মুলাদী
নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল
প্রকাশ : ২১ জুন ২০২৫ ১৮:৪২ পিএম
বরিশালের মুলাদী উপজেলার সফিপুর ইউনিয়ন মানচিত্র থেকে যেন আস্তে আস্তে মুছে যেতে বসেছে। রাক্ষুসী জয়ন্তী নদীর অব্যাহত ভাঙনে বিলীন হয়ে যাচ্ছে ফসলি জমি, বসতবাড়ি, ধর্মীয় উপাসনালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। গত কয়েক দিনে নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ভাঙন পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। ইতোমধ্যে নদীগর্ভে তলিয়ে গেছে কয়েক একর জমি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ছয়টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, দুটি হাট-বাজার, মসজিদ, মন্দির এবং অসংখ্য ফসলি জমি এখন চরম হুমকির মুখে রয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে নদীতীর সংরক্ষণে বাঁধ নির্মাণ না হলে চলতি বর্ষা মৌসুমেই ভাঙনে ভেসে যেতে পারে শত শত বসতভিটা ও স্থাপনা। ফলে এলাকা দারিদ্র্যকবলিত হয়ে পড়বে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তারা।
নদীভাঙন রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবিতে গত কয়েক দিন ধরে জয়ন্তী নদীর পাড়ে মানববন্ধনসহ নানা কর্মসূচি পালন করছেন শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও স্থানীয় জনসাধারণ। একই সঙ্গে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর স্মারকলিপিও প্রদান করেছেন তারা।
দ্রুত নদী তীরে বাঁধ নির্মাণের দাবিতে সর্বস্তরের জনগণের ব্যানারে গত ১৭ জুন বিকালে মানববন্ধন করেন স্থানীয়রা। মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, এই ভাঙন থেকে সফিপুর ইউনিয়নের পাঁচটি গ্রামের কয়েকশ পরিবার ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোকে রক্ষা করতে না পারলে ভবিষ্যতে ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে আসবে। এখনই জরুরি ভিত্তিতে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের পদক্ষেপ না নিলে এই ইউনিয়নের হাজার হাজার মানুষ আশ্রয়হীন হয়ে পড়বে এবং শিক্ষা ও কৃষি খাতে ভয়াবহ ক্ষতি হবে। তাদের দাবি, নদীভাঙন রোধে জরুরি ভিত্তিতে দ্রুত উদ্যোগ গ্রহণ করে মানবিক বিপর্যয় রোধে এগিয়ে আসুক প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়।
হাজী সৈয়দ বদরুল হোসেন ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ আ স ম শাহাদাত হোসেনের সভাপতিত্বে আয়োজিত সভায় বক্তব্য রাখেন সফিপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মেহেদী হাসান, মুলাদী উপজেলা বিএনপির সদস্য মজনু মুন্সী, ডা. নাসির উদ্দীন, ইউনিয়ন বিএনপির নেতা বাবুল হাওলাদার, পাঠাগার সভাপতি জাকির হোসেন, বিএনপি নেতা নুরুল ইসলাম হাওলাদার, ইউপি সদস্য আলী আহম্মেদ সোহাগ খান, ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক মনোয়ার হোসেন নিপু চৌধুরী, যুগ্ম আহ্বায়ক এসএম কলিমুল্লাহ, কামাল হোসেন বেপারী, হিরন হাওলাদার, আবু সায়েম শিকদার, মাওলানা সাইফুল ইসলাম প্রমুখ।