× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

সৈকতে বালি কেটে কৃত্রিম খাল, ভাঙন, দূষণের ঝুঁকি

নুপা আলম, কক্সবাজার

প্রকাশ : ০৫ জুলাই ২০২৫ ১৭:০৭ পিএম

আপডেট : ০৫ জুলাই ২০২৫ ১৭:০৯ পিএম

সৈকতে বালি কেটে কৃত্রিম খাল, ভাঙন, দূষণের ঝুঁকি

বিশ্বের দীর্ঘতম প্রাকৃতিক সমুদ্রসৈকত কক্সবাজারে এবার দুটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের স্বার্থে কেটে ফেলা হয়েছে সৈকতের বালিয়াড়ি। তৈরি হয়েছে একটি কৃত্রিম খাল। প্রাকৃতিকভাবে পানি চলাচলের স্বাভাবিক পথ বন্ধ করে একটি বাঁধ তৈরির পর কৃত্রিম খালটি খনন করা হয়েছে।

এতে প্রাকৃতিকভাবে গঠিত পানি চলাচলের গতিপথ বদলে দেওয়ায় সৈকতের অবিচ্ছিন্নতা ভেঙে পড়ছে, বাড়ছে ভাঙন, আর সৃষ্টি হচ্ছে গর্ত ও গুপ্তখাল, যা পর্যটকদের নিরাপত্তা হুমকির মুখে ফেলছে। একই সঙ্গে হোটেল-মোটেল জোনের নোংরা পানি সরাসরি সাগরে মিশে পরিবেশ ও প্রতিবেশে ঘটছে ভয়াবহ দূষণ।

গত রবিবার দুপুরে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের কলাতলী পয়েন্ট সংলগ্ন ডিভাইন ইকো রিসোর্টের পাশ দিয়ে কৃত্রিম খালটির অস্তিত্ব দেখা গেছে।

আশপাশের পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আগে প্রাকৃতিক ছড়ার মাধ্যমে হোটেল-মোটেল এলাকার পানি প্যাসিফিক বিচ লাউঞ্জ ক্যাফের সামনে দিয়ে সাগরে গিয়ে পড়ত। তবে সম্প্রতি বর্ষা মৌসুমে ছড়ার মুখে বালির বস্তা ফেলে বাঁধ নির্মাণ করে প্যাসিফিক ক্যাফে কর্তৃপক্ষ। এতে জলাবদ্ধতা দেখা দেয় ডিভাইন ইকো রিসোর্টের সামনে। জমে থাকা পানি নিষ্কাশনের জন্য রিসোর্টটির দক্ষিণ-পশ্চিম সীমানা ঘেঁষে কেটে ফেলা হয় বালিয়াড়ি, তৈরি হয় কৃত্রিম খাল। এতে খালটি দিয়ে জমে থাকা পানির পাশাপাশি ভারী বর্ষণে ঢলের পানি খালটি দিয়ে প্রতিনিয়ত সাগরে মিশে যাচ্ছে। আর জোয়ার-ভাটার সময় পানি যাতায়াতের কারণে খালটির দিন দিন পরিধি বাড়ছে। এতে ক্রমাগত বিচ্ছিন্ন হতে যাচ্ছে অবিচ্ছিন্ন সৈকত।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, প্যাসিফিক বিচ লাউঞ্জ ক্যাফে ও ডিভাইন ইকো রিসোর্টের শ্রমিকরাই খালটি খনন করেছেন। তবে দুই প্রতিষ্ঠানের কেউই দায় নিতে নারাজ। 

ডিভাইন ইকো রিসোর্টের প্রতিনিধি মোহাম্মদ সেলিম বলেন, কারা খনন করেছে জানেন না তারা। আমাদের ভূমিতে ভাঙন দেখা দেওয়ায় পানি বিকল্প পথে নামছে। এটি কৃত্রিমভাবে খনন করা হলেও তারা এটার সঙ্গে জড়িত নন। কারা করেছে তাও জানেন না।

অন্যদিকে, প্যাসিফিক ক্যাফের জেনারেল ম্যানেজার জাবেদ ইকবাল দাবি করেন, তাদের প্রতিষ্ঠানের সামনে পানি চলাচল করায় তার সামনে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এই ভাঙন রোধ এবং পর্যটকদের যাতায়াতের সুবিধার্থে প্রাকৃতিক ছড়ায় বাঁধ তৈরি করেছেন। তিনি বলেন, আমার প্রতিষ্ঠানের সামনে দিয়ে পানি চললে ভাঙন হয়, তাই আমরা বাঁধ দিয়েছি। খালটি কারা কেটেছে জানি না।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে কক্সবাজার বন ও পরিবেশ সংরক্ষণ পরিষদের সভাপতি দীপক শর্মা দীপু জানিয়েছেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে কক্সবাজার বন ও পরিবেশ সংরক্ষণ পরিষদের সভাপতি দীপক শর্মা দীপু বলেন, ‘দুইটি প্রতিষ্ঠান ব্যক্তিস্বার্থে এমন ভয়াবহ কাজ করেছে। তাতে অবিচ্ছিন্ন সৈকত ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়েছে, সাগরে নোংরা পানি মিশে পরিবেশ দূষিত হচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘খালটির কারণে স্থায়ী গর্ত ও গুপ্তখাল তৈরি হচ্ছে, যা পর্যটকদের নিরাপদ স্নানে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রাণহানির শঙ্কাও দেখা দিয়েছে।’ তিনি দ্রুত ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

এদিকে সৈকতে দায়িত্ব পালনকারী সি সেফ লাইফ গার্ড সংস্থার সিনিয়র কর্মী মোহাম্মদ শুক্কুর জানিয়েছেন, ‘বর্ষায় সৈকতের বিভিন্ন স্থানে গর্ত ও গুপ্তখাল সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে গত কিছুদিনে আটজন পর্যটক মারা গেছে।’ তিনি বলেন, কৃত্রিম খালের আশপাশে গর্ত-গুপ্তখালের আশঙ্কা আরও বেশি। এই খালটি বালিয়াড়ির ভাঙনকেও ত্বরান্বিত করছে বলে জানান তিনি।

ঘটনার বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন বলেন, এ বিষয়ে দায়িত্ব মূলত পৌরসভা ও উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের হলেও, কেউ যদি অবৈধভাবে কাজ করে থাকে, প্রশাসন খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেবে।

এদিকে সৈকতে আসা পর্যটকরাও কৃত্রিম খালের কারণে ভোগান্তির কথা জানিয়েছে। কেউ কেউ বলেন, হাঁটতে গিয়ে হঠাৎ খালের মুখে পড়ে যেতে হয়েছে, কেউ কেউ নিরাপত্তার ঝুঁকি নিয়েই চলাফেরা করছে। এ ছাড়া সমুদ্রের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য নষ্ট হওয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছে অনেকে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা