ঠাকুরগাঁও
রহিম শুভ, ঠাকুরগাঁও
প্রকাশ : ০৯ জুলাই ২০২৫ ১৭:১৭ পিএম
আপডেট : ০৯ জুলাই ২০২৫ ১৭:২২ পিএম
এশিয়া মহাদেশের সবচেয়ে বড় সূর্যপুরী আমগাছটি রয়েছে ঠাকুরগাঁও জেলার বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার হরিণমারী ইউনিয়নের নয়াপাড়া গ্রামে। প্রায় দুই বিঘা জমিজুড়ে বিস্তৃত ২২৩ বছরের পুরনো এই গাছ থেকে এবার প্রায় ২ থেকে আড়াই লাখ টাকার আম বিক্রির আশা করছেন গাছটির মালিক।
গাছটি এতটাই বিশালাকৃতির যে দূর থেকে দেখলে ঝাউগাছ মনে হয়। কাণ্ড থেকে বের হওয়া বিশাল ডালগুলো মাটিতে নেমে আবার উপরের দিকে উঠে গেছে, যেন ঢেউ খেলানো প্রকৃতির শিল্পকর্ম। গাছটির ২০টি শাখার প্রত্যেকটির দৈর্ঘ্য ৪০ থেকে ৫০ ফুট পর্যন্ত। প্রতিটি শাখায় সহজেই হাঁটাচলা ও বসা যায়।
প্রতিদিন শত শত দর্শনার্থী দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে এসে গাছটি দেখতে ভিড় করছেন। বিশেষ করে ছুটির দিনগুলোতে দর্শনার্থীদের উপস্থিতি বেশি দেখা যায়। গাছের নিচে দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন, খাচ্ছেন গাছপাকা সূর্যপুরী আম। প্রবেশ ফি ২০ টাকা হলেও দর্শনার্থীদের মধ্যে কোনো অভিযোগ নেই। বরং ঐতিহ্যবাহী এই আমগাছ তাদের মুগ্ধ করছে।
পঞ্চগড় থেকে আসা দর্শনার্থী আব্দুল জব্বার বলেন, বিচিত্র এই গাছ সম্পর্কে অনেক গল্প শুনেছি। তবে কখনও সরাসরি দেখা হয় নাই। এখানে এসে বেশ ভালো লাগছে, শতবর্ষী এই গাছের আমও খেলাম, আমগুলো বেশ সুস্বাদু। আরেক দর্শনার্থী রাম চরণ বলেন, গাছটি আসলে অনেক বড়। দেখে মনে হয় ৪-৫টা গাছ একসঙ্গে আছে। এই পুরনো গাছে প্রচুর আম ধরেছে। আমের দাম একটু বেশি, তবে স্বাদে অসাধারণ। বাজার থেকে ৪০-৫০ টাকা কেজি দরে আম কেনা যাচ্ছে, কিন্তু এই গাছের আমের দাম ৮০-৯০ টাকা কেজিতে কিনতে হচ্ছে। কারণ এটি একটি ঐতিহ্যবাহী আম গাছ।
জেলা সদর থেকে আম গাছটি দেখতে আসা আরেক দর্শনার্থী আবুল কালাম আজাদ বলেন, আমাদের শহরের কাছে এত বিশাল একটি আম গাছ আছে, তা কখনও দেখা হইনি। আজ দেখতে আসলাম, দেখে মনে হচ্ছে যেন পাহাড়ের মতো। এর ডালপালা মাটি দিয়ে নেমে আবার উঁচু হয়ে আছে।
গাছটির মালিক সাইদুর রহমান বলেন, গাছটি আমার বাবার দাদার দাদা লাগিয়েছিলেন বলে শুনেছি। এর বয়স আনুমানিক ২২৩ বছর হবে। বিভিন্ন জেলা থেকে গাছটি মানুষজন দেখতে আসে। প্রতিজনের কাছ থেকে টিকিট মূল্য ২০ টাকা করে নিই। টিকিট বিক্রি করে যা পাই তা দিয়ে আমার দুই ভাই মিলে গাছটির যত্ন নিই। ২০২৩ সালে প্রায় দুই লাখ টাকার আম বিক্রি করেছি এই গাছ থেকে। গত বছর আমের ফলন কম হয়েছিল। লাখ খানেক টাকার আম বিক্রি হয়। তবে এবার প্রচুর আম ধরেছে, আশা করছি বিগত বছরের চেয়ে বেশি টাকায় আম বিক্রি করতে পারব। তবে বাজারের অন্য আমের তুলনায় এই গাছের আম বেশি দামে বিক্রি হয়। এবার দুই থেকে আড়াই লাখ টাকার আম বিক্রি হবে আশা করছি।
ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক ইশরাত ফারজানা বলেন, সূর্যপুরী আম ঠাকুরগাঁওয়ের পরিচিতি বহন করে। এই গাছটি পর্যটনের সম্ভাবনা জাগায়। আমরা এটিকে কেন্দ্র করে একটি পিকনিক স্পট গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছি।