× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ জাতীয় রাজনীতি সারা দেশ আন্তর্জাতিক অর্থনীতি খেলা বিনোদন মতামত চাকরি-ক্যারিয়ার শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

খেজুর চাষে সফল জাকির

মোকছেদুল মমিন মোয়াজ্জেম, হিলি (দিনাজপুর)

প্রকাশ : ২৫ জুন ২০২৫ ১০:২৩ এএম

আপডেট : ২৫ জুন ২০২৫ ২২:০৭ পিএম

ফুলবাড়ীর স্বজনপুকুর এলাকায় নিজ বাগানে মরুর দেশের খেজুর গাছ পরিচর্যায় ব্যস্ত জাকির

ফুলবাড়ীর স্বজনপুকুর এলাকায় নিজ বাগানে মরুর দেশের খেজুর গাছ পরিচর্যায় ব্যস্ত জাকির

বাংলাদেশের মাটি সোনার চেয়েও খাঁটি এই কথাটি আবারও প্রমাণ করে দেখালেন দিনাজপুরের ফুলবাড়ীর কুয়েতফেরত প্রবাসী জাকির হোসেন। মরু দেশের খেজুর এখন ফলছে উত্তরের মাটিতে। সৌদি আরবের মরিয়ম, আজওয়া ও মেডজুল জাতের খেজুর চাষ করে শুধু এলাকা নন, দেশের কৃষি খাতেও এনে দিয়েছেন নতুন দৃষ্টান্ত। অদম্য পরিশ্রম আর প্রবাসজীবনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে তিনি গড়ে তুলেছেন এক সফল ও লাভজনক খেজুর বাগান, যা এখন বদলে দিচ্ছে এলাকার অর্থনীতিও।

ফুলবাড়ীর স্বজনপুকুর এলাকায় জাকির হোসেনের খেজুর বাগানে গিয়ে দেখা যায়, তিন বিঘা জমির ওপর গড়ে উঠেছে সৌদি মরুভূমির একটি খেজুর বাগান। বাগানে বর্তমান প্রায় ৮০টি গাছ রয়েছে, এর মধ্যে ১৮টি গাছে পর্যাপ্ত ফল ধরেছে। এর মধ্যে সৌদি মরিয়ম, আজওয়া, খলিজি, মেডজুল, বাহির ও আম্বার জাতের গাছ রয়েছে। প্রতিটি গাছে পর্যাপ্ত সবুজ রঙের ফল ধরেছে। এসব খেজুর এক থেকে দেড় মাসের মধ্যে বাজারজাত করা হবে। সুস্বাদু এই খেজুর প্রতি কেজি ১০০০ থেকে ১২০০ টাকায় বিক্রয় হয়ে থাকে। 

বাগানের পাশে আরও ১ একর জমিতে জাকির হোসেন তৈরি করেছেন খেজুর গাছের নার্সারি। নার্সারিতে তৈরি হয়েছে প্রায় ১২ হাজার চারা। সাধারণ চারা বিক্রি করছেন তিনি ১০০০ টাকা এবং কলমি একটি চারা বিক্রি করছেন ১৫ হাজার টাকায়।

জাকির হোসেন জানান, ১৯৯৯ সালে কুয়েতে যান তিনি। দীর্ঘ ২০ বছর প্রবাসজীবনে মরুভূমির খেজুর চাষ দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে দেশে ফিরে আসেন। ২০১৭ সালে তিনি ১২ কেজি পাকা সৌদি খেজুর এনে সেই খেজুরের বীজ থেকে চারা তৈরি করেন। ২০১৮ সালে তৈরি করা ১৯টি চারা থেকেই শুরু হয় তার সফল যাত্রা। প্রথম ফল আসে ২০২২ সালে, আর ২০২৩ সালে ফলনের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়ায় গড়ে প্রতি গাছে ৮০-৯০ কেজিতে। বর্তমানে প্রতিটি গাছে ১৫০-২০০ কেজি পর্যন্ত খেজুর ধরেছে। বাগানটি দেখতে এবং চারা সংগ্রহ করতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসছে মানুষ।

এই বাগানে কাজ করছেন তিনজন স্থানীয় শ্রমিক। শ্রমিকদের একজন বলেন, জাকির ভাইয়ের খেজুর বাগানে শুরু থেকে কাজ করছি। কয়েক বছরের চেয়ে এবার অনেক খেজুর ধরেছে। আয়ও বেড়েছে। এসব খেজুর খুব সুস্বাদু এবং সুমিষ্ট। দিন হাজিরা পাই তা দিয়ে আমার সংসার ভালোভাবে চলে যায়। বাগানটি দেখতে প্রতিদিন আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন আসছেন। 

স্থানীয় কৃষক খালেক চৌধুরী বলেন, এই প্রথম আমাদের এলাকায় সৌদি খেজুরের চাষ হচ্ছে। আমি জাকির ভাইয়ের কাছ থেকে কয়েকটি চারা নিয়েছি। আশা করি আমিও সফল হব। বাগান মালিক জাকির হোসেন বলেন, কুয়েতে থাকতে সৌদি খেজুরের বাগান দেখে মনে হয়েছে এই ফল তো আমার দেশেও হতে পারে। সেই চিন্তাটাই আমাকে আজকের জায়গায় এনেছে। প্রথমে অনেকেই বিশ্বাস করতেন না, এই খেজুর বাংলাদেশের মাটিতে হবে। আমি পরিশ্রম করে প্রমাণ করেছি, বাংলাদেশের মাটিতে সবই সম্ভব। শুধু নিজের জন্য নয়, আমি চাই দেশের প্রতিটি অঞ্চলে এই খেজুর চাষ হোক। এতে যেমন কর্মসংস্থান হবে, তেমনি কৃষিতে আসবে বৈচিত্র্য। একটা সময় পরিত্যক্ত ২০ শতক জমিতে শুরু করেছিলাম, এখন বছরে ২৫-৩০ লাখ টাকা আয় করছি। যারা চান পরিশ্রম করতে, তাদের জন্য এই চাষ বড় সুযোগ। আমার চারা নেওয়া অনেকে এখন নিজের খেজুর বাগান করছেন। এটা আমার জন্য সবচেয়ে বড় আনন্দ।

ফুলবাড়ী উপজেলার অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা মো. শাহানুর রহমান বলেন, জাকির হোসেনের এই উদ্যোগ খুবই প্রশংসনীয়। আমরা নিয়মিত তার বাগান পরিদর্শন করছি এবং সব ধরনের পরামর্শ দিয়ে পাশে আছি। দিনাজপুর যেভাবে ধান ও লিচুর জন্য বিখ্যাত, তেমনি খেজুর চাষেও সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। আমরা নিয়মিত ওই খেজুরের বাগান পরিদর্শন করছি এবং মালিককে সুপরামর্শ দিয়ে আসছি।

শেয়ার করুন-

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা