× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

প্রতিবছরই চলে ভাঙন আর মেরামতের খেলা

আবদুল্লাহ আল-মামুন, ফেনী

প্রকাশ : ১৫ জুলাই ২০২৫ ০৯:৩৩ এএম

আপডেট : ১৫ জুলাই ২০২৫ ১৫:২৭ পিএম

প্রতিবছরই চলে ভাঙন আর মেরামতের খেলা

বছরের পর বছর ফেনীর হাজার হাজার পরিবারের করুণ দশার কারণ মুহুরী, কহুয়া ও সিলোনিয়া নদী রক্ষা বাঁধের ভাঙন। প্রতিবছরই ভাঙে এসব বাঁধ। প্রতিবছর মেরামত হলেও মেলে না স্থায়ী সমাধান। প্রতিবারই আশ্বাস দিয়ে দায় এড়িয়ে যান সংশ্লিষ্টরা। ২০১৭ সাল থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৭ কোটির বেশি টাকা গচ্চা গেছে শুধু মেরামতেই। ২০২৪-এর ভয়াবহ বন্যার বছর না যেতেই আবারও একই দশা। বাঁধ ভেঙে এখনও জনপদে ঢুকছে পানি।

গত ৭ জুলাই রাত থেকেই শুরু হয় ভাঙন। গ্রামের পর গ্রাম তলিয়ে যায়, পানিবন্দি হয় ১১২টি গ্রামের হাজার হাজার মানুষ। পানি নেমে যেতেই ফুটে উঠেছে ফেনীর উত্তরের উপজেলা ফুলগাজী, পরশুরাম, ছাগলনাইয়া ও সদরের শত শত পরিবারের করুণ চিত্র। দৃশ্যমান হচ্ছে ক্ষতচিহ্ন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মুহুরী, কহুয়া ও সিলোনিয়া নদী প্রতিবছর এই জনপদের লাখো পরিবারের জন্য দুঃখ নিয়ে আসে। অথচ এসব নদীর আগ্রাসন থেকে রক্ষায় ২০০৪-০৫ অর্থবছরে ১৩৭ কোটি টাকা ব্যয়ে ১২২ কিলোমিটার অংশে মাটি দিয়ে দীর্ঘ বাঁধ নির্মাণ শুরু করে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। ২০১১ সালে বাঁধের নির্মাণকাজ শেষ হলে পরের কয়েক বছর বন্যামুক্ত ছিল স্থানীয়রা।

কিন্তু ২০১৩ সালে বাঁধের ৩ স্থানে ভেঙে যায়। পরে তা মেরামত করা হয়। এরপর প্রতিবছর ভাঙে বাঁধের বিভিন্ন স্থান। ফলে প্রতিবছর পড়তে হয় বন্যার কবলে। ভোগান্তি পোহাতে হয় প্রতি বর্ষা মৌসুমে। ক্ষতি ছাড়িয়ে যায় কোটি টাকার।

হিসাব বলছে, ২০১৭ সাল থেকে প্রতিবছর ভাঙনে সাড়ে ৭ কোটির বেশি টাকা খরচ হয়েছে বাঁধ মেরামতে। অথচ কোনো সংস্কারই টেকসই হয়নি।

পাউবোর তথ্য মতে, ২০১৭-১৮ সালে ৭টি ভাঙন মেরামতে ব্যয় হয় ৩৯ লাখ ১২ হাজার টাকা, ২০১৮-১৯ সালে ২২টি মেরামতে ১ কোটি ৬৯ লাখ ২০ হাজার টাকা, ২০১৯-২০ সালে ১৫টি মেরামতে ২৯ লাখ ৮৩ হাজার টাকা, ২০২০-২১ সালে ৮টি মেরামতে ১ কোটি ১৫ লাখ টাকা, ২০২১-২২ সালে ১৫টি ভাঙন স্থান মেরামতে ব্যয় ১ কোটি ৬১ লাখ টাকা, ২০২২-২৩ সালে ৬টি ভাঙন স্থান মেরামতে ৭১ লাখ টাকা ও ২০২৩-২৪ সালে ৯টি ভাঙন স্থান মেরামতে ১ কোটি ৩৩ লাখ টাকা ব্যয় হয়। তবুও শুধু ২০২৪ সালের ভয়াবহ বন্যায় জেলার বিভিন্ন খাতের ক্ষতি হয় ৩ হাজার কোটি টাকার বেশি। তাই স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবি এলাকাবাসীর।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বেড়িবাঁধ সংস্কারে বিভিন্ন পর্যায়ে দুর্নীতি হচ্ছে। এ কারণে সুফল মিলছে না। এ ছাড়া পাউবোর কর্মকর্তারা ঠিকভাবে মাঠপর্যায়ে কাজ করেন না। প্রতিবছর বন্যায় বাঁধের কী পরিমাণ স্থান ভাঙতে পারে, পানি উন্নয়ন বোর্ড তা আগ থেকে নির্ধারণ করে ব্যবস্থা নেয় না। মাঠপর্যায়ে কর্মকর্তারা যদি নিয়মিত বাঁধের স্থানগুলো পরিদর্শন করে ঝুঁকিপূর্ণ স্থান নির্ধারণ করতেন, তাহলে বন্যার আগে স্থানীয় লোকজন সতর্ক হতে পারত। জানমালের ক্ষতি কমত।

মুহুরী নদীর বাঁধ সংলগ্ন বাসিন্দা আবদুল হক বলেন, আমার মনে পড়ে না, কখনও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্তারা এসে বাঁধ দেখে গেছেন। শুধু বাঁধ ভেঙে বন্যা হলে পাউবোর কর্মকর্তারা এসে হাঁকডাক ছাড়েন।

পরশুরামের বাসিন্দা আবু ইউসুফ বলেন, প্রতিবছর বাঁধের সংস্কার কাজ করলেও টেকসই হয় না। সংস্কারের পরও বাঁধের একই স্থান বার বার ভাঙছে। বাঁধ সংস্কারে দুর্নীতির কারণেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না। বন্যার আগে বাঁধের ঝুঁকিপূর্ণ স্থান নির্ণয় করে ব্যবস্থা গ্রহণ কিংবা বন্যা-পরবর্তী বাঁধের সংস্কার কাজের গুণগত মান যাচাই করা বোর্ডের কর্মকর্তাদের দায়িত্ব। অথচ সেই দায়িত্ব তারা পালন করছেন না।

ফেনীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ইসমাইল হোসেন বলেন, টানা বর্ষণে সৃষ্ট বন্যায় বাঁধের কতগুলো স্থান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তার তথ্য পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে জেলা প্রশাসনকে যেভাবে দেওয়া হয় সেভাবে প্রশাসন গণমাধ্যমকে সরবরাহ করে।

গাফিলতির কথা অস্বীকার করে ফেনী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আকতার হোসেন মজুমদার বলেন, পানি থাকায় ভাঙনের প্রকৃত চিত্র পাওয়া যায়নি। আগে শুধু ভাঙনস্থলের সংখ্যা জানতে পেরেছি। শুক্রবার থেকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা সরেজমিন ঘুরে ভাঙনের চূড়ান্ত পরিসংখ্যান দিয়েছেন। সেজন্য ৪ দিন ধরে ২০টি ভাঙনের তথ্য থাকলেও এখন বেড়ে হয়েছে ৩৬টি।

এদিকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজম গত শনিবার বন্যা পরিস্থিতি পরিদর্শনে এসে বলেন, মুহুরী ও কহুয়া নদীর দুই তীরের ১২২ কিলোমিটার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের পুরোটাই ঝুঁকিপূর্ণ। তাই ৭,৩৪০ কোটি টাকার নতুন প্রকল্প সেনাবাহিনীকে দিয়ে বাস্তবায়ন করার কথা ভাবছে সরকার।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা