চুয়াডাঙ্গা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১১ জুলাই ২০২৫ ২১:২৭ পিএম
আপডেট : ১১ জুলাই ২০২৫ ২১:৫১ পিএম
চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলায় ঋণের টাকা পরিশোধ না করায় মোছা. নুরুন নাহার (৪৭) নামের এক নারীকে বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি) কার্যালয়ে তালাবদ্ধ করে রাখার অভিযোগ উঠেছে।
বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) রাতে উপজেলার বাঁকা ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয়ভাবে এ ঘটনা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা চলছে। একজন নারীকে এইভাবে আটকে রাখাকে মানবাধিকার লঙ্ঘনের শামিল বলে মন্তব্য করেছেন এলাকাবাসী।
ভুক্তভোগী মোছা. নুরুন নাহার (৪৭) উপজেলার বাঁকা ইউনিয়নের বাঁকা গ্রামের বাসিন্দা। তার দাবি, টাকা দিতে না পারায় বিআরডিবির একজন মাঠ কর্মকর্তা তাকে অফিস ঘরে তালা দিয়ে আটকে রাখেন।
অফিসের ভেতর থেকে নুরুন নাহার বলেন, ‘আমি টাকা দিতে চাই, কিন্তু এখনই পুরো টাকা দিতে পারছি না। তাই আমাকে তালা দিয়ে আটকে রেখেছে।’
ঘটনাস্থলে থাকা তার ছোট ছেলে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার মা কিছু ঋণ নিয়েছিল। আজ আমরা ১০ হাজার টাকা নিয়ে এসেছিলাম। কিন্তু তারা পুরো টাকা না পেয়ে আবেদা নামে একজন আমার মাকে অফিসের ভেতর তালা মেরে আটকে রাখে। আমি অনুরোধ করেছিলাম আমাকে আটকে রাখতে, আমার মাকে বের করে দেন। কিন্তু কেউ শোনেনি।
অভিযোগের বিষয়ে বিআরডিবির মাঠ কর্মকর্তা আবেদা খাতুন জানান, নুরুন নাহার প্রায় ১৪ মাস আগে ৩ লাখ টাকা ঋণ নিয়েছেন। ৪ মাস আগে তার ঋণের মেয়াদ শেষ হয়। বারবার তাগাদা দিয়েও তিনি টাকা দেননি। টাকা চাইতে গেলে তিনি একদিন বলেন, ভাই হজে গেছে, একদিন বলেন ভাবি মারা গেছে। নানা অজুহাত দিতেন। অফিস থেকে আমার বেতন বন্ধ করে দিয়েছে।
তিনি বলেন, আমি বাজারে গিয়েছিলাম, বাজার শেষে নামাজ পড়ে ওষুধ কিনে আসলাম। কেউ তার ঋণের দায়িত্ব নিচ্ছিল না। তার জামাইও ঋণের দায়িত্ব নেননি। মাত্রই তার ছেলের সঙ্গে কথা হলো, আমিও এখানে আসলাম। এরপর তিনি গেটের তালা খুলে দেন।
বিষয়টি জানার পর জীবননগর বিআরডিবি কর্মকর্তা জামিল আখতার ঘটনাস্থলে ছুটে যান। তিনি বলেন, ‘ঘটনাটি আমি জানার পর অফিসে এসেছি। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’