চট্টগ্রাম অফিস
প্রকাশ : ২৭ জুন ২০২৫ ২০:৩৮ পিএম
আপডেট : ২৭ জুন ২০২৫ ২১:২৫ পিএম
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, চট্টগ্রাম সম্প্রীতির শহর। নগরীর উন্নয়নে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে কাজ করতে হবে। এই ঐক্যই আমাদের শক্তি। পরিচ্ছন্ন নগর গঠনে রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠন, এনজিও, স্বেচ্ছাসেবক এমনকি সাধারণ নাগরিকদের এগিয়ে আসতে হবে।
শুক্রবার (২৭ জুন) বিকালে নন্দনকানন রথের পুকুরপাড় এলাকায় তুলসীধামের মোহন্ত ও ঋষিধাম অধিপতি শ্রীমৎ দেবদীপ পুরী মহারাজের পৌরহিত্যে কেন্দ্রীয় রথযাত্রা উৎসব উদযাপন কমিটির উদ্যোগে রথপরিক্রমা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
২০০ বছরের প্রাচীন নন্দনকানন রথের পুকুরপাড় তুলসীধামের কেন্দ্রীয় রথযাত্রা মানুষের মিলনমেলায় রূপ নিয়েছে মন্তব্য করে মেয়র আরও বলেন, ‘আমি চাই, রাজনৈতিক মতভেদ ভুলে সবাই চট্টগ্রামের উন্নয়নে অবদান রাখুক। কারণ চট্টগ্রাম আমাদের সবার। বর্তমান করোনা ভ্যারিয়েন্ট আগের চেয়ে অনেক বেশি সংক্রামক। এখন অবহেলার কোনো সুযোগ নেই। করোনা ও ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসম্পৃক্ততা জরুরি। চট্টগ্রামকে ক্লিন, গ্রিন, হেলদি সিটি হিসেবে গড়ে তুলতে সম্মিলিত প্রচেষ্টা দরকার।’
এতে দেবদীপ পুরী মহারাজ বলেন, ‘রথের চাকা আমাদের জীবনে ভক্তির গতি এনে দেয়। রথ যেমন সম্মিলিতভাবে টানতে হয়, তেমনই জীবনের ভার ভাগ করে নিতে হয় সবাইকে। রথযাত্রা শেখায়, জীবনের যাত্রা চলতে থাকবে বিশ্বাস আর সাহসে। জীবনের রথ টানতে গেলে ভরসা লাগে, সেই ভরসা দেন গুরু। যেভাবে রথ এগিয়ে চলে, সেভাবেই সবার জীবন এগিয়ে যাক আলোর পথে। রথে চড়ে জগন্নাথদেব আসুক সবার হৃদয়ে, দূর হোক সমস্ত অন্ধকার।’
উৎসবে আশীর্বাদক ছিলেন শীতলপুর লোকনাথ সেবাশ্রমের অধ্যক্ষ গোবিন্দ ব্রহ্মচারী। স্বাগত বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় রথযাত্রা উৎসব উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক বিধান ধর ও অর্থ সম্পাদক সুজিত হাজারী। অ্যাডভোকেট সুজন কান্তি দের সঞ্চালনায় বক্তৃতা করেন অধ্যাপক প্রণব মিত্র চৌধুরী, স্থপতি প্রণত মিত্র চৌধুরী, যোগেশ্বর চৌধুরী, উত্তম কুমার চক্রবর্তী, অভয়মিত্র মহাশ্মশান পরিচালনা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সৌরভ প্রিয় পাল, ডা. মনোজ চৌধুরী, ব্যবসায়ী কৃষ্ণ কর্মকার, রঞ্জন প্রসাদ দাশগুপ্ত, সার্জেন্ট শান্তময় দাশ, সজল চৌধুরী, চন্দ্রনাথ পাল, ডা. বিবরণ দাশ, প্রদর্শন দেবনাথ, অনুপম দেবনাথ পাভেল প্রমুখ।
এ ছাড়া বিভিন্ন মঠ-মন্দিরের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকরা বক্তব্য দেন। এ সময় অতিথিদের কেন্দ্রীয় রথযাত্রা উৎসব উদযাপন কমিটির পক্ষ থেকে সম্মাননা স্মারক দেওয়া হয়।
শ্রীশ্রী মদনমোহন নরসিংহ গোপাল জিওর মন্দির থেকে ঢোলক বাদ্য, মঙ্গল শঙ্খ ও উলুধ্বনি দিয়ে শ্রী জগন্নাথ-সুভদ্রা ও বলভদ্র দেবকে রথারোহণ করানো হয়। পরে বেলুন উড়িয়ে ও রথের রশি টেনে রথপরিক্রমা শুরু করেন তুলসীধামের মোহন্ত ও অতিথিরা। কেন্দ্রীয় রথের সঙ্গে মহাশোভাযাত্রা সহকারে হাজারী লেন শ্রীকৃষ্ণায়ন রথ, পাথরঘাটা জগন্নাথ মন্দিরের রথ, গঙ্গাবাড়ির রথ, গৌর গিরিধারী মন্দিরের রথ, সদরঘাট পার্বতী ফকিরপাড়ার রথ, মাইজপাড়ার রথ, ফিরিঙ্গীবাজার শাহাজীপাড়ার রথ, টেকপাড়ার রথ, এনায়েত বাজার কেদারনাথ তেওয়ারী কলোনির রথ, টাইগারপাস জগন্নাথ সংঘের রথ, পুরাতন কাস্টমস এলাকার রথ, ইপিজেড শ্রীকৃষ্ণ মন্দিরের রথসহ বিভিন্ন মঠ-মন্দিরের রথসমূহ পরিক্রমায় অংশ নেয়।