ভূঞাপুর (টাঙ্গাইল) সংবাদদাতা
প্রকাশ : ০২ জুলাই ২০২৫ ২০:০৩ পিএম
আপডেট : ০২ জুলাই ২০২৫ ২০:২৪ পিএম
টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলায় পূর্বশত্রুতার জেরে চাচাতো ভাইয়ের হাতে চাচাতো ভাই খুন হয়েছেন। নিহতের নাম জাহাঙ্গীর মণ্ডল (৪৫)। হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন তার স্ত্রী শেফালী বেগম। এই হত্যাকাণ্ডে এলাকায় উত্তেজনা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
নিহত জাহাঙ্গীর মণ্ডল উপজেলার হেমনগর ইউনিয়নের শাখারিয়া গ্রামের মৃত নাজিম মণ্ডলের ছেলে। ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে নিহতের চাচাতো ভাই নজরুল কবিরের ছেলে সেনা সদস্য আরিফুল ইসলাম ওরফে হাসিনুর, তারা মণ্ডলের ছেলে সুজা মণ্ডল ও জামাল মণ্ডল, ফরহাদ মণ্ডল ও তার ছেলে হৃদয় ওরফে বসু মণ্ডল, বাবু ফকিরসহ আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে।
জানা গেছে, মঙ্গলবার (১ জুলাই) রাত আনুমানিক ৯টার দিকে নিহত জাহাঙ্গীর ও তার স্ত্রী শেফালী বেগম সিএনজিতে করে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে নলিন বাজার পার হয়ে শাখারিয়া স্লুইসগেট এলাকায় পৌঁছালে আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা দুর্বৃত্তরা তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা হাতুড়ি ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে জাহাঙ্গীরকে এলোপাতাড়ি মারধর করে। স্ত্রী শেফালী বাধা দিলে তাকেও নির্মমভাবে মারধর করে তারা। এরপর জাহাঙ্গীরকে মুমূর্ষু অবস্থায় ফেলে পালিয়ে যায় হামলাকারীরা।
স্থানীয়দের সহায়তায় প্রথমে তাকে ভূঞাপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় টাঙ্গাইল সদর হাসপাতালে পাঠানো হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহতের পরিবারের দাবি, এলাকাবাসীর মধ্যে পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির অধিকারী জাহাঙ্গীর দীর্ঘদিন ধরেই স্থানীয় মাদক ব্যবসায়ীদের টার্গেটে ছিলেন। এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনার সময় একাধিক মাদক কারবারি গ্রেপ্তার হয়। ফলে তারা জাহাঙ্গীরকে পুলিশের সোর্স সন্দেহ করত। এতে করে তার বিরুদ্ধে শত্রুতা বাড়তে থাকে। পরিবার বলছে, পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে।
নিহতের বড় ভাই শাহ আলম বলেন, আমার ভাইকে ঠান্ডা মাথায় খুন করা হয়েছে। তারা মনে করত, ভাই পুলিশের সোর্স। আমি এই নির্মম হত্যার বিচার চাই। দোষীদের ফাঁসি চাই।
নিহতের এক ভাতিজি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, দীর্ঘদিন ধরেই চাচাতো ভাইদের সঙ্গে জাহাঙ্গীরের পারিবারিক বিরোধ চলছিল। সেই সঙ্গে মাদকবিরোধী অবস্থানের কারণেও তিনি অনেকের চোখের কাঁটা হয়ে উঠেছিলেন।
এ ঘটনায় গোপালপুর থানার ওসি গোলাম মুক্তাদির আশরাফ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, রাতেই আমি ঘটনাস্থলে গিয়েছি। তবে ভুক্তভোগীর পরিবার এখনও অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে আমরা আইনি ব্যবস্থা নেব।