× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

ডুবো চর ও বর্জ্যর প্রভাবে ইলিশশূন্য পায়রা নদী

আমতলী (বরগুনা) প্রতিবেদক

প্রকাশ : ০৭ জুলাই ২০২৫ ১৮:২৪ পিএম

আপডেট : ০৭ জুলাই ২০২৫ ১৮:২৬ পিএম

ডুবো চর ও বর্জ্যর প্রভাবে ইলিশশূন্য পায়রা নদী

ইলিশের ভরা মৌসুমে উপকূলীয় পায়রা নদীতে ইলিশের দেখা না পাওয়ায় মৌসুমের এক মাস অতিবাহিত হলেও জেলেদের জালে কাঙ্ক্ষিত রুপালী ইলিশ ধরা পড়ছে না। এতে চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন আমতলী ও তালতলী উপজেলার প্রায় ১৪ হাজার ৬৮৯ জন নিবন্ধিত জেলে। জেলেদের অভিযোগ, সাগর মোহনায় সৃষ্ট ডুবো চর এবং তালতলীর জয়ালভাঙ্গা এলাকায় অবস্থিত আইসোটেক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের গরম পানি ও বর্জ্য ইলিশের স্বাভাবিক চলাচল ও প্রজননে প্রধান প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুড়িশ্বর নদী বা পায়রা নদী বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বরিশাল, পটুয়াখালী ও বরগুনা জেলার একটি নদী। নদীটির দৈর্ঘ্য ৯০ কিলোমিটার, গড় প্রস্থ ১২০০ মিটার এবং নদীটির প্রকৃতি সর্পিলাকার। বুড়িশ্বর নদী বা পায়রা নদীটি বরিশাল জেলার বাকেরগঞ্জ উপজেলার কলসকাটি ইউনিয়ন এলাকার প্রবাহমান পান্ডব নদী থেকে উৎপত্তি লাভ করেছে। অতঃপর এই নদীর জলধারা বঙ্গোপসাগরে মিলিত হয়েছে। নদীটির উজানের তুলনায় ভাটির দিক অধিক প্রশস্থ। অন্যদিকে বিষখালী ও বলেশ্বর নদী বঙ্গোপসাগরে মিলিত হয়েছে। 

তিন নদীর মোহনাকে জেলেদের ভাষায় গাঙ্গের আইল বলা হয়। সাগর থেকে পায়রা নদীতে প্রবেশমুখে নলবুনিয়া, কুমিরমারা, পদ্মাসহ একাধিক স্থানে জেগে উঠেছে ২০-২৫ কিলোমিটার দীর্ঘ ডুবো চর। প্রাকৃতিক জোয়ারের প্রথম ঢেউ এ চর অতিক্রম করতে না পারায় ইলিশ ফিরে যাচ্ছে সাগরে। 

২০০৭ সালের ঘূর্ণিঝড় সিডরের পর নদীর গতিপথ পরিবর্তন হয়ে এসব চর আরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। অন্যদিকে, ২০১৯ সালে তালতলীর জয়ালভাঙ্গা এলাকায় নির্মিত আইসোটেক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র ২০২২ সালে উৎপাদনে গেলে তার বর্জ্য ও গরম পানি সরাসরি পায়রা নদীতে পড়ছে। জেলেদের ও বিশেষজ্ঞদের মতে, এতে পানির উষ্ণতা ও রাসায়নিক গুণাগুণের পরিবর্তনে ইলিশের প্রজননেও বিরূপ প্রভাব পড়ছে।

সাগর সংলগ্ন নলবুনিয়া গ্রামের জেলে আলমগীর হাওলাদার বলেন, সাগরের স্বাভাবিক জোয়ারের পানি ডুবো চরের কারণে নদীতে প্রবেশ করতে পারছে না। আর ইলিশ নদীতে না এলে আমাদের জালে কিছুই উঠে না। সংসার চালানোই এখন দায় হয়ে গেছে। তিনি আরও বলেন, এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের গরম পানি ও বর্জ্য।

পায়রা নদীতে ইলিশ শিকারী জেলে ছত্তার, লাল মিয়া ও জাহিদ মোল্লা বলেন, জোয়ারের প্রথমভাগে না হলেও মধ্যভাগে নদীতে স্রোতের তীব্রতা বৃদ্ধি পায়। ওই স্রোতে আসা ইলিশ আমাদের জালে ধরা দেয়। নদীর মোহনায় সৃষ্ট ডুবো চরগুলো খনন করা না হলে পায়রা নদীতে ইলিশ প্রবেশ করবে না।

জেলেরা বলেন, আষাঢ় থেকে আশ্বিনÑ এই চার মাস ইলিশ মৌসুম হলেও এক মাস পার হয়ে গেলেও জালে কাঙ্ক্ষিত ইলিশ উঠছে না। আমতলী ও তালতলী উপজেলার ১৪ হাজার ৬৮৯ জন নিবন্ধিত জেলে পরিবার আজ চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছে।

বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের অবসরপ্রাপ্ত মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও ইলিশ গবেষক ড. মো. আনিছুর রহমান বলেন, ইলিশ চলাচলে গভীর পানির প্রয়োজন। কিন্তু ডুবো চরের কারণে সেই গভীরতা এখন আর নেই। ফলে ইলিশ নদীতে প্রবেশ করতে পারছে না।

তালতলী উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা ভিক্টর বাইন জানান, সাগর মোহনায় ডুবো চরের কারণে নদীর নাব্যতা কমেছে, এতে জোয়ারের তীব্রতা কমে গেছে। জোয়ারের সময় পানি ঠিকমতো প্রবেশ না করায় ইলিশও প্রবেশ করতে পারছে না। যদি এই চরগুলো খনন করে নদীর স্বাভাবিক গতিপথ ফিরিয়ে আনা যায়, তাহলে ইলিশ আবার ফিরবে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা