রংপুর সমন্বিত শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্র
রংপুর অফিস
প্রকাশ : ২১ জুন ২০২৫ ২০:৩৭ পিএম
রংপুর সমন্বিত শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্র থেকে নিখোঁজ হওয়া চার কিশোরীর মধ্যে দুজনকে উদ্ধারের ৯ দিন পেরিয়ে গেলেও এখনও খোঁজ মেলেনি নিতু ও আশার। শিশুদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ, পুনর্বাসন কেন্দ্রের অনিয়ম এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দায় এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টায় ক্ষোভে ফুঁসছে জনসাধারণ। এ ঘটনায় অবিলম্বে নিখোঁজ দুই কিশোরীকে উদ্ধার ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছে সচেতন মহল।
শনিবার (২১ জুন) দুপুরে রংপুর প্রেস ক্লাব চত্বরে অনুষ্ঠিত মানববন্ধন ও সমাবেশে এ দাবি জানানো হয়। সমাবেশে বক্তব্য দেনÑ রংপুর প্রতিবন্ধী ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী জোবাইদুল ইসলাম, মানবাধিকার কর্মী মোকছেদ বাহলুল, মাহে আলম, সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন জেলা কমিটির কোষাধ্যক্ষ শমসে আরা বিলকিস, এবি পার্টির সাংগঠনিক সম্পাদক রেজওয়ানুল বারী রিজুসহ অন্যান্য মানবাধিকার কর্মী ও নাগরিক প্রতিনিধিরা।
বক্তারা জানান, শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্রে থাকা কিশোরীরা শারীরিক, মানসিক এবং যৌন নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। যারা তাদের রক্ষক হওয়ার কথা, তারাই বরং ভয়াবহ নির্যাতনের আয়োজন করছেন। উদ্ধার হওয়া দুই কিশোরীকে আদালতে পাঠানোর আগে সাংবাদিকদের কাছে পুনর্বাসন কেন্দ্রের ভেতরের নির্যাতনের বিবরণ তুলে ধরেছিল। তারা জানায়, জীবন বাঁচাতে তারা সেখান থেকে পালিয়ে গিয়েছিল।
সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক অনিল চন্দ্র বর্মণের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগও তোলা হয়। বক্তারা অভিযোগ করেন, তিনি তার প্রভাব খাটিয়ে সকল অপরাধ এড়িয়ে চলছেন এবং বলেছেন, ‘মিডিয়া বা কেউ তাকে সরাতে পারবে না’ তাহলে তার খুঁটির জোর কোথায়Ñ এটিই এখন প্রশ্ন। এ সময় সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক অনিল চন্দ্র বর্মণসহ দোষী কর্মকর্তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিসহ নিখোঁজ দুই কিশোরীকে উদ্ধারে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেওয়া হয়।
অভিযোগের বিষয়ে রংপুর সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক অনিল চন্দ্রকে একাধিকার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
রংপুর মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি থানার ওসি আতাউর রহমান জানান, চার নিখোঁজ কিশোরীর মধ্যে দুজনকে উদ্ধার করা হয়েছে। বাকিদের উদ্ধারে পুলিশ কাজ করছে।
উল্লেখ্য, গত ১২ জুন রাতে নিখোঁজ হয় পুনর্বাসন কেন্দ্রের চার কিশোরীÑ নিতু, স্মৃতি, কৃতী ও আশা। ১৫ জুন স্মৃতি ও কৃতীকে উদ্ধার করে পরিবারের সদস্যরা পুলিশকে অবহিত করেন। পরে তাদের পুনরায় আদালতের মাধ্যমে সেই কেন্দ্রেই পাঠানো হয়, যা নিয়ে পরিবারগুলোর মধ্যে ক্ষোভ ও আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। পরিবারগুলোর দাবি, কেন্দ্রের ভেতরে নির্যাতনের কারণে তারা মেয়েদের আর সেখানে পাঠাতে চান না।