ফেনী প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০২ জুলাই ২০২৫ ২০:০৬ পিএম
আপডেট : ০২ জুলাই ২০২৫ ২০:২২ পিএম
ফেনীর পরশুরামের পশ্চিম মির্জানগরে সড়ক নির্মাণকাজে অনিয়মের অভিযোগে কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফুর রহমান। মির্জানগরে ৫০০ মিটার দৈর্ঘ্যের সড়কে নির্মাণকাজে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তোলেন স্থানীয়রা।
মঙ্গলবার (১ জুলাই) বিকালে সরেজমিন পরিদর্শনে গিয়ে তিনি এ নির্দেশ দেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রাজীব আহম্মেদ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের আওতায় ২০২৪-২৫ অর্থবছরে হেরিং বোন বন্ড (এইচবিবি) প্রকল্পের মাধ্যমে উপজেলার পশ্চিম মির্জানগরে এছহাকের দোকান থেকে সিলোনিয়া নদীর বেড়িবাঁধ পর্যন্ত ৫০০ মিটার সড়কে ইট সলিং বসানোর কাজ পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স এলাহী এন্টারপ্রাইজ। ৮১ লাখ ২ হাজার ৭৪০ টাকা চুক্তিমূল্যের এই প্রকল্পের আওতায় মির্জানগরের দক্ষিণ কাউতলীতেও আরেকটি সড়কের কাজ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, সড়কে নিম্নমানের ভাঙা ইট ও কাদামাটি দিয়ে সলিং করা হচ্ছে, যা অল্প চাপেই ভেঙে যাচ্ছে।
পশ্চিম মির্জানগর গ্রামের বাসিন্দা সফিকুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, সলিংয়ের নামে ইটের ছোট ছোট টুকরো দেওয়া হচ্ছে। খুবই নিম্নমানের ইট ব্যবহার করা হচ্ছে। খুবই নাজুক অবস্থা, যা টেকসই তো নয়ই, বরং জনদুর্ভোগের আশঙ্কা বাড়াচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দা কালাচান বলেন, সড়কে যেখানে বালু দেওয়ার নিয়ম, সেখানে বালুর বদলে কাদামাটি ব্যবহার করা হচ্ছে। আর কোথাও বালু একেবারেই দেওয়া হয়নি।
ইউএনও আরিফুর রহমান বলেন, সড়কে নিম্নমানের কাজের অভিযোগ পেয়ে সরেজমিন গিয়ে সত্যতা পেয়ে কাজ বন্ধ করে দিয়েছি।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রাজীব আহম্মেদ বলেন, সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে শোকজ করা হবে। সন্তোষজনক জবাব না পেলে কার্যাদেশ বাতিল করে দেওয়া হবে।
ঠিকাদার কাজী এয়াকুব আলী বাবুল জানান, যেসব ইট খারাপ সেগুলো সরিয়ে ফেলা হবে। পরিমাণমতো যথাযথভাবে বালু দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে একই প্রকল্পে গত মে মাসে দক্ষিণ কাউতলী বেড়িবাঁধ-আর্মি সিরাজের বাড়ি পর্যন্ত ৫০০ মিটার সড়কের কাজ উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক সাইফুল ইসলাম। তবে সেখানেও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সড়কের পাশে মাটি না দেওয়ায় বিভিন্ন স্থানে ইট ধসে পড়েছে এবং গাইড ওয়াল নির্মিত হয়েছে প্রায় ১০ ফুট দূরে, যা সড়কের কার্যকর নিরাপত্তায় কোনো ভূমিকা রাখছে না বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।