কাউখালী
নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল
প্রকাশ : ০১ জুলাই ২০২৫ ১৮:৪৩ পিএম
আপডেট : ০১ জুলাই ২০২৫ ১৯:৫৫ পিএম
পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার ইউনিয়ন বিএনপির সম্মেলনে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও শারীরিক নির্যাতনের মাধ্যমে প্রার্থী হতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির বন ও পরিবেশ বিষয়ক সহ সম্পাদক এবং পিরোজপুর জেলা বিএনপির সম্মেলন প্রস্তুত কমিটির আহ্বায়ক কাজী রওনাকুল ইসলাম টিপুর কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মো. শাফিউল আজম দুলাল।
অভিযোগে বলা হয়, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক এম এস আহসান কবির নিজ বাসায় ডেকে নিয়ে যোগ্য প্রার্থীদের প্রার্থী না হওয়ার জন্য চাপ দেন এবং তাদের মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে ভয়ভীতি দেখান। অভিযোগে আরও বলা হয়, উপজেলা সদস্য সচিব এইচ এম দ্বীন মোহাম্মদ সশরীরে উপস্থিত থেকে এসব কর্মকাণ্ডে সরাসরি ভূমিকা রেখেছেন। ৫ নম্বর শিয়ালকাঠী ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি মহসিন আকন সভাপতি পদে প্রার্থী হলে তাকেও ভয়ভীতি প্রদর্শন করে প্রার্থীতা প্রত্যাহারে বাধ্য করা হয়। পরে, মনোনীত প্রার্থীদের বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়। এমনকি বাকি চারটি ইউনিয়নের ক্ষেত্রেও একই ধরনের বাধা ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠে।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, এই প্রক্রিয়ায় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হলে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক কাঠামো ভেঙে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এজন্য শিয়ালকাঠী ইউনিয়নের ‘প্রহসনমূলক’ সম্মেলন ও গঠিত কমিটি বাতিল করে নতুন কাউন্সিল দাবি করা হয়।
অভিযোগপত্রের অনুলিপি বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক দায়িত্বপ্রাপ্ত ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল আউয়াল মিন্টু, জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আকন কুদ্দুসুর রহমান ও মাহাবুবুল হক নান্নুসহ দলের দপ্তর সম্পাদককে প্রদান করা হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রার্থী মহসিন আকন জানান, কাউখালী উপজেলার আহ্বায়ক আহসান কবির তাকে শুধু বলেছিলেন- ‘আপনি চাইলে দাঁড়াতে পারেন, এটা আপনার অধিকার।’ তবে তার সমর্থকেরা কিছুটা আতঙ্কিত ছিল বলে তিনি স্বীকার করেন।
অভিযোগকারী শাফিউল আজম দুলাল বলেন, ২০১৪ সাল থেকে বিএনপির কমিটি ভোটের মাধ্যমেই হয়ে এসেছে। কিন্তু বর্তমানে ভোট এড়িয়ে মনোনয়ন ও ভয়ভীতি দেখিয়ে কমিটি গঠন করা হচ্ছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, আহ্বায়কের সঙ্গে আওয়ামী লীগের সুসম্পর্ক রয়েছে।
অভিযোগ অস্বীকার করে আহ্বায়ক এম এস আহসান কবির বলেন, ‘আমি বরিশালে বিএনপির প্রার্থী হয়ে দুইবার উপজেলা চেয়ারম্যান হয়েছি, মানুষ আমাকে ভোট দিয়েছে। আমি সব সময় সৎভাবে চলি। শিয়ালকাঠী ইউনিয়নে ৯টি ওয়ার্ডের ৯১ শতাংশ কাউন্সিলর উপস্থিত থেকে ভোট দিয়ে কমিটি গঠন করেছে।’ তিনি এসব অভিযোগকে ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি করেন।
সদস্য সচিব এইচ এম দ্বীন মোহাম্মদও অভিযোগগুলো নাকচ করে বলেন, ‘এখন পর্যন্ত তিনটি ইউনিয়নে সম্মেলন হয়েছে, সবগুলোতেই জেলা বিএনপির নেতারা উপস্থিত ছিলেন। ৪৫টি ওয়ার্ড কমিটি হয়েছে নিয়ম মেনে। কোনো অনিয়ম হয়নি। অভিযোগ একটি কুচক্রী মহলের সাজানো গল্প।’
এ বিষয়ে পিরোজপুর জেলা সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক কাজী রওনুকুল ইসলাম টিপু বলেন, ‘সকল অভিযোগ তদন্ত করে প্রমাণ মিললে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।’