সাক্ষী হওয়ার জের
মধ্যাঞ্চলীয় অফিস
প্রকাশ : ২১ জুন ২০২৫ ১৯:৪৩ পিএম
আপডেট : ২১ জুন ২০২৫ ২০:০৬ পিএম
কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে গ্রামবাসীর মধ্যে তুচ্ছ ঘটনার জেরে মারামারির মামলায় সাক্ষী হওয়ায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে আহত শিক্ষার্থী মাহবুবুল আলম ছোটনের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন মৎস্যজীবী লীগের নেতা সোহেল মিয়ার বিরুদ্ধে।
শুক্রবার (২০ জুন) রাত সাড়ে ৮টার দিকে দোকান থেকে বাড়ি ফেরার পথে কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরের গোবিন্দপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ আনুহা জামে মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় এ হামলার শিকার হন তিনি। কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের সার্জারি বিভাগে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
হামলার শিকার মাহবুবুল আলম ছোটন উপজেলার আবুল কালামের ছেলে ও বেসরকারি ঈশা খাঁ ইউনিভার্সিটির আইন বিভাগের নবম সেমিস্টারের শিক্ষার্থী। তিনি পাকুন্দিয়া থনার একটি মারামারি মামলায় ১ নম্বর সাক্ষী ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৩ জুন বীল চাতল ও আনুহা গ্রামবাসীর মধ্যে তুচ্ছ ঘটনার জেরে মারামারি হয়। মারামারি মামলায় ১ নম্বর সাক্ষী ছিলেন মাহবুবুল আলম ছোটন। আর এ মামলা ৩ নম্বর আসামি হলেন অভিযুক্ত মৎস্যজীবী লীগ নেতা সোহেল মিয়া। মামলার সাক্ষী হওয়ার প্রতিশোধ নিতে শুক্রবার রাতে ওই শিক্ষার্থীর ওপর হামলা করা হয়। এ সময় তার চিৎকারে এলাকাবাসী ছুটে এলে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়। হামলার সময় সোহেল মিয়ার সঙ্গে ওই মামলার এক নম্বর আসামি কাঞ্চন মিয়া ও ১২ নম্বর আসামি দিদার মিয়াও ছিলেন। এর আগে মারামারি মামলায় ওই তিনজনসহ ১৬ জনের নাম উল্লেখ করে মঞ্জুরুল ইসলাম বাদী হয়ে হোসেনপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
এর তিন দিন পর ১৫ জুন অভিযোগ আমলে নিয়ে উপপরিদর্শক (এস আই) খালেদ শেখকে তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। অভিযুক্ত সোহেল মিয়ার ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
আহত শিক্ষার্থী মাহবুবুল আলম ছোটন বলেন, ‘বাড়ি ফেরার পথে সোহেল মিয়া ও তার লোকজন আমার ওপর হামলা করেছেন।’
হোসেনপুর থানার ওসি মারুফ হোসেনের সঙ্গে ফোনে কথা হলে তিনি জানান, ‘এ বিষয়ে এখনও কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। লিখিত অভিযোগ পেলে এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’