× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

টাঙ্গাইল

সংযোগ সড়কহীন সেতুতে ভোগান্তি

অরণ্য ইমতিয়াজ, টাঙ্গাইল

প্রকাশ : ০৭ জুলাই ২০২৫ ১৮:৪১ পিএম

সংযোগ সড়কহীন সেতুতে ভোগান্তি

মানুষের যাতায়াত সহজ করতে এবং দুর্ভোগ কমাতে সেতু নির্মাণ করা হলেও, টাঙ্গাইল সদর উপজেলার চিলাবাড়ী বাজার সংলগ্ন লাউজানা গ্রামের লৌহজং নদীর ওপর নির্মিত সেতুটি এখন মানুষের ভোগান্তির নতুন নাম।

প্রায় ৯০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত হলেও সেতুটির দুপাশে সংযোগ সড়ক না থাকায় তা কোনো কাজে আসছে না। দীর্ঘ এক বছর ধরে সেতুটি সড়কবিহীন অবস্থায় পড়ে থাকায় প্রতিদিন দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন আশপাশের কয়েক গ্রামের মানুষ। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতি এবং প্রশাসনের নজরদারির অভাবে জনগণের স্বপ্নের সেতু এখন পরিণত হয়েছে হতাশার প্রতীকে।

স্থানীয়রা জানান, টাঙ্গাইল সদর উপজেলার চিলাবাড়ী বাজারের পূর্ব পাশে লাউজানা গ্রামে লৌহজং নদীর ওপর একটি সেতু নির্মিত হয়েছে। ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরে প্রত্যুস বিল্ডার্স নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্রায় ৯০ লাখ টাকা ব্যয়ে সেতুটি নির্মাণকাজ শেষ করে। সেতুর কাজ শেষ হলেও সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হয়নি। ঠিকাদারদের গাফিলতির কারণে সেতু হওয়ার পরও মানুষের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। অথচ এই সড়ক দিয়ে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার বাইমাইল, কাগমারা, চর কাগমারা, বাসাখানপুর, চিলাবাড়ী, লাউজানা, ধরেবাড়ি গ্রামের লক্ষাধিক মানুষকে প্রতিদিন যাতায়াত করতে হয়। স্থানীয়রা কিছু মাটি ও মাটির বস্তা ফেলে কোনোমতে সেতুর ওপর দিয়ে যাতায়াতের ব্যবস্থা করেছেন। বৃষ্টি হলে সে মাটি সরে গিয়ে সেতুতে ওঠা বন্ধ হয়ে যায়। এবারের বর্ষা আসার আগেই সেতুর সংযোগ সড়ক না হলে ভোগান্তি আরও বেড়ে যাবে বলে তারা জানান।

স্থানীয় আব্দুর রহিম বলেন, সেতুর মূল কাজ অনেক আগে শেষ হলেও দুই প্রান্তে সংযোগ সড়ক তৈরি না করেই ঠিকাদার চলে গেছে। এতে সেতু দিয়ে কোনো ধরনের যানবাহন চলাচল করতে পারছে না। এ ছাড়া সেতুর দুই প্রান্তের ঢালু জায়গা দিয়ে অনেক কষ্ট করে চলতে হচ্ছে স্থানীয়দের, অনেক দূর ঘুরে আসতে হয়। 

স্থানীয় বাসিন্দা আবুল কাশেম বলেন, নদীর ওপারে মসজিদে নামাজ আদায় করি আমি। দশ-বারটা মাটির বস্তা ফেলেছি সেতুর ঢালে, যাতে সহজে মসজিদে যাতায়াত করতে পারি। নদীর দুই প্রান্তে বড় বড় দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে এবং হাট ও বাজার রয়েছে। সেতুটির সংযোগ সড়ক হলে এ সমস্ত প্রতিষ্ঠানে চলাচলকারীদের যাতায়াত করা খুব সহজ হবে। তাই সরকারের কাছে দাবি করছি দ্রুত সেতুর সংযোগ সড়ক করে দেওয়ার জন্য। 

লিমা আক্তার নামে এক গৃহবধূ বলেন, আমাদের বাড়ি থেকে বের হলেই সেতু। সেই সেতু দিয়েই নদীর ওপারে যাওয়ার একমাত্র রাস্তা। অন্যথায় প্রায় ৫ কিলোমিটার ঘুরে বাড়িতে আসতে হয়।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্রত্যুস বিল্ডার্সের মালিক প্রসেনজিৎ ধর বলেন, ‘সেতুর ওয়ার্ক অর্ডার অনুযায়ী আমরা কাজ সম্পূর্ণ করেছি। ওয়ার্ক অর্ডারে সেতুর দুই প্রান্তে সংযোগ সড়ক উল্লেখ ছিল না।’

এ বিষয়ে টাঙ্গাইল সদর উপজেলা এলজিডির প্রকৌশলী মুহাম্মদ জাকির হোসেন বলেন, পর্যাপ্ত বরাদ্দ না থাকায় সেতুর সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হয়নি। তবে এজন্য বরাদ্দের চাহিদা দেওয়া হয়েছে, আশা করছি দ্রুত বরাদ্দ পেয়ে যাব। 

টাঙ্গাইল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাহিদা আক্তার বলেন, সেতুটি সম্পর্কে অবগত হয়েছি। মানুষের ভোগান্তি লাঘবের জন্য সেতুর সংযোগ সড়ক নির্মাণ করার চেষ্টা করা হবে। আশা করছি, সড়কটি হয়ে যাবে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা