আমরা হুমায়ূন আহমেদের বই প্রকাশ দেখতে পাব। বিভিন্ন ভাষায় হুমায়ূন আহমেদের লেখা উপন্যাস অনুবাদ হচ্ছে। এটি আমার কাছে খুব বড় মনে হয়। তার লেখাগুলো বিশ্বে ছড়িয়ে যাক। তার উত্তরসূরিরা যদি লেখেন সেটা স্বপ্নের মতো হবে। আমি জানি না, কেউ লিখছে কি না বা লেখেন কি না। তবে আমার ছেলেরা এখনও লেখালেখি শুরু করেনি।’
তিনি আরও বলেন, ‘নুহাশপল্লীর সৌন্দর্য হচ্ছে গাছপালা। হুমায়ূন আহমেদ এটি গড়েছিলেন গাছপালা দিয়েই। নুহাশপল্লীর সৌন্দর্য নষ্ট হয়নি। ছবির কোনো শুটিং না হওয়ায়, নতুন করে কোনো কিছু করা হয় না। তবে হুমায়ূন আহমেদ যা রেখে গেছেন তা যত্ন করে রাখা। আর নতুন গাছ পেলেই প্রতিবছর লাগিয়ে থাকি। কোনো একটা মিনার বা স্মৃতিসৌধ এটা বানিয়ে স্মৃতি ধরে রাখা যায় বলে আমি মনে করি না। আসলে স্মৃতি থাকে মনে। তাই মনে করি, নুহাশপল্লী আগের থেকে বেশি জৌলুসে ভরা।’
ভক্তরা জানান, এই লেখক ৫০ বছর ধরে বাঙালি পাঠক সমাজকে আনন্দ দিয়েছেন এবং বাংলা ভাষা যতদিন থাকবে ততদিন হুমায়ূন আহমেদ পঠিত হবে। হুমায়ূন আহমেদের লেখা আমাদের হাসায়, কাঁদায়, গভীর কোনো জগতে হারিয়ে নিয়ে যায়। এই নুহাশপল্লীতে প্রবেশ করলেই লেখকের বইয়ের পৃষ্ঠার চিত্র ভেসে ওঠে। তিনি এখন নেই কিন্তু তার সৃষ্টিশীল কর্মের মাধ্যমে এ দেশের সব ভক্ত ও অনুরাগীর হৃদয়ে চিরকাল বেঁচে থাকবেন।
উল্লেখ্য, ১৯৪৮ সালের ১৩ নভেম্বর নেত্রকোণার কেন্দুয়া উপজেলার কুতুবপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন নন্দিত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ। তার বাবা ফয়েজুর রহমান ও মা আয়েশা ফয়েজ। ২০১২ সালে ১৯ জুলাই মরণব্যাধি ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে তিনি নিউইয়র্কের একটি হাসপাতালে মারা যান।