× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

পুরান ঢাকায় নৃশংস হত্যা

নিরাপত্তাহীনতায় সোহাগের পরিবার, বাড়িতে মাতম

বরগুনা প্রতিবেদক

প্রকাশ : ১২ জুলাই ২০২৫ ২২:২৯ পিএম

আপডেট : ১২ জুলাই ২০২৫ ২৩:২৪ পিএম

নিরাপত্তাহীনতায় সোহাগের পরিবার, বাড়িতে মাতম

‘পরিবারের একমাত্র আয়ের লোককে মেরে ফেলেছে ওরা। এখন সংসার চলবে কীভাবে? দুই সন্তানের ভবিষ্যতের কী হবে? আমরা বেঁচে থাকব কীভাবে? আমাদের নিরাপত্তা দেবে কে? আমার সন্তান তার বাবাকে আর দেখবে না। আমার সব শেষ হয়ে গেছে।’ বিলাপ করতে করতে কথাগুলো বলছিলেন পুরান ঢাকার মিটফোর্ড এলাকায় নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার লাল চাঁদ ওরফে সোহাগের স্ত্রী লাকি বেগম।

শুক্রবার (১১ জুলাই) সকালে ঢাকা থেকে সোহাগের মরদেহ বরগুনায় নিয়ে আসেন স্বজনরা। পরে সদর উপজেলার ৭ নম্বর ঢলুয়া ইউনিয়নের ইসলামপুর এলাকায় তার মায়ের কবরের পাশে তাকে দাফন করা হয়।

এ ঘটনায় বরগুনাজুড়ে চলছে শোকের মাতম। বরগুনার সামাজিক সংগঠনগুলো এই হত্যার বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করেছে। গ্রামে সজ্জন ও দানশীল হিসেবে পরিচিত সোহাগকে নৃশংসভাবে হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি স্বজন ও এলাকাবাসীর।

বাকরুদ্ধ লাকি বেগম বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরেই আমার স্বামীর দোকান থেকে চাঁদা দাবি করে হত্যাকারীরা। আমাদের ব্যবসা তাদের সহ্য হচ্ছিল না। প্রতি মাসে দুই লাখ করে টাকা চাঁদা চাইছিল। আমার স্বামী তা দিতে চায়নি। আর এ কারণেই নির্মমভাবে রাস্তায় ফেলে হত্যা করে আমার লাল চাঁনকে। মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পরও রেহাই পায় নাই, লাশের উপরে উঠে নাচানাচি করেছে ওরা।’

সোহাগের মেয়ে সোহানা বলেন, ‘চাঁদা দিতে রাজি না হওয়ায় বাবাকে মেরে ফেলা হয়েছে। আমরা এখন এতিম হয়ে গেছি, আমরা এখন কোথায় গিয়ে দাঁড়াব। বাবাকে যারা হত্যা করেছে আমরা তাদের বিচার চাই। আমাদের নিরাপত্তার জন্য সরকারপ্রধানের কাছে আবেদন করছিÑ আমাদের পরিবারটিকে বাঁচান। হত্যাকারীরা আমাদের বাসা লুট করতে চেয়েছিল। জানি না, ঢাকায় গেলে আমাদের কী হবে!’

সোহাগের বোন ফাতেমা বেগম বলেন, “আমার ভাই প্রায় ১০-১৫ বছর ধরে ব্যবসা করছিল। ঘটনার দিন ভাই বলেছিল, ‘ওরা আমাকে বাঁচতে দেবে না’। ভাইয়ের আশঙ্কাই সত্যি হলো।”

এই ঘটনায় হওয়া মামলায় কারসাজি হয়েছে বলেও জানিয়েছেন লাকি বেগম। তিনি বলেছেন ‘মামলা দায়েরের জন্য স্বজনদের একটি কপি পুলিশকে দেখানো হলেও পরবর্তীতে সুকৌশলে এজাহার হিসেবে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে অন্য আরেকটি কপিতে। যেখানে প্রথম কপিতে থাকা ঘটনার সঙ্গে জড়িত ১৭, ১৮ এবং ১৯ নম্বর আসামির নাম বাদ দিয়ে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত নয়Ñ এমন অনেককে আসামি করা হয়েছে।’

তবে পুলিশ এই অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে, বাদীর দেওয়া নাম অনুযায়ী আসামি করা হয়েছে।

এদিকে শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বরগুনা জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি নজরুল ইসলাম মোল্লা পরিবারটির খোঁজখবর নিতে যান। তিনি বলেন, ‘নিহত সোহাগ আমাদের দলীয় লোক। শোকাহত পরিবারটির পাশে আমরা আছি। আইনি ও আর্থিক সহযোগিতা করা হবে।’

বরগুনার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শফিউল আলম বলেন, ‘পরিবারটিকে সাধ্যমতো সহযোগিতা করা হবে। নিরাপত্তার বিষয়টিও নিশ্চিত করা হবে।’

গত বুধবার রাজধানীর সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৩ নম্বর গেটের সামনে পিটিয়ে ও পাথর মেরে ব্যবসায়ী সোহাগকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা