চট্টগ্রাম অফিস
প্রকাশ : ১০ জুলাই ২০২৫ ২৩:২৪ পিএম
চট্টগ্রামে চাঁদা না পেয়ে মব সৃষ্টি করে একটি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তালা লাগানো ও অধ্যক্ষকে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। মহানগরের চান্দগাঁও থানা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পরিচয়ধারী রায়হানুল ইসলাম ও তার সহযোগীরা এই ঘটনা ঘটিয়েছে। রায়হান এস আলমের গাড়িকাণ্ডে পদস্থগিত হওয়া বিএনপি নেতা আবু সুফিয়ানের অনুসারী বলে জানা গেছে।
গত বুধবার দুপুরে চান্দগাঁও থানার ওসি আফতাব উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। প্রাথমিকভাবে তিনজনকে আটক করলেও পরবর্তীতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে না মর্মে মুচলেকা দেওয়ায় তাদের ছেড়ে দেয় পুলিশ।
জানা যায়, ভুক্তভোগী ওই অধ্যক্ষের নাম মো. আবদুল বাতেন। তিনি চট্টগ্রাম মহানগরের চান্দগাঁও এলাকায় ওয়াহিদ ইলেকট্রিশিয়ান্স ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন নামক প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ। এছাড়া ফটিকছড়ির গাউসুল আজম মাইজভান্ডারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটেরও অধ্যক্ষ তিনি।
জানা গেছে, চট্টগ্রাম মহানগরের চান্দগাঁও এলাকায় র্যাব-৭ অফিসের পাশের বিল্ডিংয়ে ওয়াহিদ ফাউন্ডেশন পলিটেকনিক নামক প্রতিষ্ঠানটি অবস্থিত। ছিন্নমূল যুবকদের পুনর্বাসনে বিনামূল্যে কোর্স চালুর বিষয়ে কাজ করা এই অধ্যক্ষের কাছে চাঁদা দাবি ও তাকে মারধর করে প্রতিষ্ঠানটির গেটে তালা দেওয়া হয়। এই বিষয়ে বেশ কয়েকবার সাধারণ ডায়েরি, পুলিশ কমিশনারের কাছে অভিযোগ করেন তিনি।
বিষয়টি নিয়ে অধ্যক্ষ লিখিত অভিযোগ দিলে মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে ঘটনাস্থলে চান্দগাঁও থানার টিম পৌঁছলে তাদের সামনেই ওই অধ্যক্ষকে মারধর করে রায়হান ও তার অনুসারীরা। পরিস্থিতি সামাল দিতে না পেরে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে পুলিশ। পরে সেখানে যান উপপুলিশ কমিশনার (উত্তর) আমিরুল ইসলাম। মব সৃষ্টি, গেটে তালা দেওয়া, চাঁদা দাবি করায় হাতেনাতে চান্দগাঁও থানা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রায়হান ও তার এক সহযোগীকে আটক করা হয়।
পরে রাত সাড়ে ১২টার দিকে থানায় জড়ো হতে থাকে রায়হানের অনুসারীরা। পুলিশের ওপর চাপ প্রয়োগ করে থানা থেকে আসামিদের ছাড়ানোর চেষ্টা করে তারা। রাত দেড়টা পর্যন্ত ভুক্তভোগী অধ্যক্ষ আবদুল বাতেন ও আটক দুই আসামি থানায় অবস্থান করছিলেন। নিরাপত্তাহীনতায় থাকা অধ্যক্ষ থানা ত্যাগ করার আগেই থানা ঘিরে ফেলে রায়হানের অনুসারীরা। পরে রাত ৩টার দিকে পুলিশ পাহারায় তাকে বাড়ি পৌঁছে দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে অধ্যক্ষ আবদুল বাতেন বলেন, ‘এই চক্রটি আমার কাছে চাঁদা দাবি ও হুমকি দিয়ে আসছে। আমার প্রতিষ্ঠানের পাশেই র্যাব-৭ এর অফিস। আমি গত বছরের ৩০ নভেম্বর এ বিষয়ে র্যাবকে জানিয়েছিলাম। কিন্তু কোনো সহযোগিতা পাইনি। সম্প্রতি তারা আমার কাছে আবারও চাঁদা দাবি করে। এই চাঁদা না পেয়ে তারা আমার বিরুদ্ধে ব্যানার-পোস্টার লাগানো, মানববন্ধনসহ বিভিন্ন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। পুলিশ পর্যন্ত তাদের সামাল দিতে পারছে না। আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।’
অধ্যক্ষ বাতেন বলেন, ৫ আগস্টের আগে একই চক্র আওয়ামী লীগের নেতাদের দিয়ে প্রতিষ্ঠানটি চালাতে বাধা দিতেন। এখন ছাত্রদল নেতাকে ব্যবহার করে সুবিধাবঞ্চিত যুবকদের প্রশিক্ষণ কোর্স চালাতে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে। এটা একটা স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান। এখানে চাঁদা দাবি করা, গেটে তালা দেওয়া, আমার বিরুদ্ধে আপত্তিকর পোস্টারিং, মানববন্ধনÑ সবই ওই একই চক্রের কাজ।’
জানতে চাইলে ডিসি (উত্তর) আমিরুল ইসলাম বলেন, ভুক্তভোগী বেশ কয়েকদিন ধরে থানায় অভিযোগ করে আসছিলেন। উনার প্রতিষ্ঠানে যুক্তিসঙ্গত কোনো কারণ ছাড়াই সংস্কারকাজে বাধা দেওয়া হচ্ছে। উনাকে মারধর করা হয়েছে, গেটে তালা দেওয়া হয়েছে। রাতে পুলিশ পাঠিয়েও তাদের নিবৃত্ত করা যাচ্ছে না। এমন অভিযোগ পেয়ে ঘটনাস্থলে আমি নিজে গিয়ে হাতেনাতে তিনজনকে আটক করে থানায় সোপর্দ করেছি।
চান্দগাঁও থানার ওসি আফতাব উদ্দিন বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে উভয়পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেছি। ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে না মর্মে মুচলেকা দেওয়ায় আটক দুজনকে ছেড়ে দিয়েছি।’
এদিকে থানা থেকে ছাড়া পাওয়ার পর বুধবার সকাল ও বিকালে দুই দফা প্রতিষ্ঠানটির এক কর্মচারীকে মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন অধ্যক্ষ আবদুল বাতেন।