অরুপ রতন, বগুড়া
প্রকাশ : ১৩ জুলাই ২০২৫ ১২:০৪ পিএম
বগুড়ার সারিয়াকান্দির জয়পুরপাড়া পশ্চিমপাড়ার আদুরী আক্তার। সে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ সাড়ে ৪ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে। কিন্তু কাঙ্ক্ষিত এ ফল আর দেখা হয়নি তার। এক মাস আগেই ১০ জুন বাঙালি নদীতে ডুবে মারা যায় আদুরী। মায়ের কাঁধে ভর করে শেষযাত্রা হলেও, মেধাবী মেয়েটির ফলাফলে আজও গর্বে চোখ ভিজে যায় বাবা-মায়ের।
রিকশাচালক মকবুল হোসেন ও গৃহিণী হালিমা বেগমের তিন সন্তানের মধ্যে আদুরী ছিল সবার ছোট। ক্যাপ্টেন মাল্টিমিডিয়া পাবলিক স্কুল থেকে এবার সে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। বিস্ময়করভাবে তার জন্ম, মৃত্যু ও ফল প্রকাশÑ তিনটিই ঘটে একই তারিখে, সেটি হলো ১০ তারিখ।
গতকাল শনিবার সকালে কাঁদতে কাঁদতে আদুরীর মা হালিমা বেগম বলেন, ‘আমার ময়না পাস করেছে, কিন্তু সে আর পৃথিবীতে নেই। মেয়েটার জন্ম ১০ তারিখে, মরেও গেল ১০ তারিখেই। কাকতালীয়ভাবে ফলও বের হলো ১০ তারিখে। কত স্বপ্ন ছিল ওকে নিয়েÑ পুলিশ হবে বলত। আজ সব শেষ।’
জানা গেছে, বান্ধবী রত্নার বিয়েতে যোগ দিতে ১০ জুন আদুরী গিয়েছিল সারিয়াকান্দির দিঘলকান্দির তরফদারপাড়ায়। বিকালে গরমের কারণে বাঙালি নদীতে গোসল করতে নামে আদুরী ও তার কয়েকজন বান্ধবী। এ সময় পানির স্রোতের টানে তলিয়ে যায় সে। বান্ধবীরা খুঁজে না পেয়ে ফায়ার সার্ভিসে খবর দেয়। কিছুক্ষণ পরই উদ্ধার হয় আদুরীর নিথর দেহ।
আদুরীর বাবা মকবুল হোসেন বলেন, ‘মেয়ের বিয়ের কথা বলেছিলাম। ও বলত, ‘বাবা, আগে চাকরি করব, তারপর বিয়ে করব।’ রেজাল্ট বের হলোÑ আমার মেয়ে পাস করেছে, কিন্তু ও তো নেই। আমি কবরের পাশে দাঁড়িয়ে শুধু বলেছি, ‘তুই পাস করেছিস মা।’ চোখের পানি আর দোয়ার সঙ্গেই ওকে বলেছি এই খবর।’
আদুরীর বড় বোন সোহাগী বলেন, ‘আমরা ছিলাম বন্ধুর মতো। ওর প্রতিটি স্বপ্নে আমি পাশে ছিলাম। আজ আমি একা কথা বলি, একা কাঁদি, একা হাসি; শুধু ওর কিছু জামাকাপড় আর স্মৃতি আঁকড়ে ধরে বেঁচে আছি।’
ক্যাপ্টেন মাল্টিমিডিয়া পাবলিক স্কুলের প্রধান শিক্ষক দীপঙ্কর দাস খোকন বলেন, ‘আদুরী ছিল অত্যন্ত মেধাবী ও শান্তশিষ্ট। বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ৪.৫০ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে সে। তার মতো সম্ভাবনাময় ছাত্রীকে হারিয়ে আমরা গভীরভাবে শোকাহত।’