বরিশালে ডেঙ্গুর ভয়াবহ পরিস্থিতি
নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল
প্রকাশ : ২৭ জুন ২০২৫ ২২:০৯ পিএম
চলতি বছর ডেঙ্গু আক্রান্তের রেড জোনে পরিণত হয়েছে বরিশাল। রাজধানী ঢাকার চেয়ে এবার উল্টো চিত্র। বরিশাল থেকে ডেঙ্গু আক্রান্তরা উন্নত চিকিৎসার জন্য পাড়ি জমাচ্ছেন ঢাকায়। এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে তরুণ, শিশু ও কিশোর।
বরিশাল স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত ১ জানুয়ারি থেকে ২৭ জুন পর্যন্ত বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছেন মোট ৪ হাজার ৩০৫ জন। এর মধ্যে ছাড়পত্র নিয়ে গেছেন ৩ হাজার ৮৪৯ জন। এ সময়ের মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ১১ জনের, যার মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু হয়েছে ২ জনের। নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন আরও ১০৫ জন। বরিশাল বিভাগের মধ্যে বরগুনা সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত, এখানে ২ হাজার ৬৩২ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন; যা বিভাগের মোট আক্রান্তের ৬২.৬০ শতাংশ। মৃত্যুর সংখ্যাও এখানেই সবচেয়ে বেশি, ৬ জন। আক্রান্তর বাকি ৩৭.০৪ শতাংশ রোগী বিভাগের অন্য পাঁচ জেলার।
এক সার্ভে অনুযায়ী চলতি বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত বয়সভিত্তিক আক্রান্তদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত ২১ থেকে ৩০ বছর বয়সি তরুণ-তরুণীরা, মোট ৬১২ জন (২৩ শতাংশ)। এরপর দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ৩১ থেকে ৪০ বছর বয়সিরা, মোট ৫৫৭ জন, আক্রান্তর ২১ শতাংশ। এরপর ১১ থেকে ২০ বছর পর্যন্ত কিশোর-কিশোরীরা, আক্রান্ত হয়েছে ৫৫২ জন; যা মোট আক্রান্তের ২১ শতাংশ। ৪১-৬০ বছরের মধ্যে ৪৮২ জন আক্রান্ত হয়েছে; যা মোট আক্রান্তের ১৮ শতাংশ। ১ থেকে ১০ বছর পর্যন্ত ৩৪২ জন আক্রান্ত হয়েছে, মোট আক্রান্তর ১৩ শতাংশ এবং ৬০ বছরের ঊর্ধ্বে আক্রান্ত ১৩০ জন, মোট আক্রান্তের ৪ শতাংশ।
শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সাবেক পরিচালক ডা. বাকির হোসেন বলেন, বাচ্চারা দিনের বেলায় বেশিরভাগ সময় মশারি ছাড়া ঘুমায়। তরুণরা বিভিন্ন স্থানে চলাফেরা করে বেশি, ফলে তারাই বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। তরুণদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ভালো থাকায় মৃত্যুহার কম। তবে শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে জটিলতা বেশি দেখা যায়, তাই এদের প্রতি বিশেষ নজর দিতে হবে।
বরগুনা সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ আবুল ফাত্তাহ বলেন, চলতি বছরের মে মাস থেকে বরগুনায় ডেঙ্গুর ভয়াবহতা বেড়েছে। ইতোমধ্যে এটি এখন ডেঙ্গুর হটস্পট। ডেঙ্গুর জেনেটিক রূপান্তর বা ভাইরাস ভ্যারিয়েশনের সম্ভাবনা রয়েছে, যা গবেষণার বিষয়। রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে।
বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক শ্যামল কৃষ্ণ মণ্ডল বলেন, বরিশাল বিভাগের ডেঙ্গু পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। হঠাৎ করে ডেঙ্গুর প্রকোপ নিয়ে আমাদের ভাবিয়ে তুলছে। বিশেষ করে বরগুনায় স্থানীয়ভাবে আক্রান্তের সংখ্যা বেশি। শহর থেকে গ্রাম পর্যন্ত এডিস মশার বিস্তার ঘটেছে। বিষয়টি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও আইইডিসিআরের নজরে রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ডেঙ্গু আক্রান্তদের চিকিৎসার জন্য সব হাসপাতালকে আলাদা নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। চিকিৎসা ব্যবস্থা নিশ্চিত করাসহ হাসপাতালগুলোতে শয্যা, ওষুধ এবং চিকিৎসক সংক্রান্ত আলাদা নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি জনগণের সচেতনতা জরুরি।