রাজবাড়ী কৃষি বিপণন অধিদপ্তর
রাজবাড়ী প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২১ জুন ২০২৫ ২০:৪০ পিএম
ছবিতে এক কৃষকের কাছ থেকে টাকা নিচ্ছেন অফিস সহায়ক এনামুল হক। সম্প্রতি তোলা
রাজবাড়ী জেলা কৃষি বিপণন অধিদপ্তর কার্যালয়ে টাকা ছাড়া মিলছে না সেবা। সম্প্রতি পেঁয়াজ সংরক্ষণ ঘরের জন্য আবেদনপত্র জমা দিতে আসা কৃষকদের কাছ থেকে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীদের দাবি স্বহস্তে আবেদন চাওয়া হলেও অফিসে আসা কৃষকদের আবেদনপত্রের সঙ্গে টাকা দিতে বাধ্য করা হচ্ছে। ঘুষ না দিলে আবেদনপত্র রাখা হয় না।
বৃহস্পতিবার (১৯ জুন) আবেদনপত্র জমার শেষ দিন ছিল। আবেদন বাতিলের ভয়ে নিরুপায় হয়ে কৃষকরা কাগজপত্রের সঙ্গে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা জমা দিতে বাধ্য হন।
কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের দেওয়া গণবিজ্ঞপ্তি সূত্রে জানা গেছে, এ বছরের ২২ মে কৃষি বিপণন অধিদপ্তর কৃষক পর্যায়ে পেঁয়াজ ও রসুন সংরক্ষণ পদ্ধতি আধুনিকায়ন এবং বিপণন কার্যক্রম উন্নয়ন প্রকল্পের (১ম সংশোধিত) আওতায় ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে কয়েকটি জেলাসহ রাজবাড়ী জেলার কালুখালী ও বালিয়াকান্দি উপজেলার ২৫ ফুট-১৫ ফুট বিশিষ্ট মডেল ঘর বাঁশ, কাঠ, টিন ও আরসিসি পিলার দ্বারা তৈরি ঘর নির্মাণ করা হবে। মডেল ঘর পেতে আগ্রহী পেঁয়াজ ও রসুন চাষিদের দরকারি কাগজপত্রসহ ২ কপি ছবি ও জমির পর্চা, স্বহস্তে লেখা আবেদন জেলা বিপণন অফিসে ১৯ জুনের মধ্যে জমা দিতে বলা হয়।
গণবিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী বালিয়াকান্দি উপজেলা ও কালুখালী উপজেলার শতাধিক মডেল ঘরের জন্য আবেদন জমা পড়ে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ আবেদন জমার সঙ্গে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা করে দিতে হয়েছে তাদের।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক কৃষক বলেন, আবেদনপত্র জমা নিতে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা দিতে হয়েছে। আমরা কৃষক। খুব একটা বুঝি না। টাকা চেয়েছে। আমরা দিয়েছি। আমরা এত কিছু জানি না।
একটি ভিডিওতে দেখা যায়Ñ একজন কৃষক তার আবেদনপত্রটি অফিস সহায়ক এনামুল হকের কাছে জমা দিচ্ছেন। এনামুল হক আবেদনপত্রটি রেজিস্টি খাতায় তথ্য লিপিবদ্ধ করছেন। এ সময় ওই কৃষক তার পাঞ্জাবির পকেট থেকে কিছু টাকা বের করে তার হাতে গুঁজে দিলেন। খাতায় তথ্য লেখা শেষ হলে হাত পেতে ওই কৃষকের কাছ থেকে টাকা নিচ্ছেন অফিস সহায়ক এনামুল হক। আরেকটি ভিডিওতে দেখা যায়, আরেক কৃষকের কাছ থেকেও টাকা নিচ্ছেন তিনি।
রাজবাড়ী কৃষি বিপণন কর্মকর্তা নাঈম আহম্মেদ সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফাউন্ডেশন ট্রেনিংয়ে আছেন জানিয়ে ফোন কেটে দেন।