আশরাফুল ইসলাম কহিনুর, হবিগঞ্জ
প্রকাশ : ১৬ জুলাই ২০২৫ ০৯:০৮ এএম
মামলার বিচার হয়নি, সাজাও হয়নি, তবু হবিগঞ্জের কনু মিয়ার কারাগারে কেটেছে ৩০ বছর ২ মাস ১৯ দিন। অবশেষে কারাগার থেকে মুক্ত হয়েছেন তিনি। গতকাল মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে হবিগঞ্জ জেলা কারাগার থেকে তিনি মুক্ত হন। প্রায় তিন দশক পর মুক্ত আকাশ আর আলো-বাতাস দেখতে পেয়ে আপ্লুত কনু মিয়া।
জেলার লাখাই উপজেলার সিংহগ্রামের মৃত চিনি মিয়ার ছেলে কনু মিয়া। তিনি মানসিক প্রতিবন্ধী। হবিগঞ্জ জেলা কারাগারের ডেপুটি জেলার সাইফুল ইসলাম বলেন, আদালতের জামিনের আদেশ পেয়ে কনু মিয়াকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। মুক্তির পর তার ভাইয়েরা এসে তাকে নিয়ে গেছেন।
জানা গেছে, যুবক কনু মিয়া ছিলেন মানসিক রোগী। ১৯৯৫ সালের ২৫ মে জন্মদাত্রী মা মেজেষ্টর বিবিকে কোদাল দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেন কনু মিয়া। পরে গ্রামবাসী তাকে আটক করে পুলিশে দেয়। পরদিন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন কনু মিয়া। তারপর থেকে কনু মিয়ার জেলজীবন শুরু। এক দুই বছর নয়, একাধারে ৩০ বছর ২ মাস ১৯ দিন কেটেছে কারাগারে।
প্রথমে ভাই স্বজনরা কনু মিয়াকে দেখতে কারাগারে গেলেও একটা সময় আর যাওয়া হয়নি। ৩০ বছরের পরবর্তী প্রজন্মের অনেকে জানেন না সিংহগ্রামে মৃত চিনি মিয়ার এক ছেলে আছে, যার নাম কনু মিয়া, সেই কনু মিয়া এখনও জীবিত।
পরিবার আত্মীয়স্বজন যখন কনু মিয়াকে ভুলতে বসেছেন ঠিক সেই সময় এ বিষয়টি নজরে আসে হবিগঞ্জের জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার (সিনিয়র সহকারী জজ) মুহাম্মদ আব্বাছ উদ্দিনের। তিনি কনু মিয়ার আইনগত প্রতিকার পাওয়ার উদ্যোগ নেন। মেজেষ্টর বিবি হত্যা মামলার বাদী কনু মিয়ার ভাই মনু মিয়ার সন্ধান পান তিনি। একই সঙ্গে মনু মিয়ার আরেক ভাই নাসু মিয়ার খোঁজ নিয়ে তাদেরকে লিগ্যাল এইড অফিসে নিয়ে আসেন।
কনু মিয়ার জামিনের জন্য সরকারিভাবে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে জেনে আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়েন মনু মিয়া ও নাসু মিয়া। তারা কনু মিয়ার মুক্তির জন্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করার আশ্বাস দেন।
হত্যা মামলার একমাত্র আসামি কনু মিয়া মানসিক রোগে আক্রান্ত হওয়ায় হাইকোর্টের নির্দেশে মামলার বিচারিক কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে বলে জানা যায়। মানসিক রোগে আক্রান্ত আসামির জামিন হলে তার নিরাপত্তা, তার দ্বারা আর যাতে কেউ আক্রান্ত না হয়, তার প্রাথমিক নিশ্চয়তা, খাদ্য বাসস্থানের নিশ্চয়তা, কোর্টের নির্দেশমতো আসামিকে হাজির করা ইত্যাদি বিষয় সম্পৃক্ত থাকায় বিষয়টি নিয়ে লিগ্যাল এইডের প্যানেলভুক্ত আইনজীবী অ্যাডভোকেট এমএ মজিদের সঙ্গে কথা বলেন মুহাম্মদ আব্বাছ উদ্দিন।
সার্বিক দিক বিবেচনায় গত সোমবার হবিগঞ্জের জেলা ও দায়রা জজ আদালতে কনু মিয়ার জামিন আবেদন করেন অ্যাডভোকেট এমএ মজিদ। জেলা ও দায়রা জজ জেসমিন আরা বেগম কনু মিয়ার জামিন মঞ্জুর করেন।
লিগ্যাল এইডের আইনজীবী এমএ মজিদ জানান, দীর্ঘদিন পর হলেও জামিনে মুক্ত হয়েছেন কনু মিয়া। যা নিয়ে তার স্বজনরা উচ্ছ্বসিত। জামিন পাওয়ার পর তার দুই ভাই তাকে নিয়ে গ্রামের বাড়িতে গেছেন। তারা সবাই আবেগে আপ্লুত।