ধামরাই
মনোয়ার হোসেন রুবেল, ধামরাই (ঢাকা)
প্রকাশ : ২৫ জুন ২০২৫ ২২:২০ পিএম
উপমহাদেশে বৃহত্তর ও দেশের ঐতিহ্যবাহী যশোমাধব দেবের রথযাত্রা ঘিরে প্রতি বছরের মতো এ বছরও ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। রথযাত্রা উৎসব উদযাপনে ইতোমধ্যে রঙ-তুলির আঁচড়ে প্রস্তত করা হচ্ছে এই ঐতিহ্যবাহী রথ।
বুধবার (২৫ জুন) সকালে ধামরাই বাজারে গিয়ে দেখা যায় রঙশিল্পীরা রথ সাজানোর কাজ করছেন। রথযাত্রা উপলক্ষে সাজসজ্জার কার্যক্রম চলছে বলে জানান আয়োজকরা।
আয়োজকরা জানান, আগামী শুক্রবার ধামরাইয়ের বাজারের রথখোলা এলাকা থেকে যাত্রাবাড়ী পর্যন্ত প্রথমে রথটান ও পরে ৫ জুলাই উল্টোরথের মাধ্যমে পূজার আনুষ্ঠানিকতা শেষ হবে। তবে রথকে কেন্দ্র করে শুক্রবার থেকে পরের এক মাস চলবে মেলা।
জানা যায়, ৪০০ বছর আগের কথা। ধামরাইয়ের জমিদার ছিলেন শ্রী যশোপাল। নিজের সৈন্য সামন্ত নিয়ে তিনি যাচ্ছিলেন পাশের এলাকায়। বন-জঙ্গলে ঘেরা পথে চলতে গিয়ে এক ঢিবির সামনে হঠাৎ থেমে যায় তার হাতি। হাতি আর এগোয় না। উপায় না পেয়ে সেই ঢিবি খননের নির্দেশ দেন রাজা। খননের পর ঢিবির নিচ থেকে পাওয়া যায় এক মন্দির ও কিছু মূর্তি। ভক্তি করে সেসব মূর্তি বাড়ি আনেন রাজা। রাতেই স্বপ্নে দেখেন মাধব দেবতাকে। তিনি রাজাকে নির্দেশ দেন পূজা করার ও নিজের সঙ্গে মাধব নাম বসিয়ে নেওয়ার। যশোপালের নাম হয়ে যায় যশোমাধব। সময়টি ছিল চন্দ্র আষাঢ়ের শুক্লপক্ষের দ্বিতীয় তিথি। সেই থেকে শুরু হয় যশোমাধবের পূজা ও রথযাত্রা। প্রতিবছরের মতো এবারও রথযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে। এজন্য চলছে রথের সাজসজ্জার কার্যক্রম।
রথের দেখভালের দায়িত্বে থাকা দায়িত্বপ্রাপ্তরা জানান, রথটি সারা বছর বাইরে খোলা আকাশের নিচে রাখা হয়। এজন্য রঙ মলিন হয়ে যায়। কিন্তু রথযাত্রার আগে এটিকে পুরোপুরি সাজিয়ে তোলা হয়। এ ছাড়া সংস্কারের কাজকর্মও এই সময়ে করা হয়। রথের খুঁটির দেয়ালের দেবতাদের প্রতিমার প্রতিকৃতি রঙ করছিলেন সঞ্জয় পাল নামে এক রঙশিল্পী। তিনি বলেন, ১১ বছর ধরে রথের সাজসজ্জা ও মেরামতের কাজ করছি। এ বছরও গত কয়েক দিন ধরে টানা রথের সংস্কার কাজ করছি।
প্রদীপ চৌধুরী নামে অপর এক রঙমিস্ত্রি বলেন, ভগবানের কৃপা ও মানুষের আশীর্বাদ পেতে এই রথে কাজ করছি। রথযাত্রার সর্বশেষ প্রস্তুতির বিষয়ে ধামরাই যশোমাধব মন্দির পরিচালনা পর্ষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নন্দ গোপাল সেন বলেন, ইতোমধ্যে থানা, উপজেলা ও পৌর মেয়রের সঙ্গে আলোচনা করেছি। তারা আশ্বস্ত করেছেন, অন্যান্য বছরের মতো এবারও নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তায় উৎসবমুখর পরিবেশে রথযাত্রা উৎসব পালিত হবে। রথযাত্রা উৎসবকে সুন্দরভাবে পালন করতে বেশ কয়েকটি উপ-কমিটি করে থাকি। সেগুলো কাজ শুরু করেছে। রথের কাঠের কাজ শেষ হয়েছে। রঙের কাজ করা হচ্ছে। বৃষ্টির জন্য কাজে কিছুটা বিঘ্ন ঘটলেও সঠিক সময়ে কাজ শেষ করে সুন্দর ও আনন্দঘনভাবে রথযাত্রা উৎসব পালন করতে পারব।
ধামরাই থানার ওসি মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম বড় উৎসব রথযাত্রাকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তার সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ধামরাই ইউএনও মামনুন আহমেদ অনীক বলেন, ‘রথযাত্রা উপলক্ষে সব নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।’