পরিদর্শনে পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান
নারায়ণগঞ্জ প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২১ জুন ২০২৫ ১৯:৫৬ পিএম
আপডেট : ২১ জুন ২০২৫ ১৯:৫৯ পিএম
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে তীব্র গ্যাস সংকটে কবলে পড়েছে দেড় শতাধিক শিল্প-কারখানা। এতে ব্যাহত হচ্ছে উৎপাদন। বন্ধ হয়ে গেছে বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান। ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন কারখানার মালিকরা।
তিন মাস ধরে গ্যাস সংকট থাকায় চরম বিপাকে উৎপাদন প্রতিষ্ঠানগুলো। কমপ্রেসড ন্যাচারাল গ্যাস (সিএনজি) এবং ডিজেলচালিত জেনারেটরে খরচ বাড়ার কারণে বাড়ছে উৎপাদন ব্যয়। কমেছে উৎপাদন সক্ষমতা। এ পরিস্থিতিতে শনিবার (২১ জুন) সকালে আড়াইহাজার উপজেলার দুপ্তারা ইউনিয়নের খানপাড়া এলাকায় অবস্থিত লিড প্লাটিনাম সনদপ্রাপ্ত সবুজ কারখানার স্বীকৃতি পাওয়া মিথিলা টেক্সটাইলের ওভেন ডাইং কারখানা পরিদর্শনে আসেন বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজসম্পদ করপোরেশনের (পেট্রোবাংলা) চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমান ও তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিসন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশনের (ব্যবস্থাপনা পরিচালক) এমডি শাহনেওয়াজ পারভেজ। এ ছাড়াও তারা রূপগঞ্জ উপজেলার কয়েকটি শিল্প-কারখানা পরিদর্শন করেন।
এ সময় পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান রেজানুর রহমান বলেন, আমি সরেজমিন গ্যাস সরবরাহ দেখতে এসে গ্যাস সংকটের সত্যতা পেয়েছি। আমরা এই সংকট উত্তরণের জন্য কাজ করছি।
মিথিলা গ্রুপের চেয়ারম্যান আজহার খান জানান, গত বছরের অক্টোবরের পর থেকে গ্যাসের চাপ দিনের বেলায় শূন্য দশমিক ৫ থেকে ১ পিএসআই আর রাতের বেলায় দেড় থেকে ২ পিএসআই এ নেমে আসায় কারখানা রানিং রাখা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে উৎপাদনের পরিমাণ ৩০ শতাংশে নেমে এসেছে। কেবল গ্যাসের অভাবে অনেক বায়ারের অর্ডার নিতে পারছি না। যে কয়টা অর্ডার রয়েছে লোকসান হলেও বায়ারদের সঠিক সময়ে পণ্য সরবরাহের জন্য তিনগুণ বেশি ব্যয়ে কারখানায় বর্তমানে গ্যাসের বদলে তুষচালিত বয়লার ব্যবহার করা হয়।
তিনি আরও বলেন, যদি স্বাভাবিক গ্যাস সরবরাহ থাকত, তাহলে প্রতিবছরে মিথিলা গ্রুপই প্রায় একশ মিলিয়ন ডলার বৈদেশিক মুদ্রা আয় করা যেত। এ সময় কারখানার মালিকের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান।
তিতাসের এমডির কাছে গ্যাসের অস্বাভাবিক ওঠানামা বিষয়ে জানতে চাইলে তিতাসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক দুঃখ প্রকাশ করেন। এ বিষয়টি নিয়ে কাজ করে দ্রুত সমাধানের পদক্ষেপ নেবেন বলে জানান তিতাসের এমডি।
তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিসন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশনের (ব্যবস্থাপনা পরিচালক) এমডি শাহনেওয়াজ পারভেজ জানান, সারা দেশেই গ্যাসের সাপ্লাই কম। অন্যদিকে যেখান থেকে গ্যাস সাপ্লাই হচ্ছে আড়াইহাজার উপজেলা হচ্ছে সর্বশেষ প্রান্ত। ফলে অন্য মিল কারখানাগুলো গ্যাস টানার পরে আড়াইহাজার এলাকায় এসে গ্যাসের চাপ তেমন থাকে না। সরকার এ সমস্যা থেকে উত্তরণের জন্য কাজ করছে।
এ সময় পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যানের সঙ্গে ছিলেন তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিসন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশনের এমডি শাহনেওয়াজ পারভেজ, মিথিলা গ্রুপের চেয়ারম্যান আজহার খান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক সোহেল খান, পরিচালক কায়েস খান, মাহবুব খান হিমেল পেট্রোবাংলা ও তিতাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।