খানসামা (দিনাজপুর) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১২ জুলাই ২০২৫ ২২:৫৮ পিএম
আপডেট : ১২ জুলাই ২০২৫ ২৩:০৮ পিএম
দিনাজপুর-৪ আসনে বিএনপির দলীয় মনোনয়নকে ঘিরে অভ্যন্তরীণ কোন্দল চরমে উঠেছে। এরই জেরে শুক্রবার (১১ জুলাই) রাতে খানসামার ভাবকী ইউনিয়নের কাচিনীয়া বাজারে কর্নেল (অব.) মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরীর অনুসারীদের ওপর প্রতিপক্ষ গ্রুপের নেতাকর্মীরা অতর্কিত হামলা চালায়।
এতে অন্তত ২৫ জন আহত হন, ভাঙচুর করা হয় ৫০টির বেশি মোটরসাইকেল। এরপর পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন সেনাবাহিনী ও থানা পুলিশ সদস্যরা।
উপজেলা বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কর্নেল (অব.) মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরীর অনুসারী ও ভাবকী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হিসেবে সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে আব্দুল জলিল শাহ ইউনিয়নের তিনটি স্থানে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষিত ৩১ দফা প্রচারের জন্য সভা আয়োজনের ঘোষণা দেন। তবে এ নিয়ে বিরোধ দেখা দেয় সাবেক সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য আখতারুজ্জামান মিয়া গ্রুপের নেতাকর্মীদের সঙ্গে।
তারা দাবি করেন, আব্দুল জলিল শাহ সাবেক সভাপতি এবং বর্তমানে তিনি উপজেলা আহ্বায়ক কমিটির সদস্য। আহ্বায়ক হিসেবে ইউনিয়ন বিএনপির নেতৃত্বে আছেন মিয়া গ্রুপের অনুসারী নাসির উদ্দিন ও যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে রয়েছেন সেলিম শাহ, মিজানুর রহমান ও তহিদুল ইসলাম তহি।
এই বিরোধের জেরে শুক্রবার দুপুরে উপজেলা বিএনপির সদস্য আব্দুল জলিল শাহ ও ওয়ার্ড বিএনপি নেতা আশরাফ আলী মারধরের শিকার হন। পরে তারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হন।
ঘটনার প্রতিবাদ জানাতে সন্ধ্যায় কাচিনীয়া বাজারে এক প্রতিবাদ সভার আয়োজন করে কর্নেল গ্রুপ। এতে অংশ নেন মনোনয়ন প্রত্যাশী কর্নেল (অব.) মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী, জেলা বিএনপির সহসভাপতি ও উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মিজানুর রহমান চৌধুরী, ইউপি চেয়ারম্যান আবু বকর সিদ্দিক চৌধুরী, জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য শাহরিয়ার জামান শাহ নিপুণসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
সভা শেষে মিয়া গ্রুপের অনুসারীরা কর্নেল গ্রুপের নেতাকর্মীদের ওপর অতর্কিতে হামলা চালায়। এতে উপজেলা বিএনপির সদস্য মহসীন আলী শাহ, ছাত্রদল নেতা মেহেদী হাসান মানিকসহ অন্তত ২০ জন গুরুতর আহত হন এবং প্রায় ৫০টি মোটরসাইকেল ব্যাপক ভাঙচুর করা হয়। সংঘর্ষের সময় কর্নেল মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী ও মিজানুর রহমান চৌধুরী প্রায় দেড় ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকেন। পরে সেনাবাহিনী ও পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের উদ্ধার করে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
শুক্রবার রাতে সরেজমিনে দেখা যায়, চারিদিকে থমথমে পরিস্থিতি। ভাঙচুর হওয়া মোটরসাইকেল পড়ে রয়েছে অন্যদিকে নেতাকর্মীরা অবরুদ্ধ। আতঙ্কে অধিকাংশ দোকানপাট বন্ধ।
এ বিষয়ে কর্নেল (অব.) মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ৩১ দফার প্রচার ও তৃণমূল বিএনপিকে সংগঠিত করতে গিয়ে সাবেক সংসদ সদস্য আখতারুজ্জামান মিয়ার প্ররোচনায় আমরা বালু সন্ত্রাসীদের দ্বারা হামলার শিকার হয়েছি। রাজনৈতিক কাজের ওপর এটি সরাসরি আঘাত। এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। সেই সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাই।
এ বিষয়ে মিয়া গ্রুপের অনুসারী জেলা বিএনপির অর্থনৈতিক সম্পাদক ও ভাবকী ইউপি চেয়ারম্যান রবিউল আলম তুহিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তার গ্রুপের নেতাকর্মীদের জড়িত থাকার বিষয়টি অস্বীকার করে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
খানসামা ওসি নজমুল হক বলেন, ঘটনার সময় তাৎক্ষণিকভাবে সেনাবাহিনী ও পুলিশ উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।