নেত্রকোণা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২১ জুন ২০২৫ ২২:২৯ পিএম
নেত্রকোণার কেন্দুয়া পৌর বিএনপি সভাপতি খোকন আহম্মেদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে ৩০৪ বস্তা সরকারি চাল উদ্ধার করেছে সেনাবাহিনী। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত শুক্রবার বিকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত পৌরশহরের বাদে আঠারো বাড়ি এলাকায় বিএনপি নেতার মালিকানাধীন নাহার ট্রেডার্সে অভিযান চালায় সেনাবাহিনী। সেখান থেকে অবৈধভাবে মজুদ করা ৩০৪ বস্তা সরকারি চাল উদ্ধার করা হয়। সেনাবাহিনী অভিযানে আসার আগেই পালিয়ে যান ওই নেতা।
শনিবার (২১ জুন) দুপুরে এ তথ্য নিশ্চিত করেন মদন অস্থায়ী সেনা ক্যাম্পের কমান্ডার লেফটেন্যান্ট জামিউল ইসলাম সাকিব। অভিযুক্ত খোকন কেন্দুয়া পৌর বিএনপির সভাপতি। তিনি পৌরশহরের বাদে আঠারো বাড়ি এলাকার বাসিন্দা।
জানা গেছে, ঈদে ভিজিএফের মাধ্যমে দরিদ্রদের মাঝে বিতরণের জন্য দেওয়া বিপুল পরিমাণ সরকারি চাল নিজের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে মজুদ করে রাখেন খোকন। খবর পেয়ে শুক্রবার দুপুরে কেন্দুয়া পৌরশহরের বাদে আঠারো বাড়ি এলাকার নাহার ট্রেডার্সে অভিযান চালায় সেনাবাহিনী। এ খবর জানতে পেরে একটি হ্যান্ডট্রলি করে চাল গুদাম থেকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন ওই নেতা। এ সময় হ্যান্ডট্রলিটি স্থানীয় বঙ্গানিয়া মোড় থেকে সেনাবাহিনী আটক করে ওই প্রতিষ্ঠানের সামনে নিয়ে আসে। পরে ৩০৪ বস্তা চাল জব্দ করা হয়। যার ওজন প্রায় ১৩ হাজার ৫১৫ কেজি। জব্দ হওয়া চালের বাজারমূল্য আনুমানিক ৫ লাখ ৬৭ হাজার ৩০ টাকা বলে জানা গেছে।
অভিযানের সময় খোকন আহম্মেদকে মোবাইলে ফোন করে ডাকা হলেও তিনি উপস্থিত হননি। একপর্যায়ে মোবাইল বন্ধ করে দেন। ফলে তাকে আটক করা সম্ভব হয়নি বলে জানায় সেনাবাহিনী।
জব্দ হওয়া চালের মধ্যে খাদ্য অধিদপ্তরের পাটের বস্তা, টিসিবির বস্তা, নীল, সাদা ও হলুদ রঙের বিভিন্ন প্লাস্টিকের বস্তা ছিল। জব্দ করা চাল উপজেলা প্রশাসনের হেফাজতে রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত অভিযুক্ত বিএনপি নেতা খোকনের বিরুদ্ধে কোনো মামলা হয়নি।
স্থানীয়রা বলেন, ‘সরকারি ত্রাণের চাল মজুদ করে রাখা এবং সরিয়ে ফেলার চেষ্টা যে উদ্দেশ্যেই হোক, তা একটি গুরুতর অপরাধ। অভিযুক্ত ব্যক্তি রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় আইনি পদক্ষেপ নিতে গড়িমসি করা হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে সেনা কর্মকর্তা জামিউল ইসলাম সাকিব বলেন, ‘জব্দ হওয়া হ্যান্ডট্রলিতে ৩০৪ বস্তা সরকারি আতব চাল ছিল। সম্প্রতি ঈদ উপলক্ষে দরিদ্রদের মধ্যে বিতরণের জন্য সরকারিভাবে এসব চাল দেওয়া হয়েছিল। হ্যান্ডট্রলিতে নিচে খাদ্য অধিদপ্তরের সরকারি বস্তা, আর ওপরে কিছু সাদা বস্তায় চালগুলো রেখে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। সঙ্গে থাকা লোকজন বিভিন্ন কাগজপত্র দেখিয়ে বলেন, বিতরণের পর বেঁচে যাওয়া এসব চাল তারা প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে কিনেছেন। অনুমতি থাকলে তারা চালগুলো এভাবে লুকিয়ে নিয়ে যাবে কেন? এটাও প্রশ্ন। বেঁচে যাওয়া চাল বিক্রি করার নিয়ম আছে কি না তা জানতে হবে।
কেন্দুয়া থানার ওসি মিজানুর রহমান বলেন, ‘জব্দ হওয়া চাল উপজেলা প্রশাসনের কাছে রয়েছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অভিযোগ দিলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
উপজেলা ইউএনও ইমদাদুল হক তালুকদার বলেন, ‘আমি ছুটিতে আছি। ঘটনাটি শুনেছি। এলাকায় ফিরে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’