ফেনী
ফেনী প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২১ জুন ২০২৫ ২২:১৯ পিএম
মুহুরী নদীর বেড়িবাঁধের ভাঙা অংশ মেরামতে কাজ শুরু করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। শনিবার (২১ জুন) সকাল থেকে ফেনীর ফুলগাজী উপজেলার সদর ইউনিয়নের বণিকপাড়া গ্রাম এলাকায় ২০ মিটার ভাঙা অংশে সংস্কার কাজ শুরু করা হয়।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানায়, ভারী বর্ষণ বন্ধ থাকায় ও নদীতে পানি কমায় মুহুরী নদীর ২০ মিটার ভাঙন অংশ মেরামতে জিও ব্যাগ ও বালুর বস্তা ফেলা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত অংশে ড্রেজিংয়ের ব্যবস্থাও করা হচ্ছে। বৃষ্টি না হলে শনিবার (গতকাল) সন্ধ্যার মধ্যে ভাঙা অংশের মেরামত কাজ শেষ হবে।’
পাউবো-ফেনীর উপবিভাগীয় প্রকৌশলী আবুল কাশেম বলেন, ‘পাশের সিলোনিয়া নদীর বাঁধের যে অংশে ভেঙেছে, সেটি সংস্কারে নদীর পানি কমার জন্য অপেক্ষা করা হচ্ছে। গোসাইপুর অংশে ভাঙনকবলিত বেড়িবাঁধ মেরামতের কাজ শুরু করতে কয়েক দিন সময় লাগবে।’
ফুলগাজী ইউএনও ফাহরিয়া ইসলাম বলেন, ‘বাঁধের সংস্কার উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও তদারকি করা হচ্ছে। পাউবোকে বলা হয়েছে, ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধের অংশগুলো শনাক্ত করে দ্রুত প্রতিকারের ব্যবস্থা নেওয়া জন্য।’
পাউবো ফেনীর নির্বাহী প্রকৌশলী আকতার হোসেন মজুমদার বলেন, ‘মুহুরী, কহুয়া ও সিলোনিয়া নদীতে টেকসই বাঁধ নির্মাণে নতুন একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। প্রায় ৩৫০ কোটি টাকার বেশি বরাদ্দের সেই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে ফুলগাজী, পরশুরাম ও ছাগলনাইয়ার মানুষ প্রতি বছর বন্যায় ক্ষয়ক্ষতির হাত থেকে পরিত্রাণ পাবেন।’
গত বৃহস্পতিবার রাতে টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে ফুলগাজী উপজেলার সদর ইউনিয়নের বণিকপাড়া গ্রামের সহদেব বৈদ্যের বাড়ি সংলগ্ন মুহুরী নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বেড়িবাঁধের একটি স্থান ও সিলোনিয়া নদীর গোসাইপুর এলাকা অংশে বাঁধ ভেঙে যায়। এতে উপজেলার ৯টি গ্রাম প্লাবিত হয়। গ্রামগুলো হলোÑ উত্তর বড়ইয়া, দক্ষিণ বড়ইয়া, বিজয়পুর, বণিকপাড়া, বসন্তপুর, জগৎপুর, গোসাইপুর, করইয়া, নীলাক্ষী।
ফেনীর মুহুরী নদীর পানি গত শুক্রবার দুপুর থেকে কমতে শুরু করায় গতকাল সকাল থেকে ভাঙা অংশ দিয়ে লোকালয়ে পানি ঢোকা বন্ধ রয়েছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পানি কমতে শুরু করায় নদীর তীরবর্তী বাসিন্দাদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। তবে পানি নেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ভেসে উঠছে ক্ষতচিহ্ন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিরাপদে আশ্রয় নেওয়া বাসিন্দারা ঘরে ফিরতে শুরু করেছেন। কিন্তু ঘরে বন্যার পানিতে কাদা হওয়ায় স্বাভাবিকভাবে বসবাস শুরু করতে আরও দুই-তিন দিন লাগবে বলে জানান বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ।
বন্যায় মানুষের ঘরবাড়ি, ফসলি জমি, গ্রামীণ সড়ক নষ্ট হয়ে গেছে। ভেসে গেছে পুকুরের মাছ। ফুলগাজীর বাসিন্দা সাহাব উদ্দিন জানান, ‘মুহুরী নদীর পানি কমে গেছে। তাই ভাঙন স্থান দিয়ে লোকালয়ে আর পানি ঢুকছে না। বন্যায় বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে হতদরিদ্র, দিনমজুর ও প্রান্তিক কৃষকরা।
বন্যায় মানুষের ঘরবাড়ি, ফসলি জমি, গ্রামীণ সড়ক নষ্ট হয়েছে। চরম কষ্টের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয়রা। ফুলগাজী সদর ইউনিয়নের উত্তর বরইয়া গ্রামের হাজী নুর মিয়া ভূঞা বাড়ির মৃত আবুল কালামের স্ত্রী নাসিমা আক্তার। এক ছেলের বউ ও দুই নাতিকে নিয়ে পানিবন্দি আছেন ২ দিন। সরকার থেকে কোনো সুপেয় পানি ও খাবার পাননি বলে অভিযোগ করেন।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের গ্রেজ রিডার নেপাল সাহা বলেন, ‘মুহুরী নদীর পানি শুক্রবার দুপুর থেকে কমতে শুরু করেছে। শুক্রবার মুহুরী নদীর পানির ১০.৬৮ মিটারে প্রবাহিত হচ্ছে। গতকাল সকাল থেকে মুহুরী নদীর পানি ৯.১০ মিটারে প্রবাহিত হচ্ছে; যা বৃহস্পতিবার সারা দিন বিপদসীমার কাছাকাছি ছিল।’
ফেনী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আকতার হোসেন মজুমদার বলেন, ‘মুহুরী নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। ভাঙা অংশ দিয়ে এখন আর লোকালয়ে পানি ঢুকছে না।’