কক্সবাজার অফিস
প্রকাশ : ২৫ জুন ২০২৫ ১৮:০১ পিএম
কক্সবাজারে ডেঙ্গু ও ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে। আক্রান্তের দিক থেকে ডেঙ্গুর প্রকোপ বেশি হলেও ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যা উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে আবার কোভিড-১৯ বা করোনা ভাইরাসের ফিরে আসা কক্সবাজার জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের ভাবনার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কক্সবাজার জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের তথ্য বলছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ২৫ জুন পর্যন্ত কক্সবাজার জেলায় ২ হাজার ৫০৮ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে স্থানীয় আক্রান্তের সংখ্যা ৩০৩ জন, আর রোহিঙ্গা আক্রান্তের সংখ্যা ২ হাজার ২০৫ জন।
চলতি জুনের ২৫ দিনে ডেঙ্গু আক্রান্ত ৮৫৬ জন শনাক্ত হয়েছেন। এর মধ্যে ১৩০ জন স্থানীয়, আর ৭২৬ জন রোহিঙ্গা। আগের মাসে মে-তে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৮৪৭ জন; যেখানে ৭৭ জন স্থানীয় এবং ৭৭০ জন রোহিঙ্গা। এপ্রিলে এ সংখ্যা ছিল ৪২৩ জন, যেখানে ২৮ জন স্থানীয় এবং ৩৯৫ জন রোহিঙ্গা। এছাড়া মার্চ মাসে ৭৭ জন, ফেব্রুয়ারি মাসে ৮৬ জন, জানুয়ারি মাসে ২১৯ জন আক্রান্ত হয়েছিলেন।
অপরদিকে এই ৬ মাসে কক্সবাজার জেলায় ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন ৪৩১ জন; যেখানে গত ২৫ দিনেই আক্রান্তের সংখ্যা ২১৬ জন। এর আগে জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত ৫ মাসে ২১৫ জন আক্রান্ত ছিলেন। গত ২৫ দিনের আক্রান্তের ২১৬ জনের মধ্যে স্থানীয় ১৪২ জন এবং রোহিঙ্গা ৭৬ জন। জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত ৫ মাসে আক্রান্ত ২১৫ জনের মধ্যে ১০৮ জন স্থানীয় এবং ১০৭ জন রোহিঙ্গা রয়েছে।
ডেঙ্গু আক্রান্তের মধ্যে কেউ মারা না গেলেও ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ মে পর্যন্ত ৫ মাসে ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন, সিভিল সার্জন কার্যালয়ের পরিসংখ্যা বিভাগের কর্মকর্তা পংকজ পাল।
তিনি জানান, ম্যালেরিয়ায় গত ২৪ ঘনণ্টায় ১১ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। জুনের ২৫ দিনে কেউ মারা গেছেন কিনা এটা মাসের শেষে জানা যাবে। এর আগে ম্যালেরিয়ায় ২০২৪ সালে ৫ জন এবং ২০২৩ সালে ১ জনের মৃত্যু হয়েছে।
এদিকে ডেঙ্গু এবং ম্যালেরিয়ার এমন প্রকোপের মধ্যে নতুন করে করোনায় হানা দেওয়ায় ভাবনা কারণ হয়েছে দাঁড়িয়ে স্বাস্থ্য বিভাগের।
পংকজ পাল জানিয়েছেন, বর্তমানে কক্সবাজারে ১৬ জন করোনায় আক্রান্ত রয়েছেন। যেখানে ৫ জন স্থানীয় এবং ১১ জন রোহিঙ্গা।
কক্সবাজার সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদুল হক জানিয়েছেন, করেনায় আক্রান্ত সকলেই নিজ বাড়িতে রয়েছেন। এর মধ্যে প্রতিটি উপজেলায় আইশোলেশন কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে।
ম্যালেরিয়া ও ডেঙ্গু রোগের প্রকোপের অন্যতম কারণ হিসেবে সচেতনার অভাব রয়েছে জানিয়ে সিভিল সার্জন বলেন, মূলত পরিচ্ছন্নতা অভাব, যেখানে সেখানে পানি জমি যাওয়া, অপরিচ্ছন্ন নর্দমার কারণে ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়েছে। আর ম্যালেরিয়া কক্সবাজারে ছিল না। এটা বান্দরবনের পাহাড়ি এলাকা থেকে এসেছে। কক্সবাজার জেলার মানুষের সাথে বান্দরবনের আশা-যাওয়া বেশি। এটার জন্যও খুবই সচেতন হওয়া জরুরি।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়ে জানিয়ে এই কর্মকর্তা বলেন, স্থানীয় ও রোহিঙ্গা ক্যাম্পে স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষে কীটনাশকযুক্ত শশরি, প্রচারণাসহ নানা কার্যক্রম চলছে।