সীতাকুণ্ড
আশরাফ উদ্দিন, সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম)
প্রকাশ : ১৮ জুলাই ২০২৫ ১৭:৩৯ পিএম
আপডেট : ১৮ জুলাই ২০২৫ ১৮:১২ পিএম
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সীতাকুণ্ড অংশ যেন এখন আর শুধু যাতায়াতের রাস্তা নয়, বরং হয়ে উঠেছে ইট-বালুর অবৈধ ব্যবসার প্রাণকেন্দ্র। মহাসড়কের দুই পাশ জুড়ে চলেছে ইট, বালু ও কংক্রিটের জমা রাখা, ইট ভাঙার মেশিন বসানো এবং যানবাহন লোড-আনলোডের কাজ। ফলে ব্যাহত হচ্ছে যানবাহন চলাচল, ঝুঁকিতে পড়েছে পথচারীরা।
সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, দেওয়ান দীঘি, ইদিলপুর, শেখপাড়া, বায়তুশ শরফ, উত্তর বাইপাস, ছোট দারোগারহাট, দোয়াজীপাড়া, শুকলাল হাট ও সিরাজ ভূঁইয়া রাস্তার মাথাসহ অন্তত ৩০টি স্থানে মহাসড়কের দুই পাশে গড়ে উঠেছে ইট-বালুর ব্যবসা। সড়কের ফুটপাত দখল করে এমন বাণিজ্য কোনোভাবেই বৈধ নয়, তবুও আইনের কোনো তোয়াক্কা না করেই চলছে এ ব্যবসা।
কুমিরা ও বারআউলিয়া হাইওয়ে পুলিশের তথ্য সূত্রে জানা যায়, পথচারীদের হাঁটার জায়গা না থাকায় স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা পর্যন্ত বাধ্য হয়ে চলাচল করছে মহাসড়কের মূল অংশে। এ অবস্থায় একের পর এক ঘটছে দুর্ঘটনা। গত ছয় মাসে সীতাকুণ্ড এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেছে অন্তত ২০ জনের। গত ১৯ মে শেখপাড়ায় মালবাহী ট্রাকের পেছনে কাভার্ডভ্যানের ধাক্কায় একজন নিহত হন। ১৯ সেপ্টেম্বর ছোট দারোগারহাটে বাস ও ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত হন একজন, আহত হন আরও সাতজন। ২৩ মার্চ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় একটি ট্রাক ইউনিক কাউন্টারে ঢুকে একজনকে গুরুতর আহত করে।
সীতাকুণ্ড-কুমিরা অংশে গত কয়েক বছরে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে কমপক্ষে ৪০ জনের। পথচারীদের অভিযোগ, ফুটপাত না থাকায় এবং ইট-বালু স্তূপ করে রাখার কারণে তারা বাধ্য হয়ে মহাসড়কে উঠে হাঁটেন, এতে ঘটছে প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা।
একজন লরিচালক মো. জাবেদ হোসেন বলেন, হাইওয়ে পুলিশ অনেক সময় তদারকির চাইতে চাঁদাবাজিতে বেশি ব্যস্ত থাকেন। ফুটপাত দখলের বিষয়টা তাদের চোখে পড়ে না, সেটা ভাবতেই অবাক লাগে।
স্থানীয়রা বলছেন, রাজনৈতিক ছত্রছায়া এবং প্রভাবশালীদের কারণে কেউ প্রতিবাদ করতে সাহস পান না। শুধু ইট-বালুর ব্যবসায়ী নয়, হোটেল-দোকানদারসহ অনেকেই নিজেদের গাড়ি, স্কেবেটর, মালপত্র রেখে দীর্ঘদিন ধরে মহাসড়কের জায়গা দখলে রেখেছেন।
এ প্রসঙ্গে সীতাকুণ্ড পৌর বাসস্ট্যান্ডের পাশে ইট-বালু ব্যবসায়ী মো. আনোয়ারুল আজিম বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে আমরা এখানে ব্যবসা করছি। মালামাল মূল সড়কের নিচে রাখা হলেও কিছু কিছু জিনিস সরিয়ে নেওয়া হবে।’
এদিকে সড়ক ও জনপথ বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মোহাম্মদ ফারহান আহমেদ জানান, আমরা নোটিস দিয়েছি। তবে বিষয়টি হাইওয়ে পুলিশের দেখার কথা।
এ বিষয়ে কুমিরা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর আলম জানান, মহাসড়কের পাশে ইট-বালুর ব্যবসার বিষয়ে আমি কিছু জানি না। যারা ব্যবসা করছে, তাদের সঙ্গে কথা বলেন।