মোরেলগঞ্জ
এম. পলাশ শরীফ, মোরেলগঞ্জ (বাগেরহাট)
প্রকাশ : ০৪ জুলাই ২০২৫ ২০:৩৯ পিএম
আপডেট : ০৪ জুলাই ২০২৫ ২০:৪৭ পিএম
বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে কুঠিবাড়ী আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দারা জরাজীর্ণ ঘরে দুর্বিষহ জীবনযাপন করছেন। সামান্য বৃষ্টিতেই ঘরগুলো হাঁটুপানিতে তলিয়ে যায়, রান্নাবান্না বন্ধ হয়ে যায়, বসবাস করতে হয় সাপ, ব্যাঙ, কেঁচো আর জোঁকের সঙ্গে। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় প্রতিনিয়তই ঘটছে দুর্ভোগ। যেকোনো সময় ঘটে যেতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা।
সরেজমিন গিয়ে জানা গেছে, ১৯৯৮ সালে মোরেলগঞ্জ পৌর শহরের পানগুছি নদীর তীরে ৪ একর জমির ওপর নির্মিত হয় কুঠিবাড়ী আশ্রয়ণ প্রকল্প। এখানে ৪টি ব্যারাকে ৪০টি ভূমিহীন পরিবার বসবাস করে আসছে। ৭-৮টি মুক্তিযোদ্ধা পরিবারসহ ভূমিহীন প্রতিটি পরিবারের জন্য ২০০১ সালে ১০ শতক করে জমির মালিকানা দেওয়া হয়। তবে বর্তমানে দুটি ব্যারাকে থাকা ২০টি ঘর এতটাই জরাজীর্ণ যে, ঘরের খুঁটি ভেঙে পড়ছে, ছাউনির টিন ঝাঁজরা, বেড়ার টিন খুলে পড়ছে, বৃষ্টিতে ঘরের ভেতরে পানি ঢুকে পড়ে। রান্না তো দূরের কথা, হাঁটাচলাই বন্ধ হয়ে যায়। বৃষ্টি বা জোয়ার হলেই আশ্রয়ণের বাসিন্দারা পরিবার নিয়ে বসে রাত কাটান। ঘরে নেই পর্যাপ্ত স্যানিটেশন, সুপেয় পানির তীব্র অভাব। ফলে অসুস্থতা আর রোগে জর্জরিত প্রায় প্রতিটি পরিবার। সব মিলিয়ে এখন দুর্বিষহ ও ঝুঁকিপূর্ণ জীবনযাপন করছেন আশ্রয়ণের বাসিন্দারা।
আশ্রয়ণের বাসিন্দা নূরজাহান বেগম, সালেহা বেগম, শিল্পী বেগম, কুলসুম বিবিসহ একাধিক ব্যক্তি বলেন, ঝড়বৃষ্টি হলেই আতঙ্কে থাকতে হয়। জোয়ারের পানি আর ছাদের ফুটো দুই দিক থেকেই আমাদের কষ্ট করতে হয়। রাতের পর রাত জেগে কাটাতে হয়। এভাবে কি পরিবার নিয়ে বসবাস করা যায়! আমাদের একটাই দাবি, আশ্রয়ণের ২০টি ঘর সংস্কার করে বসবাসের উপযোগী করে দেওয়া হোক।
আশ্রয়ণ প্রকল্পের সভাপতি সেকেন্দার আলী খান বলেন, ২০১৬ সালে সরকারি বরাদ্দে দুটি ব্যরাকের ২০টি ঘর একবার সংস্কার করা হয়, বাকি ২০টি ঘর কখনও সংস্কার হয়নি। এসব ঘরে বাস করা মানে প্রতিনিয়ত মৃত্যুর সঙ্গে বসবাস। নেই খাবার পানির ব্যবস্থা, খাবার পানির ট্যাংকের জন্য বহু আবেদন করেও কাজ হয়নি। জেলা প্রশাসক ও সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের প্রতি দাবি, ২০টি ঘর দ্রুত সংস্কার করে দেওয়া হোক।
মোরেলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাবিবুল্লাহ বলেন, পৌর শহরের কুঠিবাড়ী আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দাদের জরাজীর্ণ ঘরগুলোর বিষয়ে খোঁজ নিয়ে জেলা প্রশাসক মহোদয়কে অবহিত করা হবে। বরাদ্দ পেলে দ্রুত সংস্কারের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।