ময়মনসিংহ প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৫ জুলাই ২০২৫ ১৭:১৫ পিএম
আপডেট : ০৫ জুলাই ২০২৫ ১৭:২১ পিএম
ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা পৌরসভার প্রায় প্রতিটি সড়কই এবড়োখেবড়ো। জায়গায় জায়গায় দেখা দিয়েছে খানাখন্দ। সামান্য বৃষ্টিতেই জমে হাঁটুপানি। পানি ঢুকে যায় দোকানপাটেও। এতে পৌরবাসী পড়েন চরম দুর্ভোগে।
১৮৭৮ সালে প্রতিষ্ঠিত মুক্তাগাছা পৌরসভা দেশের অন্যতম প্রাচীন পৌরসভা। এটি প্রথম শ্রেণির পৌরসভা হলেও সড়ক অবকাঠামোর এমন বেহালে পৌরবাসী ক্ষুব্ধ। পৌরসভাটি ৯টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত এবং এর আয়তন প্রায় ১২ বর্গকিলোমিটার। জনসংখ্যা ৫০ হাজারের বেশি।
এই শহর একসময় জমিদার আচার্য চৌধুরী বংশের কেন্দ্রে ছিল। নামের উৎপত্তি ‘মুক্তারাম কর্মকার’ নামের এক স্বর্ণকারের উপহারের (স্বর্ণের বাতি-স্ট্যান্ড, স্থানীয় ভাষায় ‘গাছ’) স্মৃতিতে মুক্তাগাছা নামকরণ করা হয়েছে। মূলত জমিদারদের শহর ছিল মুক্তাগাছা। এই শহরেই রয়েছে দেশের বিখ্যাত মিষ্টি যা মুক্তাগাছার মণ্ডা নামে পরিচিত। এই মণ্ডার জন্য মুক্তাগাছা সারা দেশে এর নাম ছড়িয়ে রয়েছে।
প্রাচীনতম এই পৌরসভার অধিকাংশ সড়কের দীর্ঘদিন সংস্কার করা হয়নি। ফলে এগুলোর পিচ উঠে গিয়ে এখন কংক্রিট ভাঙা অবস্থায় পড়ে আছে। বিশেষ করে শহরের আটানি বাজার, মহারাজা রোড, চৌরঙ্গী মোড়, দরিচারিআনি বাজার ও মসজিদ রোডে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তি দেখা যায়।
পৌর গেট থেকে আটানি বাজার পর্যন্ত সড়কে অসংখ্য গর্ত, আবার আটানি বাজার থেকে চৌরঙ্গী মোড় পর্যন্ত সড়কটি একেবারেই চলাচলের অনুপযোগী। বর্ষায় রাস্তাগুলো হাঁটুপানিতে তলিয়ে যায়, বন্ধ হয়ে পড়ে যান চলাচল।
ব্যবসায়ী চাঁন মিয়া বলেন, ‘শহরের প্রতিটি সড়কের অবস্থা খারাপ। প্রতিদিন মানুষ পড়ে যাচ্ছে, গাড়ির চাকা গর্তে আটকে যাচ্ছে। অথচ কেউ দেখছে না।’ মহারাজ রোডের ওষুধ ব্যবসায়ী পাপ্পু দে বলেন, ‘বৃষ্টি হলেই আমাদের দোকানের সামনে পানি জমে। ক্রেতা কমে যায়। জানি না আর কতদিন এভাবে চলবে।’ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক পৌরবাসী বলেন, আমরা নিয়মিত পৌর কর দিচ্ছি। কিন্তু নাগরিক সুবিধা কিছুই পাচ্ছি না। বরং কর না দিলে নোটিস আসে। তাহলে এই প্রথম শ্রেণির পৌরসভা থেকে কী লাভ?
এ বিষয়ে মুক্তাগাছা পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘সড়ক সংস্কারের প্রস্তাবনা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পেলেই সংস্কার কাজ শুরু করা হবে।’
প্রশাসকের এমন আশ্বাস পৌরবাসী আগেও বহুবার শুনেছে। তবে বাস্তবে কাজ কতটা হবে, তা নিয়ে সংশয়ে আছেন সবাই। শহরের পুরনো ঐতিহ্য ও পরিচয় রক্ষা করতে হলে পৌরবাসী মনে করেন সড়কের দ্রুত উন্নয়ন করা দরকার।