× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

আন্দোলনে অচল মাদারগঞ্জ উপজেলা পরিষদ, তালাবদ্ধ দপ্তর

জামালপুর প্রতিবেদক

প্রকাশ : ২৫ জুন ২০২৫ ২১:২৪ পিএম

আপডেট : ২৫ জুন ২০২৫ ২১:৫১ পিএম

আন্দোলনে অচল মাদারগঞ্জ উপজেলা পরিষদ, তালাবদ্ধ দপ্তর

জামালপুরের মাদারগঞ্জে সমবায় প্রতিষ্ঠানে জমা হওয়া টাকা ফেরতের দাবিতে গ্রাহকরা আন্দোলন শুরু করেছেন। মঙ্গলবার (২৪ জুন) টানা দ্বিতীয় দিনের মতো উপজেলা পরিষদ ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেন ক্ষতিগ্রস্ত আমানতকারীরা। 

একপর্যায়ে উপজেলা পরিষদের মূল ফটকে তালা লাগিয়ে দেন তারা। এতে উপজেলা ইউএনওর কার্যালয়সহ অন্তত ২১টি সরকারি দপ্তরের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। প্রশাসনিক সেবা বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়েন সেবা প্রত্যাশীরা।

‘সমবায় গ্রাহক অর্থ উদ্ধার সহায়ক কমিটির ব্যানারে আয়োজিত কর্মসূচিতে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। 

আন্দোলনকারীদের দাবি, জেলার ২৩টি সমবায় প্রতিষ্ঠানে জমা হওয়া আমানতের পরিমাণ দেড় হাজার কোটি টাকারও বেশি। দীর্ঘদিন ধরে লোভনীয় মুনাফার আশায় টাকা জমা দিলেও এখন তারা আর্থিক সংকটে ভুগছেন।

মাদারগঞ্জসহ জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা ভুক্তভোগীরা বলেন, আল-আকাবা, শতদল, স্বদেশ, নবদীপ, হলিটার্গেট ও রংধনু নামের কিছু প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে সমবায়ের নামে টাকা সংগ্রহ করে আসছিল। 

২০২২ সালের শেষের দিকে এসব প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা হঠাৎ গা-ঢাকা দেন। এরপর থেকেই বন্ধ রয়েছে সব ধরনের লেনদেন। অর্থ উদ্ধার সহায়ক কমিটির আহ্বায়ক শিবলুল বারী বলেন, প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের কাছে এক বছর ধরে আমরা ধরনা দিচ্ছি। কিন্তু কেউ পাশে দাঁড়ায়নি। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত ঘরে ফেরা হবে না।

কমিটির আরেক সদস্য মাহবুব আলম বলেন, অনেকেই এখন সন্তানদের স্কুল ফি দিতে পারছে না। চিকিৎসাও করাতে পারছে না। অথচ আমাদের টাকাগুলো রয়ে গেছে প্রতারক মালিকদের হাতে।

জেলা সমবায় কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জেলার বিভিন্ন উপজেলায় অন্তত ২৩টি সমবায় প্রতিষ্ঠানে গ্রাহকের সংখ্যা প্রায় ৩৫ হাজার। যাদের আমানতের হিসাব সরকারি হিসাবে প্রায় ৭৩০ কোটি টাকা হলেও আন্দোলনকারীরা বলছেন এ অঙ্ক এক হাজার কোটি ছাড়িয়ে গেছে।

উপজেলা পরিষদে অবস্থানকারীদের আন্দোলনে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে স্থানীয় প্রশাসন। বন্ধ হয়ে গেছে উপজেলা ইউএনওর দপ্তর, প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস, কৃষি অফিস, প্রাণিসম্পদ, সমাজসেবা, মৎস্য, ভূমি অফিসসহ গুরুত্বপূর্ণ সব সেবা।

মাদারগঞ্জ উপজেলা ইউএনও নাদির শাহ বলেন, আমরা আন্দোলনকারীদের শান্ত রাখার চেষ্টা করছি। আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছি। আশা করছি, দ্রুত সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব হবে।

জেলা সমবায় কর্মকর্তা আবদুল হান্নান বলেন, এই ধরনের প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আমাদের আইনি ক্ষমতা সীমিত। তবে আমরা তদারকির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

এদিকে প্রতারণার অভিযোগে থাকা প্রতিষ্ঠানের মালিকদের এখনও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। আল-আকাবার হুমায়ুন আহম্মেদ, শতদলের মোস্তাফিজ, স্বদেশের আনিছুর রহমান, নবদীপের ইব্রাহিম খলিলসহ বেশ কয়েকজনের মোবাইল ফোন নম্বর বন্ধ রয়েছে।

উল্লেখ্য, ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের দাবি মেনে সমবায় প্রতিষ্ঠানের মালিকদের আইনের আওতায় আনা এবং তাদের আমানতের টাকা ফেরত না দেওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা