বাঁকখালী নদী
সাইদুজ্জামান সাঈদ, রামু (কক্সবাজার)
প্রকাশ : ২৬ জুন ২০২৫ ১৮:৩০ পিএম
আপডেট : ২৬ জুন ২০২৫ ১৮:৪০ পিএম
দীর্ঘদিন ধরে নদীভাঙনের হুমকিতে থাকা কক্সবাজারের রামু অঞ্চলে এবার বর্ষায় ভয়াবহ রূপ নিয়েছে বাঁকখালী নদী। প্রবল স্রোত ও অবৈধ বালু উত্তোলনের কারণে নদীর গতিপথ পরিবর্তিত হয়ে ভেঙে পড়ছে একের পর এক জনপদ।
ইতোমধ্যে শতাধিক পরিবার তাদের বসতভিটা হারিয়েছে, ঝুঁকির মুখে রয়েছে আরও শত শত পরিবার। তীব্র ভাঙনের মুখে রয়েছে কবরস্থান, শতবর্ষী মসজিদসহ বহু সামাজিক স্থাপনাও। প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও স্থায়ী কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় ক্ষোভে ফুঁসছেন এলাকাবাসী।
রামু উপজেলার কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের দোছড়ি মাস্টারপাড়া, পশ্চিমপাড়া এবং গর্জনিয়া ইউনিয়নের থোয়াঙ্গার কাটা, মাঝিরকাটা ও ক্যাজরবিল এলাকায় নদীভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। ভাঙনের ফলে বিলীন হয়ে গেছে কবরস্থান, শতবর্ষী মসজিদ ও বহু বাড়িঘর। হুমকির মুখে রয়েছে আরও বহু স্থাপনা।
সরেজমিন গর্জনিয়া ইউনিয়নের ক্যাজরবিল এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ভাঙনের ফলে কবরস্থান ও বেশ কয়েকটি বাড়ি বাঁকখালী নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। সড়কের পাশে একমাত্র শত বছরের পুরানো মসজিদটিও বিলীন হতে চলেছে। নদীর ঢলের আগ্রাসনে যে কোনো সময় বিলীন হয়ে যেতে পারে অগণিত ভিটাবাড়ি।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, নদী থেকে বালু উত্তোলনসহ নানা কারণে গতিপথ বদল হওয়ায় জনপদ গিলে খাচ্ছে নদীটি। নদীর আগ্রাসন রোধ করে বসতি রক্ষায় পানি উন্নয়ন বোর্ড সংশ্লিষ্টদের কোনো উদ্যোগ নেই বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া থোয়াঙ্গার কাটা, মাঝিরকাটা, ক্যাজরবিলসহ বেশ কিছু নদীর পাশের বহু বসতি এভাবে বিলীন হওয়া পথে। ওই এলাকার বসতিগুলোর বাসিন্দারা এখন প্রতিনিয়ত ভাঙনের আতঙ্কে দিন যাপন করছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা মাস্টার মো. বাদশা বলেন, আমার বাড়ি রামু উপজেলার কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের দোছড়ি মাস্টার পাড়া। নদীর স্রোত ও অবৈধ বালু উত্তোলনের কারণে নদীর গতিপথ বদলে গেছে। ফলে আমার এলাকার অধিকাংশ বসতি ভেঙে গেছে। এখন ভিটেবাড়িগুলোও নদীতে বিলীনের পথে।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. দিদারুল আলম বলেন, আমার বাড়ির উঠান নদীতে চলে গেছে। বর্তমানে বাড়ি থেকে কয়েক ফুট অদূরে নদী। এলাকাবাসী এক হয়ে কোনোরকমে ভাঙন ঠেকিয়ে রেখেছি। এই ভাঙন দ্রুত সমাধান করা না হলে এলাকাবাসী বাস্তুচ্যুত হবে।
গর্জনিয়া ইউনিয়নের সংবাদকর্মী হাফিজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, বহু বছর ধরে ভাঙন চলছে। কিন্তু কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। এবার বর্ষায় ভাঙন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে।
একই দাবি করেন কচ্ছপিয়ার সমাজসেবক তৈয়ব উল্লাহ, অসাধু ব্যক্তিরা নদী থেকে নির্বিচারে বালু তুলছে। প্রশাসনের উচিত দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
এ বিষয়ে গর্জনিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান বলেন, বাঁকখালী নদীর ভাঙন এ বছর অনেক বেশি। গর্জনিয়া ও কচ্ছপিয়া এলাকায় ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বহু মানুষ বাস্তুচ্যুত হবে।
রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাশেদুল ইসলাম বলেন, বাঁকখালীর ভাঙনের বিষয়টি পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানানো হয়েছে। তারা ইতোমধ্যে একটি দল পাঠিয়ে পরিস্থিতি পরিদর্শন করেছে। আশা করছি দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কক্সবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নুরুল ইসলাম বলেন, আমাদের একটি দল ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছে। তাদের রিপোর্টের ভিত্তিতে মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হবে। অনুমোদন মিললে জরুরি ভিত্তিতে অস্থায়ী প্রতিরোধ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।