আতিফ রাসেল (ভূঞাপুর) টাঙ্গাইল
প্রকাশ : ১৫ জুলাই ২০২৫ ০৯:৩০ এএম
আপডেট : ১৫ জুলাই ২০২৫ ০৯:৩০ এএম
ঢাকার সঙ্গে উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগ সহজতর করার জন্য চালু হয়েছে টাঙ্গাইলে যমুনা নদীর ওপর রেলসেতু। কিন্তু সেতু চালু হওয়ার পর এখনও কাঙ্ক্ষিত সুফল পাচ্ছেন না উত্তরাঞ্চলের রেল যাত্রীরা।
এ রেলসেতু তৈরির লক্ষ্য ছিল রাজধানী ঢাকাসহ রেলের পূর্বাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চলের মধ্যে নিরবচ্ছিন্ন ট্রেন চলাচল সম্ভবপর করা। এতে রেল যোগাযোগে আমূল পরিবর্তন আসবে। জাতীয় অর্থনীতিতে বাড়বে রেলের অবদান। কিন্তু দেখা যাচ্ছে জয়দেবপুর থেকে ঈশ্বরদী পর্যন্ত রেললাইন সিঙ্গেল লেন হওয়ায় যমুনা রেলসেতুর পুরো সুফল পাওয়া যাচ্ছে না। যাত্রীরা এ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
রেল সূত্রে জানা যায়, জয়দেবপুর রেলস্টেশন থেকে যমুনা সেতুর পূর্ব ইব্রাহিমাবাদ এবং পশ্চিম প্রান্ত সয়দাবাদ থেকে ঈশ্বরদী পর্যন্ত রেলপথ এখনও সিঙ্গেল লেন। এই গুরুত্বপূর্ণ রেললাইনকে ডুয়াল গেজ ডাবল লাইনে রূপান্তরের জন্য একটি প্রকল্প বিগত দিনে অনুমোদন দেওয়া হয়। কিন্তু এ প্রকল্প বাস্তবায়নে জটিলতা ও ধীরগতি ভর করেছে।
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ১৬ হাজার ৭৮১ কোটি টাকা ব্যয়ে দেশের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ ও দীর্ঘতম যমুনা রেলসেতু গত ১৮ মার্চ চালু হয়। এতে দেশের উত্তর-দক্ষিণ ও পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে ঢাকার রেল যোগাযোগ অধিকতর সহজ করে তুলেছে। রেলসূত্র জানিয়েছে, ৪.৮ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এই সেতু দিয়ে সর্বোচ্চ ১২০ কিলোমিটার গতিতে মাত্র ৩ মিনিটেই একটি ট্রেন সেতু পার হতে পারবে। দিনে প্রায় ৮৮টি ট্রেন চলাচল করতে পারবে। সূত্র জানায়, তবে এখন ৩২টি ট্রেন যমুনা রেলসেতু দিয়ে চলাচল করলেও নির্ধারিত সময়ে অনেক ট্রেন চলতে পারছে না।
এই অবস্থায় উত্তরাঞ্চলের মানুষ হতাশ। তারা আশা করছিলেন দ্রুত, নিরাপদ ও সাশ্রয়ী রেল যোগাযোগের জন্য। সেটা সম্ভব হচ্ছে না ডুয়াল গেজ ডাবল লাইন বাস্তবায়ন না হওয়ায়।
নীলফামারীর যাত্রী আব্দুর রব বলেন, সেতু হয়েছে। কিন্তু পূর্ণ সুবিধা পাচ্ছি না। বাকিসব ট্রেন আগের মতোই দাঁড়িয়ে থাকে। এতে সময় নষ্ট হয়। আমরা চাই দ্রুত ডাবল লাইন হোক, যাতে সেতুর পুরো সুবিধা পাই।
দুলাল মিয়া ও জাহাঙ্গীর আলম ইব্রাহিমাবাদ রেল স্টেশনের দীর্ঘ সময় ধরে অপেক্ষা করছিলেন। তারা বলেন, ট্রেন আছে। সেতুও আছে। কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছাতে সেই আগের মতোই দেরি হচ্ছে। একটি ট্রেন আসলে আরেকটি যেতে পারে না। শুধু সেতু পার দিয়ে কি হবে।
এ ব্যাপারে ইব্রাহিমাবাদ রেল স্টেশন মাস্টার সোহেল খান বলেন, সেতুর দুপাশেই ডাবল লাইন না থাকায় রেল সেতুর পুরো সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে না। একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কোনো কারণে আটকে আছে। আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানাব, যাতে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হয়।