ফেনী সিভিল সার্জন অফিসে নিয়োগ
ফেনী প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২১ জুন ২০২৫ ১৯:৩৭ পিএম
ফেনী সিভিল সার্জন কার্যালয়ে চাকরি দেওয়ার নামে ১০ লাখ টাকা ঘুষ চাওয়ার একটি অডিও ফাঁস হওয়ার পর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পরশুরাম উপজেলা সমন্বয়ক নাহিদ রাব্বি ও আব্দুল কাদের নামে দুজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৯ জুন) রাতে পরশুরাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. ইফতেখার হাসান ভূঁইয়া বাদী হয়ে পরশুরাম থানায় এই মামলা করেন। মামলার প্রধান সাক্ষী করা হয়েছে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. এমদাদুল হককে।
পরশুরাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নুরুল হাকিম মামলাটি রেকর্ডের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন এবং বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হবে বলে জানান।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ডা. ইফতেখার হাসান ভূঁইয়া সামাজিক মাধ্যমে একটি অডিও রেকর্ড দেখতে পান, যেখানে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের স্থানীয় সমন্বয়ক নাহিদ রাব্বি ফেনী সিভিল সার্জন কার্যালয়ের ‘অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক’ পদে চাকরি দেওয়ার বিনিময়ে ১০ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করছেন। ২ মিনিট ২১ সেকেন্ডের কথোপকথনের এই অডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
মামলার প্রধান আসামি নাহিদ রাব্বি (২৮) ফেনীর পরশুরাম পৌর এলাকার কোলাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। অন্য আসামি আব্দুল কাদের (৩০) অনন্তপুর গ্রামের বাসিন্দা।
এ ঘটনার ফলে ফেনী সিভিল সার্জন কার্যালয়ের চলমান নিয়োগ প্রক্রিয়া প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে। গত শুক্রবার ফেনী সিভিল সার্জন কার্যালয়ে ১১৫টি পদে নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে আবেদন জমা পড়ে ১২ হাজার। অর্থাৎ প্রতিটি পদের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন গড়ে ১০৮ জন।
সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অডিওটি ইতোমধ্যে সাধারণ মানুষের মাঝে ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়রা জানান, ঘুষের মাধ্যমে চাকরি হলে মেধাবী প্রার্থীরা বঞ্চিত হবেন, যা প্রশাসনিক সুশাসনের জন্য বড় হুমকি।