শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৪ জুলাই ২০২৫ ২১:৫৬ পিএম
আপডেট : ০৪ জুলাই ২০২৫ ২২:০৫ পিএম
গাজীপুরের জয়দেবপুর থানার শিরিরচালা এলাকায় প্রতারণার মাধ্যমে জাল দলিল তৈরি করে জমি বিক্রি ও জোরপূর্বক দখলের অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগী আবুল হোসেন (৭৫)। এ ঘটনায় স্থানীয় প্রভাবশালী সাখাওয়াত হোসেন ও শাহজাহানের বিরুদ্ধে প্রতারণা ও ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের হয়রানির অভিযোগ করা হয়েছে। জমি উদ্ধারসহ প্রতারক চক্রের হয়রানি থেকে মুক্তির জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা চেয়েছেন।
শুক্রবার (৪ জুলাই) সকাল ১০টায় নিজের পৈত্রিক সম্পত্তির ওপর আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন ভুক্তভোগী আবুল হোসেন ও তার পরিবার।
ভুক্তভোগী আবুল হোসেন জয়দেবপুর থানার শিরিরচালা এলাকার মৃত হেকমত আলীর ছেলে। অভিযুক্ত সাখাওয়াত হোসেন একই এলাকার আব্দুস সাত্তারের ছেলে এবং অন্য অভিযুক্ত রহিম উদ্দিনের ছেলে শাহজাহান।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী আবুল হোসেন বলেন, জয়দেবপুর থানার মাহনা ভবানীপুর মৌজার এসএ খতিয়ান ৫৭৪, আরএস খতিয়ান ২৩৫ এবং এসএ দাগ ৩০৭ ও আরএস দাগ ৪০৩, ৪০৪, ৪০৯-এ তাদের পৈত্রিক ৭ একর ১২ শতাংশ জমি রয়েছে আমার বাবার। ওই জমি থেকে পৈত্রিক সূত্রে ১ একর ৯২ শতাংশ জমির মালিক আমি। ২০১২ সালে প্রতারক সাখাওয়াত ও শাহজাহান ভূয়া দলিল তৈরি করে ওই জমির ১ একর ৭৫ শতাংশ অংশ মুন্সীগঞ্জের মাখাটি গ্রামের নাসিমা রেখার কাছে বিক্রি করে দেন।
তিনি আরও বলেন, জমি বিক্রির সময় নাসিমা রেখা নিজেকে আওয়ামী লীগ নেত্রী এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানার আত্মীয় পরিচয় দিয়ে প্রভাব খাটান। পরে সাখাওয়াত ও তার সহযোগীরা ওই জমি জোরপূর্বক দখল করে নেয়। স্থানীয় ভূমি অফিসের কিছু কর্মকর্তার সহায়তায় ভুয়া দলিল ও খারিজ প্রক্রিয়াও সম্পন্ন হয়।
ভুক্তভোগী আরও বলেন, ২০১২ সালের ২ জুলাই নূরুল ইসলাম মাতাব্বর আমমোক্তারের মাধ্যমে মির্জাপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিস থেকে ১ একর ৮৩ শতাংশ জমি খারিজ করা নেয়। পরদিন, ৩ জুলাই নাসিমা রেখাও একই জমির খারিজ সম্পন্ন করেন। এ কাজে ভূমি অফিসের তৎকালীন নায়েব আব্দুল লতিফ জাল দলিল প্রক্রিয়ায় সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা করেন। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর ভুয়া দলিল বাতিলের আবেদন করার পর প্রতারক চক্র দ্রুত ওই জমি স্থানীয় কয়েকজনের কাছে নামমাত্র দামে বিক্রি করে দেয়। বর্তমানে পরিবারটি নিঃস্ব হয়ে দিনমজুরের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন।
অভিযুক্ত সাখাওয়াত হোসেন বলেন, নাসিমা রেখা ওই জমি ব্যাংকের কাছে বন্ধক রেখে ঋণ নিয়েছিলেন। পরে ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হয়ে সমঝোতার ভিত্তিতে আমি জমিটি কিনেছি। আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যমূলক।