রামগতি-কমলনগর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৭ জুন ২০২৫ ২১:১৩ পিএম
আপডেট : ২৮ জুন ২০২৫ ১২:৫৩ পিএম
লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে ছেলে সন্তান না থাকায় শেষ বয়সে পৌঁছে বিপাকে পড়েছেন বিটিসিএল সাবেক কর্মকর্তা আবুল হোসেন। তার সম্পত্তি গ্রাসে আপন ভাই-বোন ও ভাতিজারা মরিয়া হয়ে উঠেছেন। নিজ বাড়ির ফল-ফলাদি, গাছ ও পুকুরের মাছ জোর করে নিয়ে যাচ্ছে আপনজনরাই।
শুক্রবার (২৭ জুন) সকালে আবুল হোসেনের নিজের জায়গার ওপর তৈরি দোকানঘর জোর করে বেদখল করেন তার ভাই ও ভাতিজারা। এ সময় তারা সীমানা পিলার দিয়ে জালের বেড়া লাগিয়ে বেদখলে করেন। পরে পুলিশ এসে তাদেরকে দখল থেকে নিবৃত্ত করে।
রামগতির চরপোড়াগাছা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বান্দেরহাট বাজার সংলগ্ন আবুল হোসেনের জায়গা বেদখলে এ ঘটনা ঘটে। তিনি ওই এলাকার মৃত শাহ আলমের ছেলে। অভিযুক্তরা একই এলাকার আবুল কাশেম, আবুল কালাম, সিদ্দিকুল্লা, হেলাল, মনোয়ার হোসেন ও জান্নাত বেগমহ তাদের পরিবারের সদস্য। তারা ভুক্তভোগীর আপন ভাই ও বোন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভূক্তভোগী আবুল হোসেন বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন কোম্পানি লিমিটেডে (বিটিসিএল) চাকরি করতেন। ২০১৭ সালে চাকরি জীবন থেকে অবসরে যান তিনি। আবুল হোসেনেরা ১৩ ভাই ও চার বোন। চাকরি জীবনে তিনি ভাই ও বোনদেরকে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করেছেন। সংসার জীবনে আবুল হোসেনের চার কন্যা সন্তান রয়েছে। তিন মেয়ের বিয়ে দেওয়ায় এবং ছোট মেয়ে পড়ালেখার জন্য ঢাকায় থাকায় তিনি স্ত্রীসহ ওই বাড়িতে একাই থাকেন। ছেলে সন্তান না থাকায় তার সম্পত্তির উপর ভাইদের লোভ পড়ে। কন্যা সন্তানেরাও বাড়িতে না থাকার সুযোগে সম্পত্তির লোভে আবুল হোসেনের উপর শুরু হয় শারীরিক ও মানসিকসহ নানা অত্যাচার।
সরেজমিনে গিয়ে জানাা যায়, আবুল হোসেন ১৯৯২ সালে স্থানীয় ৪ জন এবং ওনার নিজ বাবা সহ মোট ৫ জন থেকে ৭৪ শতাংশ জমি ক্রয় করেন এবং ১৯৯৪ সালে এই বাড়ি করেন। ২০১৭ সালে বাড়ির দরজায় ৪ টি দোকানঘর নির্মাণ করেন।
এরপর আবুল হোসেনের কোন ছেলে সন্তান না থাকায় তিনি ২০২১ সালে তার ৪ মেয়েকে রেজিষ্ট্রেশনের মাধ্যমে ওই জমি দান করে দেন। তারপর থেকেই আবুল হোসেনের উপর তার ভাই ও ভাতিজারা অমানসিক অত্যাচার শুরু করেন। অভিযুক্ত ভাইয়েরা পরে ২০২৪ সালের ৯ অক্টোবর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। সেই অভিযোগের প্রেক্ষিতে ভূমি অফিস স্থানীয় ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তাকে (তহশিলদার) তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশনা দেন।
চর পোড়াগাছা ইউনিয়নের সহকারী ভূমি কর্মকর্তা সরেজমিনে গিয়ে তদন্ত করে উপজেলা ভূমি অফিসে আবুল হোসেনের পক্ষে প্রতিবেদন দাখিল করেন। প্রতিবেদনের পর মামলাটি শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে। এর মধ্যেই মামলাটি নিষ্পত্তি হওয়ার আগেই অভিযুক্তরা জোরপূর্বক শুক্রবার সকালে লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্র নিয়ে অভিযুক্ত আবুল কাশেম গংরা দোকানঘরে বেড়া দিয়ে তা দখল করে নেয়।
ভুক্তভোগী আবুল হোসেন বলেন, আমি স্থানীয় একাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে ৭৪ শতাংশ জমি কিনে এতে বাড়ি ও বাড়ি সামনে কয়েকটি দোকানঘর বানিয়েছি। আমার তিন মেয়ের বিয়ে হয়ে যাওয়ায় এবং ছোট মেয়ে ঢাকায় থাকায় বাড়িতে স্ত্রী আর আমি থাকি। আমার কোনো ছেলে নেই। তাই ভাই-ভাতিজারা আমার জায়গাজমি দখলের পাঁয়তারা করছে। আজ (গতকাল) সকালে আবুল কাশেম, কালাম, সিদ্দিকুল্লা, হেলাল, জান্নাতসহ তারা সংঘবদ্ধভাবে দা, ছেনি, লাঠি ও দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে প্লাস্টিকের বেড়া দিয়ে জায়গাটি দখলে নিয়ে নেয়।
অভিযুক্ত আবুল কাশেমের মোবাইলে একাধিকবার ফোন করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
রামগতি থানার ওসি কবির হোসেন জানান, জায়গা দখলের একটি অভিযোগ পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।